Class XII›
Bengali ›
Geography ›
Mock Test ›
Class XI›
Class X›
Primary TET›
Upper Primary TET›
Competitive Exams›
Math ›
LIVE Access mock tests, and notes for 300+ exams
✕

সালোকসংশ্লেষ (Photosynthesis) কী? সংজ্ঞা, সমীকরণ, প্রক্রিয়া ও গুরুত্ব

সালোকসংশ্লেষ (Photosynthesis) কী? সংজ্ঞা, সমীকরণ, প্রক্রিয়া ও গুরুত্ব

সালোকসংশ্লেষ (Photosynthesis) কী? সংজ্ঞা, সমীকরণ, প্রক্রিয়া ও গুরুত্ব

সালোকসংশ্লেষ (Photosynthesis) হল সবুজ উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া। ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলো শোষণ করে উদ্ভিদ কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জল থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন ছাড়ে। পৃথিবীর প্রায় সব জীবের খাদ্য ও অক্সিজেনের মূল উৎস এই প্রক্রিয়া।

এই পোস্টে পাবেন সালোকসংশ্লেষের সংজ্ঞা, সমীকরণ, দুটি পর্যায়, ক্লোরোফিল ও পত্ররন্ধ্রের ভূমিকা, প্রভাবক উপাদান, শ্বসনের সঙ্গে পার্থক্য এবং অনুশীলনের MCQ।

এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • কোথায় ঘটে: ক্লোরোপ্লাস্টে (প্রধানত পাতার সবুজ কোশে)
  • কাঁচামাল: কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) ও জল (H₂O)
  • প্রয়োজনীয় শর্ত: সূর্যের আলো, ক্লোরোফিল, উপযুক্ত তাপমাত্রা
  • উৎপাদ: গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆) ও অক্সিজেন (O₂)
  • অক্সিজেনের উৎস: CO₂ নয়, জল
  • শক্তির রূপান্তর: আলোকশক্তি → রাসায়নিক শক্তি
  • দুটি পর্যায়: আলোক-নির্ভর (গ্র্যানায়) ও আলোক-নিরপেক্ষ বা ক্যালভিন চক্র (স্ট্রোমায়)

সালোকসংশ্লেষ কী? | What is Photosynthesis?

আলোর উপস্থিতিতে সবুজ উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের সাহায্যে বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং মাটি থেকে জল গ্রহণ করে যে প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য (শর্করা) তৈরি করে, তাকে সালোকসংশ্লেষ বলে। এই প্রক্রিয়ায় আলোকশক্তি খাদ্যের মধ্যে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে সঞ্চিত হয়।

সহজভাবে:

সূর্যের আলো + ক্লোরোফিল + জল + কার্বন ডাই-অক্সাইড → গ্লুকোজ + অক্সিজেন

শুধু সবুজ উদ্ভিদই নয়, শৈবাল ও সায়ানোব্যাকটেরিয়াও সালোকসংশ্লেষ করে।

সালোকসংশ্লেষের রাসায়নিক সমীকরণ

সরলীকৃত সমীকরণ:

6CO₂ + 6H₂O —(আলো, ক্লোরোফিল)→ C₆H₁₂O₆ + 6O₂

বিস্তারিত সমীকরণ:

6CO₂ + 12H₂O —(আলো, ক্লোরোফিল)→ C₆H₁₂O₆ + 6O₂ + 6H₂O

বিস্তারিত সমীকরণে দেখা যায়, বিক্রিয়ায় জল ব্যবহৃত হয় আবার নতুন করে উৎপন্নও হয়। মুক্ত হওয়া অক্সিজেন আসে জলের ভাঙন থেকে, কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে নয়। পরীক্ষায় এটি বারবার আসে।

সালোকসংশ্লেষ কোথায় ঘটে?

