Class XII›
Bengali ›
Geography ›
Mock Test ›
Class XI›
Class X›
Primary TET›
Upper Primary TET›
Competitive Exams›
Math ›
LIVE Access mock tests, and notes for 300+ exams
✕

পদার্থবিদ্যার মৌলিক ধারণা (Basic Concepts of Physics) | সংজ্ঞা, একক ও সূত্র

পদার্থবিদ্যার মৌলিক ধারণা (Basic Concepts of Physics) | সংজ্ঞা, একক ও সূত্র

পদার্থবিদ্যার মৌলিক ধারণা (Basic Concepts of Physics): সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, উদাহরণ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ভূমিকা (Introduction)

পদার্থবিদ্যা (Physics) হলো বিজ্ঞানের এমন একটি শাখা, যেখানে পদার্থ (Matter), শক্তি (Energy), গতি (Motion), বল (Force), স্থান (Space) এবং সময় (Time) নিয়ে আলোচনা করা হয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই পদার্থবিদ্যার ব্যবহার রয়েছে। যেমন—বৈদ্যুতিক পাখা ঘোরা, গাড়ি চলা, আলো প্রতিফলিত হওয়া, বরফ গলে জল হওয়া এবং মোবাইল ফোনের কাজ করা।

১. পদার্থবিদ্যা কী? (What is Physics?)

পদার্থবিদ্যা হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের (Natural Science) একটি শাখা, যেখানে পদার্থ, শক্তি, গতি, বল এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে আলোচনা করা হয়।

উদাহরণ:

  • আপেল মাটিতে পড়ে কেন—মহাকর্ষের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয়।

  • বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বলে কীভাবে—বিদ্যুতের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয়।

  • আয়নায় প্রতিবিম্ব তৈরি হয় কেন—আলোর প্রতিফলনের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয়।

  • গরম চায়ের কাপ ঠান্ডা হয় কেন—তাপ সঞ্চালনের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয়।

পদার্থবিদ্যার প্রধান শাখা (Major Branches of Physics)

শাখা ইংরেজি নাম আলোচ্য বিষয়
বলবিদ্যা Mechanics গতি, বল ও কাজ
তাপবিদ্যা Thermodynamics তাপ, তাপমাত্রা ও শক্তি
আলোকবিজ্ঞান Optics আলো ও আলোর ধর্ম
শব্দবিজ্ঞান Acoustics শব্দ ও শব্দ তরঙ্গ
তড়িৎবিজ্ঞান Electricity বৈদ্যুতিক আধান ও প্রবাহ
চুম্বকত্ব Magnetism চুম্বক ও চৌম্বক ক্ষেত্র
পারমাণবিক পদার্থবিদ্যা Atomic Physics পরমাণুর গঠন ও ধর্ম
নিউক্লীয় পদার্থবিদ্যা Nuclear Physics পরমাণুর নিউক্লিয়াস ও পারমাণবিক বিক্রিয়া
কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা Quantum Physics অতি ক্ষুদ্র কণার আচরণ
জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা Astrophysics নক্ষত্র, গ্রহ ও মহাবিশ্বের ভৌত ধর্ম

২. পদার্থ ও শক্তি (Matter and Energy)

পদার্থ (Matter)

যার ভর আছে এবং যা স্থান দখল করে, তাকে পদার্থ বলে।

উদাহরণ: জল, বায়ু, পাথর, লোহা, কাঠ ও দুধ।

পদার্থের প্রধান তিনটি সাধারণ অবস্থা হলো—

  1. কঠিন (Solid): নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। যেমন—লোহা, বরফ।

  2. তরল (Liquid): নির্দিষ্ট আয়তন থাকে, কিন্তু নির্দিষ্ট আকার থাকে না। যেমন—জল, তেল।

  3. গ্যাস (Gas): নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে না। যেমন—অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড।

প্লাজমা (Plasma) হলো পদার্থের আরেকটি অবস্থা, যেখানে আয়নিত কণা ও মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের পদার্থের অধিকাংশই প্লাজমা অবস্থায় রয়েছে।

শক্তি (Energy)

কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে।

শক্তির প্রধান প্রকারভেদ:

  • গতিশক্তি (Kinetic Energy): গতিশীল বস্তুর শক্তি। যেমন—চলন্ত গাড়ি।

  • বিভবশক্তি (Potential Energy): অবস্থান বা বিন্যাসের কারণে সঞ্চিত শক্তি। যেমন—উঁচুতে রাখা পাথর।

  • তাপশক্তি (Thermal Energy): পদার্থের অণু-পরমাণুর এলোমেলো গতির সঙ্গে সম্পর্কিত শক্তি।

  • রাসায়নিক শক্তি (Chemical Energy): রাসায়নিক বন্ধনে সঞ্চিত শক্তি। যেমন—জ্বালানি ও খাদ্য।

