জীবদেহের বৃদ্ধি, শক্তি উৎপাদন, কোষের মেরামত এবং বিভিন্ন জীবনক্রিয়া পরিচালনার জন্য খাদ্য ও পুষ্টির প্রয়োজন হয়। জীব কীভাবে খাদ্য গ্রহণ করে বা খাদ্য তৈরি করে, তার ভিত্তিতে পুষ্টিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়—
- স্বভোজী পুষ্টি (Autotrophic Nutrition)
- পরভোজী পুষ্টি (Heterotrophic Nutrition)
জীববিজ্ঞান ও সাধারণ বিজ্ঞান অংশে UPSC, SSC CGL, SSC CHSL, Railway, State PSC, WBCS সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে।
স্বভোজী পুষ্টি কী? (What is Autotrophic Nutrition?)
যে পুষ্টি পদ্ধতিতে জীব অজৈব পদার্থ, যেমন—কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) ও জল (H₂O) ব্যবহার করে নিজের প্রয়োজনীয় জৈব খাদ্য তৈরি করতে পারে, তাকে স্বভোজী পুষ্টি (Autotrophic Nutrition) বলে।
‘Auto’ শব্দের অর্থ নিজে এবং ‘Trophic’ শব্দের অর্থ পুষ্টি। অর্থাৎ, স্বভোজী জীব নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে।
উদাহরণ
- সবুজ উদ্ভিদ
- শৈবাল
- কিছু ব্যাকটেরিয়া
সবুজ উদ্ভিদ সাধারণত সূর্যালোকের উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষ (Photosynthesis) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে।
সালোকসংশ্লেষের সরল সমীকরণ
6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং জল থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয় এবং অক্সিজেন নির্গত হয়।
স্বভোজী পুষ্টির প্রধান বৈশিষ্ট্য
- জীব নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে।
- খাদ্য তৈরির জন্য প্রধানত CO₂ ও জল ব্যবহার করা হয়।
- সবুজ উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ক্লোরোফিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সালোকসংশ্লেষের জন্য সাধারণত সূর্যালোকের প্রয়োজন হয়।
- সালোকসংশ্লেষের সময় অক্সিজেন নির্গত হতে পারে।
- উদ্ভিদ খাদ্য হিসেবে উৎপন্ন গ্লুকোজকে পরে স্টার্চসহ অন্যান্য জৈব পদার্থে রূপান্তর ও সঞ্চয় করতে পারে।
স্বভোজী পুষ্টির প্রকারভেদ
স্বভোজী পুষ্টিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়—
১. আলোক-স্বভোজী পুষ্টি (Photoautotrophic Nutrition)
যে স্বভোজী জীব আলোকশক্তি ব্যবহার করে অজৈব পদার্থ থেকে জৈব খাদ্য তৈরি করে, তাকে আলোক-স্বভোজী বলে।
উদাহরণ:
সবুজ উদ্ভিদ, অধিকাংশ শৈবাল এবং কিছু ব্যাকটেরিয়া।
এখানে সালোকসংশ্লেষ প্রধান প্রক্রিয়া।
২. রাসায়নিক-স্বভোজী পুষ্টি (Chemoautotrophic Nutrition)
কিছু জীব সূর্যালোকের পরিবর্তে অজৈব পদার্থের জারণ থেকে পাওয়া রাসায়নিক শক্তি ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে। এদের রাসায়নিক-স্বভোজী জীব বলা হয়।
উদাহরণ:
Nitrosomonas, Nitrobacter প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া।
পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন: Chemoautotrophic nutrition-এ আলোকশক্তির পরিবর্তে রাসায়নিক শক্তি ব্যবহৃত হয়।
পরভোজী পুষ্টি (Heterotrophic Nutrition)
১. পরভোজী পুষ্টি কী?
যে পুষ্টি পদ্ধতিতে কোনো জীব নিজে অজৈব পদার্থ থেকে খাদ্য তৈরি করতে পারে না এবং খাদ্য বা জৈব পদার্থের জন্য অন্য জীব বা অন্য কোনো উৎসের ওপর নির্ভর করে, তাকে পরভোজী পুষ্টি (Heterotrophic Nutrition) বলে।
Heterotrophic শব্দটি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দ থেকে—
- Hetero = অন্য
- Troph = পুষ্টি/খাদ্য
অর্থাৎ, অন্যের ওপর নির্ভর করে পুষ্টি গ্রহণ করাই পরভোজী পুষ্টি।
উদাহরণ
- মানুষ
- গরু
- বাঘ
- কুকুর
- অ্যামিবা
- ছত্রাক
- অনেক ব্যাকটেরিয়া
- Cuscuta বা স্বর্ণলতা
২. পরভোজী জীব কী?
