Class XII›
Bengali ›
Geography ›
Mock Test ›
Class XI›
Class X›
Primary TET›
Upper Primary TET›
Competitive Exams›
Math ›
LIVE Access mock tests, and notes for 300+ exams
✕

কোহলবার্গ-এর নৈতিক বিকাশের তত্ত্ব | 6টি স্তর ও শিক্ষাগত তাৎপর্য | Child Development And Pedagogy(CDP)| TET CTET

কোহলবার্গ-এর নৈতিক বিকাশের তত্ত্ব | 6টি স্তর ও শিক্ষাগত তাৎপর্য | Child Development And Pedagogy(CDP)| TET CTET

নৈতিক বিকাশ: কোহলবার্গ-এর তত্ত্ব (Moral Development: Kohlberg's Theory)

কোহলবার্গ-এর নৈতিক বিকাশের তত্ত্ব (Kohlberg's Theory of Moral Development) Child Development and Pedagogy-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। TET, CTET, Primary TET এবং Upper Primary TET পরীক্ষায় এই তত্ত্ব থেকে সংজ্ঞা, পর্যায়, স্তর এবং শিক্ষাগত তাৎপর্য সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।

নৈতিক আচরণ কী? (What is Moral Behaviour?)

নৈতিক আচরণ বলতে সমাজের স্বীকৃত নিয়ম, মূল্যবোধ ও প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করাকে বোঝায়।

'Moral' শব্দটি লাতিন 'Mores' শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো নিয়ম ও রীতিনীতি অনুসরণ করা।

নৈতিক আচরণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সততা, সত্যবাদিতা, দয়া, ন্যায়বোধ, সাহস ও দায়িত্ববোধের মতো গুণ প্রকাশ করে।

নৈতিক, অনৈতিক ও নৈতিকতাবিহীন আচরণের পার্থক্য

নৈতিক আচরণ (Moral Behaviour):
সমাজের কাঙ্ক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য নিয়ম মেনে চলা।

অনৈতিক আচরণ (Immoral Behaviour):
সমাজের নিয়ম ও প্রত্যাশা সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিরোধিতা করা।

নৈতিকতাবিহীন আচরণ (Unmoral Behaviour):
নৈতিক নিয়ম সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান বা ধারণা না থাকার কারণে সেই নিয়ম অনুযায়ী আচরণ না করা। ছোট শিশুদের অনেক আচরণ এই ধরনের হতে পারে।

নৈতিক বিকাশ কী?

ব্যক্তির মধ্যে ধীরে ধীরে ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা, ন্যায়বোধ, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা গড়ে ওঠাকে নৈতিক বিকাশ (Moral Development) বলা হয়।

মনোবিজ্ঞানী লরেন্স কোহলবার্গ (Lawrence Kohlberg) নৈতিক বিকাশকে 3টি প্রধান পর্যায় এবং মোট 6টি স্তরে ভাগ করেছেন।

কোহলবার্গ-এর নৈতিক বিকাশের 3টি পর্যায়

কোহলবার্গের তত্ত্ব অনুযায়ী নৈতিক বিকাশের 3টি পর্যায় হলো—

  1. প্রাক্-প্রথাগত পর্যায় (Pre-conventional Stage)

  2. প্রথাগত পর্যায় (Conventional Stage)

  3. উত্তর-প্রথাগত পর্যায় (Post-conventional Stage)

প্রতিটি পর্যায়ে আবার 2টি করে স্তর রয়েছে। অর্থাৎ মোট 6টি স্তর।


1. প্রাক্-প্রথাগত পর্যায় (Pre-conventional Stage)

বয়স: প্রায় 4-10 বছর

এই পর্যায়ে শিশুর নৈতিক আচরণ মূলত শাস্তি এড়ানো এবং নিজের স্বার্থ পূরণের দ্বারা পরিচালিত হয়।

শিশু কোনো কাজ ভালো না খারাপ তা নিজের নৈতিক বিচার দিয়ে নয়, বরং শাস্তি হবে কি না বা নিজের লাভ হবে কি না—এসবের ভিত্তিতে বিচার করে।

স্তর 1: শাস্তি ও বাধ্যতা অভিমুখ (Punishment and Obedience Orientation)

এই স্তরে শিশু শাস্তি এড়ানোর জন্য বড়দের কথা মেনে চলে।

শিশু মনে করে, বড়রা যা করতে বলছে তা করতে হবে, কারণ অবাধ্য হলে শাস্তি পেতে হবে।

উদাহরণ:
"আমি মায়ের কথা শুনব, কারণ কথা না শুনলে মা আমাকে বকবেন।"

স্তর 2: ব্যক্তিগত স্বার্থ ও বিনিময় অভিমুখ (Instrumental Purpose and Exchange)

এই স্তরে শিশু নিজের স্বার্থ ও লাভের কথা চিন্তা করে নিয়ম মেনে চলে।

এখানে বিনিময়ের ধারণা গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণ:
"তুমি আমাকে তোমার খেলনা দিলে আমিও তোমাকে আমার খেলনা দেব।"