সালোকসংশ্লেষ প্রধানত পাতার সবুজ কোশে থাকা ক্লোরোপ্লাস্টে ঘটে। ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন সংক্ষেপে:

  • দ্বিস্তর পর্দা: ক্লোরোপ্লাস্টকে ঘিরে থাকে।
  • থাইলাকয়েড ও গ্র্যানা: থাইলাকয়েড নামক চ্যাপ্টা থলি স্তূপ আকারে সাজানো থাকে, এই স্তূপকে গ্র্যানা বলে। এখানে আলোক-নির্ভর পর্যায় ঘটে।
  • স্ট্রোমা: থাইলাকয়েডের চারপাশের তরল অংশ। এখানে ক্যালভিন চক্র ঘটে।

সালোকসংশ্লেষের জন্য কী কী প্রয়োজন?

কাঁচামাল

  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড: পাতার পত্ররন্ধ্র দিয়ে বায়ু থেকে প্রবেশ করে।
  2. জল: শিকড় মাটি থেকে শোষণ করে, জাইলেমের মাধ্যমে পাতায় পৌঁছায়।

প্রয়োজনীয় শর্ত

  1. সূর্যের আলো: শক্তি জোগায়।
  2. ক্লোরোফিল: আলো শোষণ করে।
  3. উপযুক্ত তাপমাত্রা: প্রক্রিয়াটি এনজাইম-নিয়ন্ত্রিত, তাই তাপমাত্রা ঠিক থাকা দরকার।

সালোকসংশ্লেষের প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে

  1. জল শোষণ: শিকড় জল শোষণ করে, জাইলেমের মাধ্যমে তা পাতায় পৌঁছায়।
  2. CO₂ গ্রহণ: পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড পাতায় ঢোকে।
  3. আলো শোষণ: ক্লোরোফিল সূর্যের আলো শোষণ করে।
  4. খাদ্য তৈরি: আলোকশক্তির সাহায্যে জল ও CO₂ থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয়।
  5. অক্সিজেন নির্গমন: উৎপন্ন অক্সিজেন পত্ররন্ধ্র দিয়ে বাইরে বেরোয়।

সালোকসংশ্লেষের দুটি পর্যায়

১. আলোক-নির্ভর পর্যায় (Light-dependent Stage)

  • স্থান: থাইলাকয়েড পর্দা (গ্র্যানা)
  • ক্লোরোফিল আলো শোষণ করে, আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
  • আলোক-বিশ্লেষণ (Photolysis): জলের অণু ভেঙে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন আয়ন ও ইলেকট্রন তৈরি হয়। এখান থেকেই অক্সিজেন মুক্ত হয়।
  • উৎপাদ: ATP ও NADPH, যা পরের পর্যায়ে শক্তি ও বিজারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২. আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায় (ক্যালভিন চক্র / অন্ধকার পর্যায়)

  • স্থান: স্ট্রোমা
  • এই পর্যায়ে সরাসরি আলো লাগে না, তবে আলোক-নির্ভর পর্যায়ে তৈরি ATP ও NADPH লাগে। তাই সাধারণত দিনের বেলাতেই চলে।
  • ধাপ: ক) CO₂ যুক্ত হয় (রুবিস্কো এনজাইম CO₂-কে RuBP-র সঙ্গে জুড়ে দেয়), খ) ATP ও NADPH ব্যবহার করে বিজারণ ঘটে ও শর্করা (G3P) তৈরি হয়, গ) RuBP পুনরুৎপাদিত হয়ে চক্র চলতে থাকে।
  • ফল: গ্লুকোজ ও অন্যান্য শর্করা তৈরি হয়।
বিষয় আলোক-নির্ভর পর্যায় আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায়
স্থান থাইলাকয়েড (গ্র্যানা) স্ট্রোমা
আলোর প্রয়োজন সরাসরি প্রয়োজন সরাসরি প্রয়োজন নেই
জলের ভূমিকা জল ভেঙে O₂ মুক্ত হয় সরাসরি জলের ভাঙন নেই
উৎপাদ ATP, NADPH, O₂ গ্লুকোজ (শর্করা)
CO₂ ব্যবহার হয় না হয়

ক্লোরোফিলের ভূমিকা

ক্লোরোফিল ক্লোরোপ্লাস্টে থাকা সবুজ রঞ্জক পদার্থ। এর কাজ:

  • সূর্যের আলো শোষণ করা
  • আলোকশক্তিকে সালোকসংশ্লেষের কাজে ব্যবহারযোগ্য করা
  • খাদ্য তৈরির শক্তি জোগাতে সাহায্য করা

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • ক্লোরোফিল প্রধানত লাল ও নীল আলো শোষণ করে এবং সবুজ আলো প্রতিফলিত করে। তাই পাতা সবুজ দেখায়।
  • ক্লোরোফিল অণুর কেন্দ্রে থাকে ম্যাগনেসিয়াম (Mg)।
  • ক্লোরোফিল-a প্রধান রঞ্জক। ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল সহায়ক রঞ্জক হিসেবে কাজ করে।

সালোকসংশ্লেষে পত্ররন্ধ্রের ভূমিকা

পাতার ত্বকে থাকা ক্ষুদ্র ছিদ্রগুলিকে পত্ররন্ধ্র (Stomata) বলে। প্রতিটি পত্ররন্ধ্র দুটি রক্ষীকোশ (Guard Cell) দিয়ে ঘেরা, যা ছিদ্র খোলা-বন্ধ নিয়ন্ত্রণ করে।

  • CO₂ পাতায় ঢোকে।
  • O₂ বাইরে বেরোয়।
  • জলীয় বাষ্পও বাইরে যায় (বাষ্পমোচন)।

সাধারণত দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পাতার নিচের ত্বকে পত্ররন্ধ্র বেশি থাকে।

সালোকসংশ্লেষের প্রকারভেদ: C3, C4 ও CAM

কার্বন স্থিরীকরণের পদ্ধতি অনুযায়ী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

ধরন প্রথম স্থায়ী যৌগ উদাহরণ
C3 ৩-কার্বন যৌগ (3-PGA) ধান, গম, সয়াবিন
C4 ৪-কার্বন যৌগ (OAA) ভুট্টা, আখ, জোয়ার
CAM রাতে ৪-কার্বন অ্যাসিড হিসেবে সঞ্চিত আনারস, ফণীমনসা, পাথরকুচি

CAM উদ্ভিদ শুষ্ক পরিবেশে জল বাঁচাতে রাতে পত্ররন্ধ্র খোলে।

সালোকসংশ্লেষের গুরুত্ব

  1. খাদ্য উৎপাদন: সবুজ উদ্ভিদ নিজের খাদ্য তৈরি করে। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে সেই শক্তি প্রাণী ও মানুষের কাছে পৌঁছায়।
  2. অক্সিজেন সরবরাহ: জীবের শ্বাসক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এই প্রক্রিয়া থেকেই আসে।
  3. পরিবেশের ভারসাম্য: বায়ুমণ্ডল থেকে CO₂ শোষণ করে এবং O₂ ছেড়ে গ্যাসীয় ভারসাম্য বজায় রাখে।
  4. শক্তির মূল উৎস: সূর্যের শক্তিকে খাদ্যের রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে। কয়লা ও পেট্রোলিয়ামের মতো জীবাশ্ম জ্বালানিও অতীতের সালোকসংশ্লেষে সঞ্চিত শক্তিরই রূপ।

সালোকসংশ্লেষের হারকে প্রভাবিত করে যে বিষয়গুলি

  1. আলোর তীব্রতা ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য: একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলো বাড়লে হার বাড়ে। লাল ও নীল আলোয় হার সবচেয়ে বেশি।
  2. CO₂-এর পরিমাণ: বায়ুতে CO₂ খুব কম (প্রায় ০.০৪%), তাই পরিমাণ বাড়লে হার বাড়তে পারে।
  3. তাপমাত্রা: এনজাইমের কাজ উপযুক্ত তাপমাত্রায় সবচেয়ে ভালো হয়। অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডায় হার কমে।
  4. জল: জলের ঘাটতিতে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়, ফলে CO₂ ঢোকা কমে এবং হার কমে।
  5. ক্লোরোফিলের পরিমাণ: পর্যাপ্ত ক্লোরোফিল না থাকলে আলো শোষণ কমে যায়।