  • বৈদ্যুতিক শক্তি (Electrical Energy): বৈদ্যুতিক আধান ও তার গতির সঙ্গে সম্পর্কিত শক্তি।

  • আলোকশক্তি (Light Energy): আলো দ্বারা বহন করা শক্তি।

  • পারমাণবিক শক্তি (Nuclear Energy): পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত শক্তি।

গুরুত্বপূর্ণ সূত্র:

গতিশক্তি,

KE = ½mv²

এখানে, m = ভর এবং v = বেগ।

অভিকর্ষজ বিভবশক্তি,

PE = mgh

এখানে, m = ভর, g = অভিকর্ষজ ত্বরণ এবং h = উচ্চতা।

৩. ভৌত রাশি (Physical Quantities)

যে সমস্ত ধর্ম পরিমাপ করা যায় এবং সংখ্যামান ও এককের সাহায্যে প্রকাশ করা যায়, তাদের ভৌত রাশি বলে।

উদাহরণ: দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, বেগ ও বল।

ভৌত রাশিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

ক. মৌলিক রাশি (Fundamental Quantities)

যে রাশিগুলি অন্য রাশির সাহায্যে প্রকাশ করা হয় না এবং যেগুলিকে স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করা হয়, তাদের মৌলিক রাশি বলে।

আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতিতে (International System of Units—SI) সাতটি মৌলিক রাশি রয়েছে।

মৌলিক রাশি ইংরেজি নাম SI একক এককের প্রতীক
দৈর্ঘ্য Length মিটার m
ভর Mass কিলোগ্রাম kg
সময় Time সেকেন্ড s
তড়িৎ প্রবাহ Electric Current অ্যাম্পিয়ার A
তাপগতীয় তাপমাত্রা Thermodynamic Temperature কেলভিন K
পদার্থের পরিমাণ Amount of Substance মোল mol
দীপন তীব্রতা Luminous Intensity ক্যান্ডেলা cd

পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ: SI পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়ের একক যথাক্রমে মিটার, কিলোগ্রাম ও সেকেন্ড।

খ. লব্ধ রাশি (Derived Quantities)

যে রাশিগুলি মৌলিক রাশির সাহায্যে গাণিতিকভাবে প্রকাশ করা যায়, তাদের লব্ধ রাশি বলে।

লব্ধ রাশি ইংরেজি নাম SI একক
ক্ষেত্রফল Area বর্গমিটার (m²)
আয়তন Volume ঘনমিটার (m³)
দ্রুতি Speed মিটার/সেকেন্ড (m/s)
বেগ Velocity মিটার/সেকেন্ড (m/s)
ত্বরণ Acceleration মিটার/সেকেন্ড² (m/s²)
বল Force নিউটন (N)
কাজ Work জুল (J)
শক্তি Energy জুল (J)
ক্ষমতা Power ওয়াট (W)
চাপ Pressure পাস্কাল (Pa)
ঘনত্ব Density কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m³)

৪. একক ও একক পদ্ধতি (Units and Systems of Units)

একক (Unit)

কোনো ভৌত রাশি পরিমাপ করার জন্য গৃহীত নির্দিষ্ট মানকে ওই রাশির একক বলে।

যেমন—দৈর্ঘ্য মাপার একক মিটার, ভর মাপার একক কিলোগ্রাম এবং সময় মাপার একক সেকেন্ড।

একক পদ্ধতির প্রকারভেদ (Types of Systems of Units)

১. CGS পদ্ধতি (Centimetre-Gram-Second System): দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়ের একক যথাক্রমে সেন্টিমিটার, গ্রাম ও সেকেন্ড।

২. FPS পদ্ধতি (Foot-Pound-Second System): দৈর্ঘ্য, ভর বা বলের প্রচলিত সংজ্ঞা অনুসারে একক নির্ধারিত হয়; এই পদ্ধতির নামের মৌলিক একক হিসেবে ফুট, পাউন্ড ও সেকেন্ড ব্যবহৃত হয়।

৩. MKS পদ্ধতি (Metre-Kilogram-Second System): দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়ের একক যথাক্রমে মিটার, কিলোগ্রাম ও সেকেন্ড।

৪. SI পদ্ধতি (International System of Units): এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একক পদ্ধতি। আধুনিক বিজ্ঞান ও পরিমাপে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ একক রূপান্তর (Important Unit Conversions)

  • ১ কিলোমিটার = ১০০০ মিটার

  • ১ মিটার = ১০০ সেন্টিমিটার

  • ১ সেন্টিমিটার = ১০ মিলিমিটার

  • ১ কিলোগ্রাম = ১০০০ গ্রাম

  • ১ ঘণ্টা = ৩৬০০ সেকেন্ড

  • ১ মিনিট = ৬০ সেকেন্ড

  • ১ লিটার = ১০০০ মিলিলিটার

  • ১ ঘনমিটার = ১০০০ লিটার

  • ১ কিলোওয়াট = ১০০০ ওয়াট

  • ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ৩.৬ × ১০⁶ জুল

মনে রাখবে: কিলো (k) = ১০³, সেন্টি (c) = ১০⁻², মিলি (m) = ১০⁻³, মাইক্রো (μ) = ১০⁻⁶ এবং ন্যানো (n) = ১০⁻⁹।

