উদ্ভিদ সাধারণত নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে। তাই সবুজ উদ্ভিদকে স্বভোজী (Autotroph) বলা হয়। তবে সব উদ্ভিদ সম্পূর্ণভাবে নিজের খাদ্যের জন্য সালোকসংশ্লেষের ওপর নির্ভরশীল নয়। কিছু উদ্ভিদ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে অন্য জীবের ওপর খাদ্যের জন্য নির্ভর করে। এদের পরভোজী (Heterotroph) বলা হয়।
উদ্ভিদের পুষ্টি কী?
উদ্ভিদের বৃদ্ধি, শক্তি উৎপাদন, কোষের গঠন ও বিভিন্ন জীবনক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পুষ্টি গ্রহণ বা উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে উদ্ভিদের পুষ্টি (Plant Nutrition) বলে।
উদ্ভিদের পুষ্টি প্রধানত দুই ধরনের—
- স্বভোজী পুষ্টি (Autotrophic Nutrition)
- পরভোজী পুষ্টি (Heterotrophic Nutrition)
১. উদ্ভিদের স্বভোজী পুষ্টি (Autotrophic Nutrition)
যে পুষ্টি পদ্ধতিতে উদ্ভিদ অজৈব পদার্থ, যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) ও জল (H₂O) ব্যবহার করে নিজের খাদ্য তৈরি করে, তাকে স্বভোজী পুষ্টি বলে।
Auto = নিজে
Troph = পুষ্টি
অর্থাৎ, নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে যে পুষ্টি লাভ করা হয়, সেটিই স্বভোজী পুষ্টি।
উদাহরণ
- সবুজ উদ্ভিদ
- সবুজ শৈবাল
- কিছু ব্যাকটেরিয়া
সবুজ উদ্ভিদ সাধারণত সালোকসংশ্লেষ (Photosynthesis) প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে।
সালোকসংশ্লেষ কী?
যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং জল থেকে জৈব খাদ্য তৈরি করে এবং সাধারণত অক্সিজেন নির্গত করে, তাকে সালোকসংশ্লেষ বলে।
সালোকসংশ্লেষের সরল সমীকরণ
6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া ঘটে।
এখানে—
- CO₂ = কার্বন ডাই-অক্সাইড
- H₂O = জল
- C₆H₁₂O₆ = গ্লুকোজ
- O₂ = অক্সিজেন
২. উদ্ভিদের পরভোজী পুষ্টি (Heterotrophic Nutrition)
সব উদ্ভিদ সমানভাবে নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না। কিছু উদ্ভিদ খাদ্যের জন্য অন্য উদ্ভিদ বা প্রাণীর ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভর করে।
এই ধরনের পুষ্টি পদ্ধতিকে পরভোজী পুষ্টি (Heterotrophic Nutrition) বলে।
Hetero = অন্য
অর্থাৎ, অন্য উৎস থেকে খাদ্য গ্রহণ করে যে পুষ্টি লাভ করা হয় তাকে পরভোজী পুষ্টি বলা হয়।
উদ্ভিদের পরভোজী পুষ্টির প্রয়োজন হয় কেন?