ব্ল্যাকম্যানের সীমাবদ্ধ কারকের সূত্র (Blackman's Law of Limiting Factors): একাধিক কারক একসঙ্গে প্রভাব ফেললে, যে কারকটি সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে সেটিই প্রক্রিয়ার হার নিয়ন্ত্রণ করে।

সালোকসংশ্লেষ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ও বিজ্ঞানী

বিজ্ঞানী অবদান
জোসেফ প্রিস্টলি (১৭৭০-এর দশক) দেখান, উদ্ভিদ বায়ুকে "পরিশুদ্ধ" করে (মোমবাতি ও ইঁদুরের পরীক্ষা)।
জান ইঙ্গেনহাউস (১৭৭৯) দেখান, আলোর উপস্থিতিতে উদ্ভিদের শুধু সবুজ অংশ এই কাজ করে।
জুলিয়াস ফন সাক্স দেখান, পাতার সবুজ অংশে আলোয় শ্বেতসার (স্টার্চ) তৈরি হয়।
টি. ডব্লিউ. এঙ্গেলম্যান (১৮৮২) আলোর বর্ণালীর কোন অংশে সালোকসংশ্লেষ বেশি, তা দেখান (লাল ও নীল)।
মেলভিন ক্যালভিন ¹⁴C ব্যবহার করে কার্বন স্থিরীকরণের চক্র আবিষ্কার করেন (নোবেল, ১৯৬১)।

সালোকসংশ্লেষ একজন বিজ্ঞানীর একক আবিষ্কার নয়। বহু বিজ্ঞানীর কাজে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট হয়েছে।

সালোকসংশ্লেষ ও শ্বসনের মধ্যে পার্থক্য

বিষয় সালোকসংশ্লেষ শ্বসন
প্রধান কাজ খাদ্য তৈরি খাদ্য থেকে শক্তি মুক্ত করা
প্রকৃতি অ্যানাবলিক (গঠনমূলক) ক্যাটাবলিক (ভাঙনমূলক)
আলোর প্রয়োজন সাধারণত প্রয়োজন প্রয়োজন নেই
CO₂ গ্রহণ করে সাধারণত উৎপন্ন হয়
O₂ উৎপন্ন হয় সাধারণত ব্যবহৃত হয়
স্থান প্রধানত ক্লোরোপ্লাস্ট প্রধানত মাইটোকন্ড্রিয়া (ও সাইটোপ্লাজম)
কোথায় ঘটে কেবল সবুজ কোশে সব জীবন্ত কোশে
শক্তি আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে সঞ্চিত হয় রাসায়নিক শক্তি ATP-তে মুক্ত হয়
কখন দিনের বেলা সারাক্ষণ

অনুশীলনের MCQ (সালোকসংশ্লেষ)

১. সালোকসংশ্লেষ প্রধানত কোথায় ঘটে?
(ক) মাইটোকন্ড্রিয়া (খ) ক্লোরোপ্লাস্ট (গ) নিউক্লিয়াস (ঘ) রাইবোজোম
উত্তর: (খ) ক্লোরোপ্লাস্ট

২. সালোকসংশ্লেষে মুক্ত হওয়া অক্সিজেন কোথা থেকে আসে?
(ক) কার্বন ডাই-অক্সাইড (খ) গ্লুকোজ (গ) জল (ঘ) ক্লোরোফিল
উত্তর: (গ) জল

৩. আলোক-নির্ভর পর্যায় কোথায় ঘটে?
(ক) স্ট্রোমা (খ) সাইটোপ্লাজম (গ) গ্র্যানা (থাইলাকয়েড) (ঘ) ভ্যাকুওল
উত্তর: (গ) গ্র্যানা (থাইলাকয়েড)

৪. ক্যালভিন চক্র ক্লোরোপ্লাস্টের কোন অংশে ঘটে?
(ক) গ্র্যানা (খ) স্ট্রোমা (গ) বাইরের পর্দা (ঘ) নিউক্লিয়াস
উত্তর: (খ) স্ট্রোমা

৫. ক্লোরোফিল অণুর কেন্দ্রে কোন ধাতু থাকে?
(ক) আয়রন (খ) ক্যালসিয়াম (গ) ম্যাগনেসিয়াম (ঘ) জিঙ্ক
উত্তর: (গ) ম্যাগনেসিয়াম