যে জীব নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না এবং খাদ্যের জন্য অন্য জীব বা জৈব পদার্থের ওপর নির্ভর করে, তাকে পরভোজী জীব (Heterotroph) বলে।
উদাহরণ
মানুষ সবুজ উদ্ভিদের মতো সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না। তাই মানুষ একটি পরভোজী জীব।
৩. পরভোজী পুষ্টির প্রধান বৈশিষ্ট্য
পরভোজী পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলি হল—
- এরা সাধারণত নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না।
- খাদ্যের জন্য অন্য জীব বা জৈব পদার্থের ওপর নির্ভর করে।
- খাদ্য সরাসরি গ্রহণ করতে পারে অথবা অন্য উৎস থেকে শোষণ করতে পারে।
- খাদ্যকে সরল পদার্থে ভেঙে শরীরের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- খাদ্য থেকে শক্তি পাওয়া যায়।
- অধিকাংশ প্রাণী পরভোজী।
- অধিকাংশ ছত্রাক পরভোজী।
- পরভোজী জীব খাদ্যশৃঙ্খলে সাধারণত ভোক্তা বা অন্যান্য স্তরের জীব হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
৪. পরভোজী পুষ্টির প্রকারভেদ
পরভোজী পুষ্টিকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রধান চারটি ধরন গুরুত্বপূর্ণ—
- হোলোজোয়িক পুষ্টি (Holozoic Nutrition)
- মৃতজীবী পুষ্টি (Saprophytic Nutrition)
- পরজীবী পুষ্টি (Parasitic Nutrition)
- মিথোজীবী পুষ্টি (Symbiotic Nutrition)
৫. হোলোজোয়িক পুষ্টি (Holozoic Nutrition)
যে পুষ্টি পদ্ধতিতে জীব কঠিন বা তরল খাদ্য গ্রহণ করে, পরে খাদ্যকে পরিপাক করে, পুষ্টি শোষণ করে এবং অব্যবহৃত অংশ শরীর থেকে বের করে দেয়, তাকে হোলোজোয়িক পুষ্টি বলে।
Holozoic শব্দের অর্থ—সম্পূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করে পুষ্টি লাভ করা।
উদাহরণ
- মানুষ
- গরু
- ছাগল
- কুকুর
- বিড়াল
- বাঘ
- অ্যামিবা
হোলোজোয়িক পুষ্টির পাঁচটি প্রধান ধাপ
হোলোজোয়িক পুষ্টি সাধারণত পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন হয়।
১. খাদ্যগ্রহণ (Ingestion)
খাদ্যকে শরীরের ভিতরে গ্রহণ করার প্রক্রিয়াকে খাদ্যগ্রহণ বলে।
উদাহরণ: মানুষ মুখ দিয়ে খাবার গ্রহণ করে।
২. পরিপাক (Digestion)
জটিল খাদ্যকে এনজাইমের সাহায্যে সরল, দ্রবণীয় ও শোষণযোগ্য পদার্থে ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়াকে পরিপাক বলে।
উদাহরণ: স্টার্চ → সরল শর্করা
প্রোটিন → অ্যামাইনো অ্যাসিড
৩. শোষণ (Absorption)
পরিপাকের ফলে উৎপন্ন সরল পুষ্টি উপাদান রক্ত বা অন্যান্য দেহতরলে প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে শোষণ বলে।
মানুষের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রান্ত্র শোষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
৪. আত্মীকরণ (Assimilation)
শোষিত পুষ্টি উপাদানকে দেহের কোষে ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন, বৃদ্ধি, মেরামত ও অন্যান্য জীবনক্রিয়ায় কাজে লাগানোর প্রক্রিয়াকে আত্মীকরণ বলে।
৫. বর্জন (Egestion)
অপাচ্য খাদ্যকে শরীর থেকে বাইরে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বর্জন বলে।
মনে রাখার কৌশল
Ingestion → Digestion → Absorption → Assimilation → Egestion
বাংলায়:
গ্রহণ → পরিপাক → শোষণ → আত্মীকরণ → বর্জন
