Class XII
Bengali
Geography
Mock Test
Class XI
Class X
Primary TET
Upper Primary TET
Competitive Exams
Math
LIVE Access mock tests, and notes for 300+ exams

উপগ্রহ চিত্র (Satellite Image) কী? বৈশিষ্ট্য, শ্রেণীবিভাগ, ব্যবহার ও গুরুত্ব

উপগ্রহ চিত্র (Satellite Image) কী? বৈশিষ্ট্য, শ্রেণীবিভাগ, ব্যবহার ও গুরুত্ব

উপগ্রহ চিত্র (Satellite Image) কী? বৈশিষ্ট্য, শ্রেণীবিভাগ, সংগ্রহের পদ্ধতি ও ব্যবহার

উপগ্রহ চিত্র (Satellite Image) হল কৃত্রিম উপগ্রহে থাকা ক্যামেরা ও বিভিন্ন ধরনের সেন্সরের সাহায্যে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের ছবি বা তথ্য সংগ্রহ করে তৈরি করা চিত্র। উপগ্রহের সেন্সর ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত বা নির্গত বিভিন্ন তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ গ্রহণ করে এবং সেই তথ্যকে ডিজিটাল চিত্রে রূপান্তর করে। কৃষি, আবহাওয়া, বনভূমি, জলসম্পদ, ভূমি ব্যবহার, খনিজ সম্পদ এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণে উপগ্রহ চিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


উপগ্রহ চিত্রের বৈশিষ্ট্য

উপগ্রহ চিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

১. বৃহৎ অঞ্চল প্রদর্শন

একটি উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে একই সঙ্গে পৃথিবীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। তাই বৃহৎ এলাকার ভূমি, বনভূমি, জলাশয় ও বসতি পর্যবেক্ষণ করা সহজ।

২. ছদ্ম রঙের ব্যবহার

উপগ্রহ চিত্রে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন উপাদানকে অনেক সময় বিভিন্ন ছদ্ম রঙ (False Colour) ব্যবহার করে দেখানো হয়। এর ফলে একই এলাকার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সহজে শনাক্ত করা যায়।

৩. তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের ব্যবহার

উপগ্রহের সেন্সর ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত বা নির্গত বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তড়িৎচুম্বকীয় শক্তি গ্রহণ করে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই উপগ্রহ চিত্র তৈরি হয়।

৪. কৃত্রিম উপগ্রহের ব্যবহার

পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপিত কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে উপগ্রহ চিত্র সংগ্রহ করা হয়। ভারতে এই ধরনের উপগ্রহ ও মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নয়নে ISRO গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৫. সাম্প্রতিক তথ্য সংগ্রহ

নির্দিষ্ট সময় অন্তর উপগ্রহ একই এলাকার ছবি তুলতে পারে। ফলে কোনো অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়।

৬. বিস্তৃত ও নির্ভুল তথ্য

উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে একটি এলাকার ভূমি ব্যবহার, জলাশয়, বনভূমি, কৃষিজমি, বসতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা যায়।

৭. ছোট স্কেলের ব্যবহার

বৃহৎ অঞ্চল দেখানোর জন্য অনেক উপগ্রহ চিত্রে তুলনামূলকভাবে ছোট স্কেল ব্যবহার করা হয়। তবে ব্যবহৃত স্কেল উপগ্রহ, সেন্সর ও চিত্রের উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে।

৮. দুর্গম অঞ্চলের তথ্য সংগ্রহ

যেসব অঞ্চলে মানুষের সরাসরি পৌঁছানো কঠিন, যেমন পাহাড়, মরুভূমি, ঘন বনাঞ্চল বা দুর্গম এলাকা, সেসব স্থান সম্পর্কেও উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা যায়।

৯. ভৌগোলিক পরিবর্তন শনাক্তকরণ

বিভিন্ন সময়ের উপগ্রহ চিত্র তুলনা করে কোনো অঞ্চলের বনভূমি হ্রাস, নগরায়ণ, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, জলাশয়ের পরিবর্তন বা কৃষিজমির পরিবর্তন শনাক্ত করা যায়।

১০. কম্পিউটারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ

উপগ্রহ চিত্র মূলত ডিজিটাল তথ্য হওয়ায় কম্পিউটার ও বিভিন্ন GIS এবং Remote Sensing সফটওয়্যারের সাহায্যে এগুলি বিশ্লেষণ করা যায়।


উপগ্রহ চিত্রের শ্রেণীবিভাগ

রঙের ব্যবহার এবং তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতির ভিত্তিতে উপগ্রহ চিত্রকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়—