কিছু উদ্ভিদের—
- পর্যাপ্ত ক্লোরোফিল থাকে না,
- সালোকসংশ্লেষ করার ক্ষমতা সীমিত,
- অথবা নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকে।
তাই তারা অন্য উৎস থেকে খাদ্য বা প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করে।
উদ্ভিদের পরভোজী পুষ্টির প্রধান ধরন
উদ্ভিদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরভোজী পুষ্টির ধরনগুলি হল—
- পরজীবী পুষ্টি (Parasitic Nutrition)
- মৃতজীবী পুষ্টি (Saprophytic Nutrition)
- কীটভুক/পতঙ্গভুক পুষ্টি (Insectivorous Nutrition)
- মিথোজীবী পুষ্টি (Symbiotic Nutrition)
১. পরজীবী উদ্ভিদ (Parasitic Plants)
যে উদ্ভিদ অন্য একটি জীবন্ত উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে খাদ্য বা পুষ্টি গ্রহণ করে, তাকে পরজীবী উদ্ভিদ বলে।
যে উদ্ভিদ থেকে পরজীবী উদ্ভিদ পুষ্টি গ্রহণ করে তাকে পোষক উদ্ভিদ (Host plant) বলে।
গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ
| পরজীবী উদ্ভিদ | সাধারণ নাম | বিশেষ বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| Cuscuta | স্বর্ণলতা / আকাশবেল | সম্পূর্ণ পরজীবী; Haustoria-র সাহায্যে পোষক থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে |
| Viscum | Mistletoe | আংশিক পরজীবী; নিজে সালোকসংশ্লেষ করতে পারে, কিন্তু জল ও খনিজের জন্য পোষকের ওপর নির্ভর করে |
| Orobanche | Broomrape | মূল-পরজীবী উদ্ভিদ; পোষক উদ্ভিদের মূল থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে |
| Striga | Witchweed | মূল-পরজীবী; বিভিন্ন কৃষিজ ফসলের ক্ষতি করতে পারে |
| Rafflesia | Rafflesia | সম্পূর্ণ পরজীবী; পোষক লতার টিস্যুর সঙ্গে যুক্ত থাকে |
পরীক্ষার জন্য বিশেষভাবে মনে রাখুন
Cuscuta → সম্পূর্ণ পরজীবী উদ্ভিদ → Haustoria
Viscum → আংশিক পরজীবী উদ্ভিদ
Orobanche → মূল পরজীবী
Striga → কৃষিজ ফসলের পরজীবী
Rafflesia → সম্পূর্ণ পরজীবী
প্রধান উদাহরণ: Cuscuta
Cuscuta বা স্বর্ণলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরজীবী উদ্ভিদ।
এটির দেহে স্বাভাবিকভাবে পর্যাপ্ত ক্লোরোফিল থাকে না। তাই এটি খাদ্যের জন্য অন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে।
Cuscuta-এর বিশেষ শোষক অঙ্গকে Haustoria বলে।
Haustoria পোষক উদ্ভিদের টিস্যুর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে পুষ্টি সংগ্রহ করতে সাহায্য করে।
পরীক্ষায় মনে রাখুন
Cuscuta → Parasitic plant
Haustoria → শোষক অঙ্গ
Host → পোষক উদ্ভিদ
পরজীবী উদ্ভিদের দুই ধরনের ধারণা
পরজীবী উদ্ভিদকে পুষ্টির ধরন অনুযায়ী সম্পূর্ণ ও আংশিক পরজীবী হিসেবে আলোচনা করা যায়।
সম্পূর্ণ পরজীবী (Total Parasite)
যে উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য প্রায় সম্পূর্ণভাবে পোষকের ওপর নির্ভরশীল।
উদাহরণ: Cuscuta
আংশিক পরজীবী (Partial Parasite)
যে উদ্ভিদ নিজে কিছু খাদ্য তৈরি করতে পারে, কিন্তু জল ও খনিজের মতো কিছু উপাদানের জন্য পোষকের ওপর নির্ভর করে।
উদাহরণ: Viscum (Mistletoe)
২. কীটভুক উদ্ভিদ (Insectivorous Plants)
কিছু উদ্ভিদ পোকামাকড় ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী ধরে এবং তাদের দেহ থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি, বিশেষ করে নাইট্রোজেন, সংগ্রহ করে। এদের কীটভুক বা পতঙ্গভুক উদ্ভিদ (Insectivorous Plants) বলে।
গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ
- পিচার প্ল্যান্ট (Pitcher plant)- কলশপত্রী উদ্ভিদ
- Venus flytrap
- Sundew- সূর্যশিশির
- Bladderwort- পাতাঝাঁঝি
পিচার প্ল্যান্ট (Pitcher Plant)
পিচার প্ল্যান্টের পাতা পরিবর্তিত হয়ে কলসির মতো গঠন তৈরি করে।
পোকামাকড় এই কলসির ভিতরে প্রবেশ করলে সহজে বের হতে পারে না। পরে উদ্ভিদ পোকাটিকে হজম করে তার দেহ থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
কীটভুক উদ্ভিদ সাধারণত সালোকসংশ্লেষ করতে পারে।
অর্থাৎ এরা সম্পূর্ণ পরভোজী নয়।
তারা পোকামাকড় থেকে মূলত নাইট্রোজেন ও অন্যান্য খনিজ পুষ্টি সংগ্রহ করে।
কীটভুক উদ্ভিদ কেন পোকামাকড় খায়?