৬. অ্যামিবার হোলোজোয়িক পুষ্টি
অ্যামিবা (Amoeba) একটি এককোষী জীব। এটি ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis) প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে।
অ্যামিবার দেহে স্থায়ী মুখ নেই।
এর ছদ্মপদ (Pseudopodia) খাদ্যকণাকে ঘিরে ফেলে এবং খাদ্যকে কোষের ভিতরে নিয়ে যায়।
এরপর খাদ্য একটি খাদ্য গহ্বর (Food vacuole)-এর মধ্যে পরিপাক হয়।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ
Amoeba → Pseudopodia → Phagocytosis → Food vacuole
৭. মৃতজীবী পুষ্টি (Saprophytic Nutrition)
যে পুষ্টি পদ্ধতিতে জীব মৃত ও পচনশীল জৈব পদার্থ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে, তাকে মৃতজীবী বা Saprophytic Nutrition বলে।
এই জীবগুলি সাধারণত বাইরে পাচক এনজাইম নিঃসরণ করে। এনজাইমের সাহায্যে জটিল জৈব পদার্থ সরল পদার্থে পরিণত হয়। পরে জীব সেই সরল পদার্থ শোষণ করে।
উদাহরণ
- অধিকাংশ ছত্রাক
- মাশরুম
- কিছু ব্যাকটেরিয়া
মৃতজীবী পুষ্টির ধাপ
মৃত জৈব পদার্থ → এনজাইম নিঃসরণ → জটিল পদার্থের ভাঙন → সরল পদার্থ → শোষণ
গুরুত্বপূর্ণ
মৃতজীবী জীব মৃত জৈব পদার্থ ভেঙে পরিবেশে পুষ্টি উপাদান ফিরিয়ে দেয়। তাই এদের অনেককে বিয়োজক (Decomposer) বলা হয়।
৮. পরজীবী পুষ্টি (Parasitic Nutrition)
যে পুষ্টি পদ্ধতিতে কোনো জীব অন্য একটি জীবের দেহের ভিতরে বা দেহের ওপর বসবাস করে এবং তার কাছ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে, তাকে পরজীবী পুষ্টি বলে।
যে জীবের কাছ থেকে পরজীবী খাদ্য গ্রহণ করে তাকে পোষক (Host) বলে।
উদাহরণ
- Cuscuta বা স্বর্ণলতা
- Tapeworm
- Plasmodium
- Leech
- কিছু রোগজীবাণু
পরজীবী পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ শব্দ
পরজীবী (Parasite)
যে জীব অন্য জীবের ওপর নির্ভর করে খাদ্য গ্রহণ করে।
পোষক (Host)
যে জীবের দেহে বা দেহের ওপর পরজীবী বাস করে এবং খাদ্য গ্রহণ করে।
উদাহরণ
Tapeworm → Human intestine
এখানে Tapeworm হলো পরজীবী এবং মানুষ হলো পোষক।
৯. Cuscuta বা স্বর্ণলতা
Cuscuta একটি গুরুত্বপূর্ণ পরজীবী উদ্ভিদ।
এটি সাধারণ সবুজ উদ্ভিদের মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না। এটি অন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে।
Cuscuta-এর বিশেষ শোষক অঙ্গকে Haustoria বলা হয়।
Haustoria পোষক উদ্ভিদের টিস্যুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় পদার্থ গ্রহণ করে।
পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন
Cuscuta = Parasitic plant
Haustoria = শোষক অঙ্গ
১০. মিথোজীবী পুষ্টি (Symbiotic Nutrition)
যখন দুই ভিন্ন জীব পাশাপাশি বসবাস করে এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের ফলে উভয় জীবই উপকৃত হয়, তখন তাকে মিথোজীবিতা বা Symbiosis বলা হয়।
উদাহরণ: লাইকেন (Lichen)
লাইকেন মূলত—
শৈবাল + ছত্রাক
এর সমন্বয়ে গঠিত।
শৈবাল সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে।
ছত্রাক শৈবালকে জল, খনিজ ও আশ্রয় পেতে সাহায্য করে।
অতএব, উভয়েই উপকৃত হয়।
পরীক্ষার জন্য
Lichen = Alga + Fungus
১১. পুষ্টির ধরন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ
| পুষ্টির ধরন | উদাহরণ |
|---|---|
| Holozoic | মানুষ, গরু, বাঘ, অ্যামিবা |
| Saprophytic | মাশরুম, অধিকাংশ ছত্রাক |
| Parasitic | Cuscuta, Tapeworm, Plasmodium |
| Symbiotic | Lichen |
১২. স্বভোজী ও পরভোজী পুষ্টির পার্থক্য
| বিষয় | স্বভোজী পুষ্টি | পরভোজী পুষ্টি |
|---|---|---|
| খাদ্য তৈরি | নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে | সাধারণত নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না |
| খাদ্যের ওপর নির্ভরতা | অন্যের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নয় | অন্য জীব/জৈব পদার্থের ওপর নির্ভরশীল |
| প্রধান উদাহরণ | সবুজ উদ্ভিদ | মানুষ, প্রাণী, ছত্রাক |
| সালোকসংশ্লেষ | সবুজ উদ্ভিদের ক্ষেত্রে দেখা যায় | সাধারণত দেখা যায় না |
| খাদ্যশৃঙ্খলে ভূমিকা | উৎপাদক | প্রধানত ভোক্তা/বিয়োজক |
| শক্তির উৎস | আলো বা রাসায়নিক শক্তি | খাদ্যে সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি |
১৩. পরভোজী জীব ও খাদ্যশৃঙ্খল
খাদ্যশৃঙ্খলে স্বভোজী জীব সাধারণত উৎপাদক (Producer) হিসেবে কাজ করে।
পরভোজী জীব উৎপাদক বা অন্য পরভোজী জীবের ওপর নির্ভর করে।
একটি সাধারণ খাদ্যশৃঙ্খল—
ঘাস → ঘাসফড়িং → ব্যাঙ → সাপ → ঈগল
এখানে—
- ঘাস = উৎপাদক
- ঘাসফড়িং = প্রাথমিক ভোক্তা
- ব্যাঙ = দ্বিতীয় স্তরের ভোক্তা
- সাপ = উচ্চতর ভোক্তা
- ঈগল = শীর্ষ ভোক্তা
এখানে ঘাস ছাড়া বাকি জীবগুলি খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য জীবের ওপর নির্ভরশীল।
১৪. পরভোজী পুষ্টিতে পরিপাকের গুরুত্ব
পরভোজী জীবের খাদ্যে অনেক সময় জটিল জৈব অণু থাকে। যেমন—
- শর্করা
- প্রোটিন
- চর্বি
এই জটিল পদার্থ সরাসরি দেহের কোষে ব্যবহার করা যায় না। তাই এনজাইমের সাহায্যে এগুলিকে সরল পদার্থে পরিণত করা হয়।
উদাহরণ
প্রোটিন → অ্যামাইনো অ্যাসিড
কার্বোহাইড্রেট → সরল শর্করা
চর্বি → ফ্যাটি অ্যাসিড + গ্লিসারল
এই সরল পদার্থগুলি পরে শোষিত হয়ে দেহে ব্যবহৃত হয়।
১৫. পরভোজী পুষ্টিতে এনজাইমের ভূমিকা
এনজাইম (Enzyme) হল জৈব অনুঘটক, যা জীবদেহের বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়াকে দ্রুত ঘটাতে সাহায্য করে।
পরিপাকের সময় বিভিন্ন এনজাইম জটিল খাদ্যকে সরল পদার্থে ভেঙে দেয়।
উদাহরণ
Amylase → Starch-এর পরিপাকে সাহায্য করে
Pepsin → Protein-এর পরিপাকে সাহায্য করে
Lipase → Fat-এর পরিপাকে সাহায্য করে
১৬. পরভোজী পুষ্টি ও শক্তি
পরভোজী জীব খাদ্য থেকে শক্তি পায়।
খাদ্যে সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি কোষীয় শ্বসনের মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
গ্লুকোজের কোষীয় শ্বসনের সরল সমীকরণ—
C₆H₁₂O₆ + O₂ → CO₂ + H₂O + শক্তি (ATP)
এখানে উৎপন্ন শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ATP (Adenosine Triphosphate)-এর মাধ্যমে কোষ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে।
১৭. পরভোজী পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ শব্দভাণ্ডার
Heterotroph → পরভোজী জীব
Holozoic → খাদ্য গ্রহণ করে পরিপাকের মাধ্যমে পুষ্টি লাভ
Saprophytic → মৃত ও পচনশীল পদার্থ থেকে পুষ্টি