৬. সালোকসংশ্লেষের হার সবচেয়ে বেশি হয় কোন বর্ণের আলোয়?
(ক) সবুজ ও হলুদ (খ) লাল ও নীল (গ) কমলা ও সবুজ (ঘ) শুধু সাদা
উত্তর: (খ) লাল ও নীল

৭. আলো ও সবুজ অংশের ভূমিকা প্রমাণ করেন কে?
(ক) মেলভিন ক্যালভিন (খ) জান ইঙ্গেনহাউস (গ) রবার্ট হুক (ঘ) মেন্ডেল
উত্তর: (খ) জান ইঙ্গেনহাউস

৮. সালোকসংশ্লেষে CO₂ পাতায় কোন পথে প্রবেশ করে?
(ক) শিরা (খ) কিউটিকল (গ) পত্ররন্ধ্র (ঘ) মূলরোম
উত্তর: (গ) পত্ররন্ধ্র

৯. নিচের কোনটি C4 উদ্ভিদ?
(ক) ধান (খ) গম (গ) ভুট্টা (ঘ) সয়াবিন
উত্তর: (গ) ভুট্টা

১০. আলোক-নির্ভর পর্যায়ের উৎপাদ কোনগুলি?
(ক) গ্লুকোজ ও স্টার্চ (খ) ATP, NADPH ও O₂ (গ) শুধু CO₂ (ঘ) ইথানল
উত্তর: (খ) ATP, NADPH ও O₂

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

সালোকসংশ্লেষ কী?
সবুজ উদ্ভিদ আলো ও ক্লোরোফিলের সাহায্যে CO₂ ও জল থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে এবং অক্সিজেন ছাড়ে। এই প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষ বলে।

সালোকসংশ্লেষ কোথায় ঘটে?
প্রধানত পাতার সবুজ কোশের ক্লোরোপ্লাস্টে।

সালোকসংশ্লেষে অক্সিজেন কোথা থেকে আসে?
জলের আলোক-বিশ্লেষণ থেকে। কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে নয়।

সালোকসংশ্লেষ কি রাতে হয়?
না। আলোক-নির্ভর পর্যায়ে আলো লাগে। আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায় সরাসরি আলো না চাইলেও ATP ও NADPH-এর জন্য আলোক-নির্ভর পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে, তাই আলো ছাড়া বেশিক্ষণ চলে না।

ক্লোরোফিল ছাড়া কি সালোকসংশ্লেষ সম্ভব?
সাধারণ সবুজ উদ্ভিদে সম্ভব নয়। কিছু ব্যাকটেরিয়ায় ব্যাকটেরিওক্লোরোফিল-জাতীয় ভিন্ন রঞ্জক থাকে।

সালোকসংশ্লেষের প্রধান উৎপাদ কী?
গ্লুকোজ (খাদ্য) ও অক্সিজেন।

পত্ররন্ধ্রের কাজ কী?
CO₂ ঢোকা, O₂ ও জলীয় বাষ্প বেরোনো নিয়ন্ত্রণ করা।

সারাংশ

সালোকসংশ্লেষ = সূর্যের আলো + ক্লোরোফিল + জল + কার্বন ডাই-অক্সাইড → গ্লুকোজ + অক্সিজেন

সবুজ উদ্ভিদ আলোকশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে খাদ্য বানায়, বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন জোগায় এবং CO₂-এর ভারসাম্য বজায় রাখে।

উপসংহার

সালোকসংশ্লেষ শুধু উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া নয়, এটি পৃথিবীর প্রায় সব জীবের শক্তি ও অক্সিজেনের ভিত্তি। পরীক্ষার্থীদের মনে রাখা দরকার: প্রক্রিয়ার স্থান (ক্লোরোপ্লাস্ট), দুটি পর্যায় ও তাদের স্থান (গ্র্যানা ও স্ট্রোমা), অক্সিজেনের উৎস (জল) এবং ক্লোরোফিলের বৈশিষ্ট্য।

Share:
← Back to all posts