অর্থাৎ, তুমি আমার জন্য কিছু করবে, আমিও তোমার জন্য কিছু করব।

পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন

Pre-conventional = শাস্তি + ব্যক্তিগত স্বার্থ


2. প্রথাগত পর্যায় (Conventional Stage)

বয়স: প্রায় 10-13 বছর

এই পর্যায়ে শিশু অন্যদের সমর্থন, স্বীকৃতি ও প্রশংসা পেতে চায়। সে সমাজের প্রচলিত নিয়ম ও মূল্যবোধ মেনে চলাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।

এই পর্যায়ের 2টি স্তর হলো—

স্তর 3: ভালো ছেলে/ভালো মেয়ে অভিমুখ (Good Boy-Good Girl Orientation)

এই স্তরে শিশু অন্যের স্বীকৃতি ও প্রশংসা পেতে চায়।

সে এমন আচরণ করতে চায় যাতে বাবা-মা, শিক্ষক ও বন্ধুরা তাকে "ভালো ছেলে" বা "ভালো মেয়ে" বলে।

উদাহরণ:
একজন শিক্ষার্থী শিক্ষককে সাহায্য করে, কারণ সে চায় শিক্ষক তাকে ভালো ছাত্র হিসেবে দেখুন।

স্তর 4: আইন ও শৃঙ্খলা অভিমুখ (Law and Order Orientation)

এই স্তরে ব্যক্তি আইন, নিয়ম, কর্তব্য ও সামাজিক শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দেয়।

সে মনে করে, সমাজের নিয়ম ও আইন মেনে চলা প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।

উদাহরণ:
"ট্রাফিক আইন মেনে চলা উচিত, কারণ আইন সবার জন্য প্রযোজ্য।"

পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন

Conventional = সামাজিক স্বীকৃতি + আইন ও কর্তব্য


3. উত্তর-প্রথাগত পর্যায় (Post-conventional Stage)

বয়স: 13 বছর ও তার বেশি

এই পর্যায়ে ব্যক্তি নৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সমাজের নিয়মের উপর নির্ভর করে না। সে ন্যায়, অধিকার, বিবেক ও সর্বজনীন নৈতিক নীতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করে।

এই পর্যায়ের 2টি স্তর হলো—

স্তর 5: সামাজিক চুক্তি ও ব্যক্তিগত অধিকার (Social Contract and Individual Rights)

এই স্তরে ব্যক্তি বুঝতে পারে যে সমাজের আইন ও নিয়ম মানুষের কল্যাণের জন্য তৈরি।

তবে কোনো আইন যদি মানুষের অধিকার বা কল্যাণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে সেই আইন গণতান্ত্রিক ও যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতিতে পরিবর্তন করা যেতে পারে বলে সে মনে করে।

উদাহরণ:
কোনো আইন যদি মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করে, তাহলে আইনটি পরিবর্তনের জন্য বৈধ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

স্তর 6: সর্বজনীন নৈতিক নীতি (Universal Ethical Principles)

এটি কোহলবার্গের নৈতিক বিকাশের সর্বোচ্চ স্তর।

এই স্তরে ব্যক্তির আচরণ বিবেক, ন্যায়, মানবিকতা ও সর্বজনীন নৈতিক নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়।

ব্যক্তি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করে যাতে সকল মানুষের কল্যাণ ও ন্যায়বিচার বজায় থাকে।

কোহলবার্গের মতে, সবাই এই স্তরে পৌঁছাতে পারে না। এর জন্য উচ্চস্তরের যুক্তি ও বিমূর্ত চিন্তার ক্ষমতা প্রয়োজন।

পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন

Post-conventional = সামাজিক চুক্তি + সর্বজনীন নৈতিক নীতি


কোহলবার্গের নৈতিক বিকাশের 6টি স্তর এক নজরে

পর্যায় স্তর মূল ধারণা
Pre-conventional 1 শাস্তি ও বাধ্যতা
Pre-conventional 2 ব্যক্তিগত স্বার্থ ও বিনিময়
Conventional 3 ভালো ছেলে/ভালো মেয়ে
Conventional 4 আইন ও শৃঙ্খলা
Post-conventional 5 সামাজিক চুক্তি ও ব্যক্তিগত অধিকার
Post-conventional 6 সর্বজনীন নৈতিক নীতি

সহজে মনে রাখার কৌশল

1 → শাস্তি
2 → স্বার্থ
3 → ভালো ছেলে/মেয়ে
4 → আইন ও শৃঙ্খলা
5 → সামাজিক চুক্তি
6 → সর্বজনীন নীতি

অর্থাৎ—

শাস্তি → স্বার্থ → ভালো হওয়া → আইন → অধিকার → সর্বজনীন নীতি


কোহলবার্গের A-Type ও B-Type ব্যক্তি

কোহলবার্গ নৈতিকতার ক্ষেত্রে ব্যক্তিদের 2 ধরনের বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন।

A-Type

A-Type ব্যক্তির নৈতিক আচরণ মূলত কর্তৃত্ব, নিয়ম ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের দ্বারা প্রভাবিত হয়।

B-Type

B-Type ব্যক্তির নৈতিক আচরণ আদর্শ, যুক্তি ও উন্নত বিবেকের দ্বারা বেশি পরিচালিত হয়।