Parasitic → পোষকের ওপর নির্ভর করে পুষ্টি
Symbiotic → পারস্পরিক উপকারী সম্পর্ক
Host → পোষক
Parasite → পরজীবী
Decomposer → বিয়োজক
Pseudopodia → ছদ্মপদ
Phagocytosis → কোষ দ্বারা কঠিন খাদ্যকণা গ্রহণের প্রক্রিয়া
Food vacuole → খাদ্য গহ্বর
Haustoria → কিছু পরজীবী উদ্ভিদের শোষক অঙ্গ
১৮. পরীক্ষার জন্য বিশেষ তথ্য
তথ্য ১
মানুষ একটি Heterotroph এবং তার পুষ্টির ধরন Holozoic।
তথ্য ২
অ্যামিবা Pseudopodia ব্যবহার করে খাদ্য গ্রহণ করে।
তথ্য ৩
অ্যামিবার খাদ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া Phagocytosis।
তথ্য ৪
অধিকাংশ ছত্রাক Saprophytic।
তথ্য ৫
মৃতজীবী জীব সাধারণত মৃত ও পচনশীল জৈব পদার্থের ওপর নির্ভর করে।
তথ্য ৬
Cuscuta বা স্বর্ণলতা একটি পরজীবী উদ্ভিদ।
তথ্য ৭
Cuscuta-এর শোষক অঙ্গ হল Haustoria।
তথ্য ৮
Tapeworm একটি পরজীবী।
তথ্য ৯
যে জীবের দেহে পরজীবী বাস করে তাকে Host বলা হয়।
তথ্য ১০
Lichen হলো শৈবাল ও ছত্রাকের মিথোজীবী সমন্বয়।
তথ্য ১১
পরভোজী জীব খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে স্বভোজী জীবের ওপর নির্ভর করে।
তথ্য ১২
খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি সাধারণত স্বভোজী উৎপাদকদের দ্বারা গঠিত।
১৯. এক নজরে পরভোজী পুষ্টি
পরভোজী পুষ্টি
↓
নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না
↓
অন্য উৎস থেকে খাদ্য গ্রহণ
↓
প্রধান ধরন
Holozoic | Saprophytic | Parasitic | Symbiotic
Holozoic
মানুষ, অ্যামিবা
Saprophytic
ছত্রাক, মাশরুম
Parasitic
Cuscuta, Tapeworm, Plasmodium
Symbiotic
Lichen
২০. পরীক্ষার জন্য মনে রাখার সহজ কৌশল
H-S-P-S
H → Holozoic → Human
S → Saprophytic → Fungi
P → Parasitic → Cuscuta
S → Symbiotic → Lichen
এই চারটি উদাহরণ মনে রাখলে পরভোজী পুষ্টির প্রধান ধরনগুলি সহজেই মনে রাখা যায়।
২১. সম্ভাব্য MCQ ধারণা
প্রশ্ন: মানুষ কোন ধরনের পুষ্টি গ্রহণ করে?
উত্তর: Holozoic nutrition
প্রশ্ন: Cuscuta কোন ধরনের উদ্ভিদ?
উত্তর: পরজীবী উদ্ভিদ
প্রশ্ন: অ্যামিবা কীভাবে খাদ্য গ্রহণ করে?
উত্তর: Phagocytosis
প্রশ্ন: অ্যামিবার খাদ্য গ্রহণে কোন অঙ্গ সাহায্য করে?
উত্তর: Pseudopodia
প্রশ্ন: অধিকাংশ ছত্রাক কোন ধরনের পুষ্টি গ্রহণ করে?
উত্তর: Saprophytic nutrition
প্রশ্ন: Lichen কীসের উদাহরণ?
উত্তর: Symbiosis
প্রশ্ন: পরজীবী যে জীবের ওপর নির্ভর করে তাকে কী বলে?
উত্তর: Host বা পোষক
প্রশ্ন: Cuscuta-এর শোষক অঙ্গের নাম কী?
উত্তর: Haustoria
উপসংহার
পরভোজী পুষ্টি (Heterotrophic Nutrition) জীববিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যে জীব নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তাকে খাদ্যের জন্য অন্য জীব বা জৈব পদার্থের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই পুষ্টি পদ্ধতির প্রধান ধরন হল Holozoic, Saprophytic, Parasitic এবং Symbiotic nutrition।
UPSC ও SSC CGL-এর জন্য বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে—
মানুষ → Holozoic
অ্যামিবা → Phagocytosis
ছত্রাক → Saprophytic
Cuscuta → Parasitic
Lichen → Symbiotic
Cuscuta → Haustoria
পরজীবীর খাদ্যের উৎস → Host