কীটভুক উদ্ভিদ সাধারণত এমন মাটিতে জন্মায় যেখানে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কম।
তাই তারা পোকামাকড়ের দেহ থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে।
পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ
Insectivorous plants → Nitrogen-এর ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে
৩. মৃতজীবী পুষ্টি (Saprophytic Nutrition)
যে পুষ্টি পদ্ধতিতে উদ্ভিদ বা জীব মৃত ও পচনশীল জৈব পদার্থ থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে তাকে মৃতজীবী পুষ্টি বলা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ
| উদ্ভিদ | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| Monotropa uniflora | সাধারণত Indian Pipe নামে পরিচিত; ক্লোরোফিলবিহীন এবং ছত্রাকের মাধ্যমে পুষ্টি লাভ করে |
| Neottia nidus-avis | একটি ক্লোরোফিলবিহীন অর্কিড; ছত্রাকের মাধ্যমে পুষ্টি লাভ করে |
| Corallorhiza | North America-র কিছু অর্কিড; ছত্রাকের ওপর নির্ভরশীল |
| Epipogium | ক্লোরোফিলবিহীন অর্কিড; সম্পূর্ণভাবে ছত্রাকের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল |
| Voyria | Gentianaceae পরিবারের ক্লোরোফিলবিহীন উদ্ভিদ; ছত্রাকের মাধ্যমে পুষ্টি লাভ করে |
তবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে—
প্রকৃত মৃতজীবী উদ্ভিদের উদাহরণ খুব সীমিত এবং উদ্ভিদবিজ্ঞানে বর্তমানে অনেক তথাকথিত "saprophytic plants"-কে আসলে mycoheterotrophic বলা হয়।
Mycoheterotrophic উদ্ভিদ
এই উদ্ভিদগুলি ছত্রাকের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে খাদ্য বা কার্বন সংগ্রহ করে।
উদাহরণ: Monotropa-এর মতো কিছু উদ্ভিদ।
৪. মিথোজীবী পুষ্টি (Symbiotic Nutrition)
দুই ভিন্ন জীব যখন পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে বসবাস করে এবং উভয়েই উপকৃত হয়, তখন তাকে মিথোজীবিতা (Symbiosis) বলে।
উদ্ভিদের ক্ষেত্রে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হল Legume ও Rhizobium-এর সম্পর্ক।
Rhizobium ও Leguminous Plants
মটর, ছোলা, মুসুর, সয়াবিন ইত্যাদি ডালজাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে বিশেষ গুটি বা Root nodule দেখা যায়।
এই গুটিতে Rhizobium ব্যাকটেরিয়া থাকে।
Rhizobium বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেনকে উদ্ভিদের ব্যবহারযোগ্য যৌগে রূপান্তর করতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে উদ্ভিদ Rhizobium-কে খাদ্য ও আশ্রয় প্রদান করে।
তাই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ Symbiotic relationship।
পরীক্ষায় মনে রাখুন
Rhizobium → Root nodules of leguminous plants
মূলের গুটি → Root nodule
প্রধান কাজ → Nitrogen fixation
স্বভোজী ও পরভোজী উদ্ভিদের পার্থক্য
| বিষয় | স্বভোজী উদ্ভিদ | পরভোজী উদ্ভিদ |
|---|---|---|
| খাদ্য তৈরি | নিজের খাদ্য তৈরি করে | খাদ্যের জন্য অন্য উৎসের ওপর নির্ভর করে |
| সালোকসংশ্লেষ | সাধারণত করে | প্রকারভেদ অনুযায়ী করতে পারে বা নাও পারে |
| ক্লোরোফিল | সাধারণত থাকে | অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত বা সীমিত |