১. সাদাকালো উপগ্রহ চিত্র

এই ধরনের চিত্রে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন উপাদানকে মূলত সাদা ও কালো রঙে দেখানো হয়। নির্দিষ্ট কিছু কাজে এই ধরনের চিত্র ব্যবহার করা হয়।

২. ধূসর উপগ্রহ চিত্র

এই চিত্রে সাদা থেকে কালো পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ধূসর রঙের মাত্রা (Grey shades) ব্যবহার করে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করা হয়।

৩. বহু বর্ণালী উপগ্রহ চিত্র

এই ধরনের উপগ্রহ চিত্রে বিভিন্ন বর্ণ বা রঙ ব্যবহার করা হয়। বহু বর্ণালী চিত্রকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়—

ক) প্রকৃত রঙের চিত্র বা True Colour Composite (TCC)

ভূপৃষ্ঠের কোনো বস্তুকে সাধারণ চোখে আমরা যে রঙে দেখতে পাই, উপগ্রহ চিত্রেও যদি সেই রঙে দেখানো হয়, তাকে True Colour Composite (TCC) বলা হয়।

এক্ষেত্রে সাধারণত লাল, সবুজ ও নীল (RGB) রঙের সমন্বয়ে চিত্র তৈরি করা হয়।

খ) ছদ্ম রঙের চিত্র বা False Colour Composite (FCC)

ভূপৃষ্ঠের কোনো উপাদানকে তার প্রকৃত রঙের পরিবর্তে অন্য রঙে দেখানো হলে তাকে False Colour Composite (FCC) বলা হয়।

রিমোট সেন্সিং-এ FCC অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে উদ্ভিদ, জলাশয়, মাটি, বসতি ইত্যাদি বিভিন্ন ভূপৃষ্ঠীয় উপাদান সহজে শনাক্ত করা যায়।


উপগ্রহ চিত্র কীভাবে সংগ্রহ করা হয়?

একটি উপগ্রহ চিত্র তৈরি ও সংগ্রহ করার জন্য কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করা হয়।

১. কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ

প্রথমে রকেটের সাহায্যে কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো হয় এবং নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। এরপর উপগ্রহ পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিণ করতে থাকে।

২. লক্ষ্য এলাকা নির্ধারণ

যে অঞ্চল বা ভূপৃষ্ঠের উপাদান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে, তা নির্ধারণ করা হয়। যেমন—কৃষিজমি, বনভূমি, নদী, জলাশয়, নগর এলাকা বা খনিজ অঞ্চল।

৩. সেন্সরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ

উপগ্রহে থাকা সেন্সর ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত বা নির্গত তড়িৎচুম্বকীয় শক্তি গ্রহণ করে।

সেন্সর দুই ধরনের হতে পারে—

  • নিষ্ক্রিয় সেন্সর (Passive Sensor): সূর্য বা অন্যান্য প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া শক্তি ব্যবহার করে।
  • সক্রিয় সেন্সর (Active Sensor): নিজে শক্তি বা তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ পাঠিয়ে তার প্রতিফলন গ্রহণ করে।

শক্তি ও ভূপৃষ্ঠের মধ্যে ক্রিয়া-বিক্রিয়া

সূর্য থেকে আসা শক্তি ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায়। বিভিন্ন বস্তু যেমন—জল, মাটি, উদ্ভিদ, পাথর ও ভবন এই শক্তির সঙ্গে বিভিন্নভাবে ক্রিয়া করে।

প্রতিফলিত শক্তি গ্রহণ

ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন উপাদান থেকে প্রতিফলিত বা নির্গত শক্তি বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে উপগ্রহের সেন্সরে পৌঁছায়।

চিত্র তৈরি

সেন্সর এই শক্তির তথ্য সংগ্রহ করে এবং তা ডিজিটাল ডেটায় রূপান্তরিত করে। পরবর্তীতে সেই ডেটার সাহায্যে উপগ্রহ চিত্র তৈরি করা হয়।

৪. তথ্য প্রেরণ

উপগ্রহে সংগৃহীত তথ্য পৃথিবীর নির্দিষ্ট গ্রাউন্ড স্টেশন বা মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় পাঠানো হয়।

৫. তথ্য বিশ্লেষণ

প্রাপ্ত উপগ্রহ চিত্র কম্পিউটার ও বিভিন্ন Remote Sensing এবং GIS সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়।

৬. প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ

সবশেষে বিশ্লেষিত উপগ্রহ চিত্র থেকে কৃষি, বনভূমি, জলসম্পদ, ভূমি ব্যবহার, পরিবেশ ইত্যাদি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।


উপগ্রহ চিত্রের ব্যবহার

বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে Satellite Image বা উপগ্রহ চিত্রের ব্যবহার ব্যাপক। এর প্রধান ব্যবহারগুলি হল—

১. কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহার

কৃষিজমির পরিমাণ, ফসলের ধরন, ফসলের স্বাস্থ্য, কৃষিজমির পরিবর্তন এবং উৎপাদনের সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে উপগ্রহ চিত্র ব্যবহার করা হয়।

২. ভূমি ব্যবহার ও ভূমি আচ্ছাদন

কোন এলাকায় কৃষিজমি, বনভূমি, বসতি, জলাশয় বা অনাবাদি জমি রয়েছে তা শনাক্ত করে Land Use and Land Cover Map তৈরি করা যায়।

৩. আবহাওয়ার পূর্বাভাস

মেঘের গতিবিধি, ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টিপাত ও বিভিন্ন আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আবহাওয়া উপগ্রহের তথ্য ব্যবহার করা হয়। বন্যা ও খরার মতো দুর্যোগ পর্যবেক্ষণেও এর গুরুত্ব রয়েছে।

৪. জলসম্পদ নির্ণয়

নদী, হ্রদ, পুকুর, জলাধার ও অন্যান্য জলাশয় শনাক্ত করতে উপগ্রহ চিত্র ব্যবহার করা যায়। বিভিন্ন সময়ের চিত্র তুলনা করে জলাশয়ের আয়তনের পরিবর্তনও জানা যায়।

৫. বনভূমি পর্যবেক্ষণ

কোন অঞ্চলে কতটা বনভূমি রয়েছে, বনভূমির পরিবর্তন কীভাবে হচ্ছে এবং বন উজাড়ের মাত্রা কতটা—এসব পর্যবেক্ষণে উপগ্রহ চিত্র গুরুত্বপূর্ণ।

৬. খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান

ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন উপাদান থেকে প্রতিফলিত তড়িৎচুম্বকীয় শক্তির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য খনিজ অঞ্চল চিহ্নিত করতে Remote Sensing ব্যবহার করা হয়।

৭. ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন

একই এলাকার বিভিন্ন সময়ের উপগ্রহ চিত্র তুলনা করে কৃষিজমি থেকে বসতিতে পরিবর্তন, বনভূমি হ্রাস, নগর সম্প্রসারণ ইত্যাদি শনাক্ত করা যায়।

৮. পরিবেশ ও দূষণ পর্যবেক্ষণ

জলাশয়, বনভূমি, মাটি ও পরিবেশের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে উপগ্রহ চিত্র ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে জলদূষণ ও পরিবেশগত পরিবর্তন শনাক্ত করতেও এটি সহায়ক।

৯. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, খরা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে ও পরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে উপগ্রহ চিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১০. নগর পরিকল্পনা

শহরের বিস্তার, নতুন বসতি, রাস্তা, শিল্পাঞ্চল এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে উপগ্রহ চিত্র ব্যবহার করা হয়।


উপগ্রহ চিত্রের গুরুত্ব

উপগ্রহ চিত্র আধুনিক ভূগোল, Remote Sensing ও GIS-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর গুরুত্বগুলি হল—

১. বিস্তৃত এলাকার তথ্য

অল্প সময়ে একটি বিশাল এলাকার ভৌগোলিক তথ্য সংগ্রহ করা যায়।

২. দুর্গম এলাকার তথ্য

যেসব স্থানে সরাসরি যাওয়া কঠিন, সেসব এলাকার তথ্যও দূর থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব।

৩. সময় ও শ্রম সাশ্রয়

মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ করার পরিবর্তে উপগ্রহের সাহায্যে দ্রুত তথ্য পাওয়া যায়।

৪. পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ

বিভিন্ন সময়ের উপগ্রহ চিত্র তুলনা করে কোনো অঞ্চলের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত পরিবর্তন সহজে বোঝা যায়।

৫. বহুমুখী ব্যবহার

কৃষি, বনভূমি, জলসম্পদ, আবহাওয়া, পরিবেশ, নগর পরিকল্পনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ভূগোলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রয়েছে।

৬. ডিজিটাল বিশ্লেষণের সুবিধা

উপগ্রহ চিত্র ডিজিটাল হওয়ায় কম্পিউটার, GIS এবং Remote Sensing প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা যায়।


উপসংহার

উপগ্রহ চিত্র (Satellite Image) আধুনিক ভূগোল ও Remote Sensing-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। কৃত্রিম উপগ্রহ ও সেন্সরের সাহায্যে পৃথিবীর বিস্তীর্ণ এলাকার তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব। কৃষি, বনভূমি, জলসম্পদ, আবহাওয়া, ভূমি ব্যবহার, খনিজ সম্পদ, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উপগ্রহ চিত্রের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই পৃথিবীর ভৌগোলিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ ও সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে উপগ্রহ চিত্র একটি অপরিহার্য প্রযুক্তি।

Share:
← Back to all posts