সহজভাবে বলা যায়—

A-Type → নিয়ম ও কর্তৃত্বনির্ভর
B-Type → আদর্শ ও বিবেকনির্ভর


কোহলবার্গের তত্ত্বের শিক্ষাগত তাৎপর্য

Kohlberg-এর তত্ত্ব শিক্ষাক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক বিচারবোধ, ন্যায়বোধ, দায়িত্ববোধ ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা গড়ে তোলা।

1. নৈতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা

কোহলবার্গের মতে, নৈতিক দ্বন্দ্ব (Moral Dilemma) নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাই শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন নৈতিক সমস্যা বা দ্বন্দ্ব নিয়ে শিক্ষার্থীদের আলোচনা করার সুযোগ দিতে পারেন।

2. মুক্ত আলোচনা

শ্রেণিকক্ষে এমন পরিবেশ তৈরি করা উচিত যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারে।

শিক্ষার্থীদের যুক্তি দিয়ে নিজের মত ব্যাখ্যা করার সুযোগ দিতে হবে।

3. শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া

নৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময় শিক্ষকের উচিত শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া।

শুধু নিজের মত চাপিয়ে না দিয়ে শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের যুক্তি ও চিন্তাভাবনা শুনতে হবে।

4. শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভালো সম্পর্ক

নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে বিশ্বাস ও সুসম্পর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষার্থীরা যে শিক্ষককে বিশ্বাস করে এবং যার সঙ্গে সহজে কথা বলতে পারে, তাঁর কাছ থেকে নৈতিক বিষয় শেখা তাদের জন্য বেশি সহজ হয়।

5. শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার প্রতি সংবেদনশীল হওয়া

নৈতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনার সময় কোনো শিক্ষার্থী মানসিকভাবে অস্বস্তি বা আঘাত পেতে পারে।

তাই শিক্ষককে শিক্ষার্থীর অনুভূতির প্রতি সহানুভূতিশীল ও সংবেদনশীল হতে হবে।

প্রয়োজনে শিক্ষকের উচিত শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলা এবং তাকে নিজের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া।

6. বয়স ও বুদ্ধিবিকাশ অনুযায়ী নৈতিক আলোচনা

সব বয়সের শিক্ষার্থীর নৈতিক বিচারক্ষমতা এক রকম নয়। তাই শিক্ষকের উচিত শিক্ষার্থীদের বয়স, বুদ্ধিবিকাশ ও মানসিক পরিপক্বতা অনুযায়ী নৈতিক সমস্যা ও আলোচনা নির্বাচন করা।


TET ও CTET পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট

প্রশ্ন: কোহলবার্গের তত্ত্ব কোন বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত?
উত্তর: নৈতিক বিকাশ (Moral Development)।

প্রশ্ন: কোহলবার্গ নৈতিক বিকাশকে কয়টি পর্যায়ে ভাগ করেছেন?
উত্তর: 3টি পর্যায়ে।

প্রশ্ন: কোহলবার্গের তত্ত্বে মোট কয়টি স্তর রয়েছে?
উত্তর: 6টি স্তর।

প্রশ্ন: Pre-conventional পর্যায়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: শাস্তি এড়ানো ও ব্যক্তিগত স্বার্থ।

প্রশ্ন: Conventional পর্যায়ে কী গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: সামাজিক স্বীকৃতি, নিয়ম, আইন ও কর্তব্য।

প্রশ্ন: Post-conventional পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: সামাজিক চুক্তি, ব্যক্তিগত অধিকার ও সর্বজনীন নৈতিক নীতি।

প্রশ্ন: "ভালো ছেলে/ভালো মেয়ে" কোন স্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত?
উত্তর: 3য় স্তর।

প্রশ্ন: "আইন ও শৃঙ্খলা" কোন স্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত?
উত্তর: 4র্থ স্তর।

প্রশ্ন: "সামাজিক চুক্তি ও ব্যক্তিগত অধিকার" কোন স্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত?
উত্তর: 5ম স্তর।

প্রশ্ন: "সর্বজনীন নৈতিক নীতি" কোন স্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত?
উত্তর: 6ষ্ঠ স্তর।

প্রশ্ন: কোহলবার্গ নৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন?
উত্তর: নৈতিক দ্বন্দ্ব (Moral Dilemma)।


উপসংহার

কোহলবার্গের নৈতিক বিকাশের তত্ত্ব অনুযায়ী মানুষের নৈতিক চিন্তাভাবনা ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। প্রথমদিকে শিশু শাস্তি ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ভিত্তিতে নৈতিক আচরণ করে। পরে সে সামাজিক স্বীকৃতি, নিয়ম ও আইনকে গুরুত্ব দেয়। নৈতিক বিকাশের উচ্চ পর্যায়ে ব্যক্তি ন্যায়, অধিকার, বিবেক ও সর্বজনীন নৈতিক নীতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে শেখে।

তাই TET, CTET, Primary TET ও Upper Primary TET পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোহলবার্গের 3টি পর্যায় এবং 6টি স্তর ভালোভাবে মনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Share:
← Back to all posts