| খাদ্যের উৎস | CO₂ ও জল থেকে খাদ্য তৈরি | অন্য জীব/জৈব উৎস থেকে খাদ্য বা পুষ্টি |
| উদাহরণ | ধান, গম, আম, ঘাস | Cuscuta, Venus flytrap |
| খাদ্যশৃঙ্খলে ভূমিকা | উৎপাদক | পুষ্টির ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন ভূমিকা |
গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ ও তাদের পুষ্টির ধরন
| উদ্ভিদ | পুষ্টির ধরন | গুরুত্বপূর্ণ তথ্য |
|---|---|---|
| আমগাছ | স্বভোজী | সালোকসংশ্লেষ করে |
| ধান | স্বভোজী | সবুজ উদ্ভিদ |
| ঘাস | স্বভোজী | উৎপাদক |
| Cuscuta | পরজীবী | Haustoria থাকে |
| Pitcher plant | কীটভুক | পোকা থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে |
| Venus flytrap | কীটভুক | পতঙ্গ ধরে |
| Sundew | কীটভুক | পতঙ্গ ধরে |
| Mistletoe | আংশিক পরজীবী | পোষকের ওপর আংশিক নির্ভরশীল |
| Monotropa | Mycoheterotrophic | ছত্রাকের মাধ্যমে পুষ্টি লাভ |
| Leguminous plants | মিথোজীবী সম্পর্ক | Rhizobium-এর সঙ্গে সম্পর্ক |
উদ্ভিদের পুষ্টি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা
উদ্ভিদ কি মাটি থেকে খাদ্য পায়?
না। উদ্ভিদ মাটি থেকে সরাসরি তৈরি খাদ্য গ্রহণ করে না।
শিকড় মাটি থেকে মূলত—
- জল
- খনিজ লবণ
শোষণ করে।
উদ্ভিদ নিজের জৈব খাদ্য প্রধানত সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে তৈরি করে।
উদ্ভিদের খাদ্য কোথায় তৈরি হয়?
সবুজ উদ্ভিদের প্রধান খাদ্য তৈরির স্থান হল পাতা।
পাতার কোষে থাকা ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষ ঘটে।
উদ্ভিদ খাদ্য হিসেবে কী তৈরি করে?
সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে প্রথমে গ্লুকোজ তৈরি হয়।
পরবর্তীতে এই গ্লুকোজ থেকে উদ্ভিদ—
- স্টার্চ
- সেলুলোজ
- অন্যান্য জৈব যৌগ
তৈরি করতে পারে।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
১. সবুজ উদ্ভিদ সাধারণত স্বভোজী (Autotroph)।
২. স্বভোজী পুষ্টির প্রধান প্রক্রিয়া হল Photosynthesis।
৩. সালোকসংশ্লেষের প্রধান স্থান হল Chloroplast।
৪. ক্লোরোফিল আলোকশক্তি শোষণ করতে সাহায্য করে।
৫. CO₂ পাতায় প্রধানত Stomata-র মাধ্যমে প্রবেশ করে।
৬. জল শিকড়ের মাধ্যমে শোষিত হয় এবং Xylem-এর মাধ্যমে উপরে ওঠে।
৭. Cuscuta একটি পরজীবী উদ্ভিদ।
৮. Cuscuta-এর শোষক অঙ্গ হল Haustoria।
৯. Pitcher plant একটি Insectivorous plant।
১০. কীটভুক উদ্ভিদ সাধারণত নাইট্রোজেন-স্বল্প পরিবেশে বিশেষ সুবিধা পায়।
১১. কীটভুক উদ্ভিদ সাধারণত সম্পূর্ণ পরভোজী নয়; তারা সালোকসংশ্লেষ করতে পারে।
১২. Rhizobium ডালজাতীয় উদ্ভিদের মূলের গুটিতে বসবাস করে।
১৩. Rhizobium Nitrogen fixation-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১৪. Leguminous plants ও Rhizobium-এর সম্পর্ক মিথোজীবী।
১৫. উদ্ভিদ খাদ্যশৃঙ্খলের প্রথম ট্রফিক স্তরে উৎপাদক হিসেবে কাজ করে।
সহজে মনে রাখার কৌশল
উদ্ভিদের পুষ্টি মনে রাখুন—
স্বভোজী
নিজে খাদ্য তৈরি → Photosynthesis → Green plants
পরভোজী
অন্য উৎসের ওপর নির্ভর →
Cuscuta → Parasitic
Pitcher plant → Insectivorous
Monotropa → Mycoheterotrophic
Legume + Rhizobium → Symbiotic
পরীক্ষায় সম্ভাব্য প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: সবুজ উদ্ভিদকে স্বভোজী বলা হয় কেন?
উত্তর: কারণ তারা সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে।
প্রশ্ন ২: Cuscuta কী?
উত্তর: পরজীবী উদ্ভিদ।
প্রশ্ন ৩: Cuscuta-এর শোষক অঙ্গের নাম কী?
উত্তর: Haustoria।
প্রশ্ন ৪: পিচার প্ল্যান্ট কেন পোকামাকড় ধরে?
উত্তর: প্রধানত নাইট্রোজেনের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহের জন্য।
প্রশ্ন ৫: Rhizobium কোথায় থাকে?
উত্তর: ডালজাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ের Root nodule-এ।
প্রশ্ন ৬: Rhizobium-এর প্রধান কাজ কী?
উত্তর: নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ (Nitrogen fixation)।
প্রশ্ন ৭: উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির প্রধান অঙ্গ কোনটি?
উত্তর: পাতা।
প্রশ্ন ৮: সালোকসংশ্লেষে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: কার্বন ডাই-অক্সাইড।
প্রশ্ন ৯: সালোকসংশ্লেষে সাধারণত কোন গ্যাস নির্গত হয়?
উত্তর: অক্সিজেন।
প্রশ্ন ১০: কীটভুক উদ্ভিদ কি সম্পূর্ণ পরভোজী?
উত্তর: না। অধিকাংশ কীটভুক উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ করতে পারে; তারা পোকামাকড় থেকে অতিরিক্ত খনিজ পুষ্টি, বিশেষত নাইট্রোজেন, সংগ্রহ করে।
এক নজরে পুরো বিষয়
উদ্ভিদের পুষ্টি
→ স্বভোজী পুষ্টি
→ নিজের খাদ্য নিজে তৈরি
→ Photosynthesis
→ CO₂ + H₂O + Light + Chlorophyll
অথবা
→ পরভোজী পুষ্টি
→ অন্য উৎসের ওপর নির্ভর
→ Parasitic / Insectivorous / Mycoheterotrophic / Symbiotic
গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ
Cuscuta → Parasitic
Pitcher plant → Insectivorous
Venus flytrap → Insectivorous
Monotropa → Mycoheterotrophic
Legume + Rhizobium → Symbiotic
উপসংহার
উদ্ভিদের পুষ্টি মূলত দুই ধরনের—স্বভোজী পুষ্টি এবং পরভোজী পুষ্টি। অধিকাংশ সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে নিজের খাদ্য তৈরি করে বলে তারা স্বভোজী। অন্যদিকে Cuscuta-এর মতো কিছু উদ্ভিদ অন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে, আবার Pitcher plant-এর মতো কীটভুক উদ্ভিদ পোকামাকড় থেকে অতিরিক্ত খনিজ পুষ্টি সংগ্রহ করে।
বিশেষভাবে মনে রাখুন:
Green plant → Autotrophic
Photosynthesis → Food production
Cuscuta → Parasitic
Haustoria → Absorbing organ
Pitcher plant → Insectivorous
Insectivorous plant → Nitrogen-rich food source
Rhizobium → Nitrogen fixation
Root nodule → Leguminous plants