৫. পরিমাপ ও পরিমাপের ত্রুটি (Measurement and Errors)

পরিমাপ (Measurement)

কোনো ভৌত রাশির মানকে নির্দিষ্ট এককের সঙ্গে তুলনা করে নির্ণয় করার পদ্ধতিকে পরিমাপ বলে।

উদাহরণ: একটি টেবিলের দৈর্ঘ্য ২ মিটার। এখানে ২ হলো সংখ্যামান এবং মিটার হলো একক।

পরিমাপের প্রধান যন্ত্র (Important Measuring Instruments)

  • মিটার স্কেল (Metre Scale): দৈর্ঘ্য মাপতে ব্যবহৃত হয়।

  • ভার্নিয়ার ক্যালিপার্স (Vernier Calipers): দৈর্ঘ্য, ব্যাস ও গভীরতা সূক্ষ্মভাবে মাপতে ব্যবহৃত হয়।

  • স্ক্রু গজ (Screw Gauge): খুব ছোট ব্যাস বা পাতের পুরুত্ব মাপতে ব্যবহৃত হয়।

  • স্টপওয়াচ (Stopwatch): সময়ের ব্যবধান মাপতে ব্যবহৃত হয়।

  • সাধারণ ব্যালান্স (Balance): ভর মাপতে ব্যবহৃত হয়।

  • থার্মোমিটার (Thermometer): তাপমাত্রা মাপতে ব্যবহৃত হয়।

পরিমাপের ত্রুটি (Measurement Errors)

পরিমাপ করা মান এবং প্রকৃত মানের মধ্যে পার্থক্যকে পরিমাপের ত্রুটি বলা হয়।

ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ প্রকারভেদ:

১. পদ্ধতিগত ত্রুটি (Systematic Error): পরিমাপের যন্ত্র, পদ্ধতি বা পরিবেশের কারণে নির্দিষ্ট নিয়মে ত্রুটি ঘটে।

২. আকস্মিক ত্রুটি (Random Error): অনিয়মিত ও অনির্দেশ্য কারণে পরিমাপে পরিবর্তন ঘটে।

৩. স্থূল ত্রুটি (Gross Error): অসাবধানতা, ভুল পাঠ বা ভুল হিসাবের কারণে ঘটে।

৪. শূন্য ত্রুটি (Zero Error): কোনো যন্ত্রের প্রকৃত শূন্য অবস্থায় পাঠ শূন্য না হলে যে ত্রুটি দেখা যায়।

ত্রুটি নির্ণয়ের সূত্র

পরম ত্রুটি (Absolute Error):

পরম ত্রুটি = |পরিমাপ করা মান − প্রকৃত বা গৃহীত রেফারেন্স মান|

শতকরা ত্রুটি (Percentage Error):

শতকরা ত্রুটি = (পরম ত্রুটি ÷ প্রকৃত বা গৃহীত রেফারেন্স মান) × ১০০%

৬. স্কেলার ও ভেক্টর রাশি (Scalar and Vector Quantities)

স্কেলার রাশি (Scalar Quantity)

যে ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য শুধু মান ও একক প্রয়োজন হয়, তাকে স্কেলার রাশি বলে।

উদাহরণ:

  • ভর (Mass)

  • সময় (Time)

  • দূরত্ব (Distance)

  • দ্রুতি (Speed)

  • তাপমাত্রা (Temperature)

  • কাজ (Work)

  • শক্তি (Energy)

ভেক্টর রাশি (Vector Quantity)

যে ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য মান, একক এবং দিকের প্রয়োজন হয়, তাকে ভেক্টর রাশি বলে।

উদাহরণ:

  • সরণ (Displacement)

  • বেগ (Velocity)

  • ত্বরণ (Acceleration)

  • বল (Force)

  • ভরবেগ (Momentum)

স্কেলার ও ভেক্টরের পার্থক্য

বিষয় স্কেলার রাশি ভেক্টর রাশি
প্রকাশের জন্য মান ও একক মান, একক ও দিক
যোগের নিয়ম সাধারণ বীজগাণিতিক নিয়ম ভেক্টর যোগের নিয়ম
উদাহরণ ভর, সময়, দ্রুতি বল, বেগ, সরণ

বিশেষ তথ্য: দূরত্ব একটি স্কেলার রাশি, কিন্তু সরণ একটি ভেক্টর রাশি। একইভাবে দ্রুতি স্কেলার, কিন্তু বেগ ভেক্টর।

৭. মাত্রা ও মাত্রিক সমীকরণ (Dimensions and Dimensional Equations)

মাত্রা (Dimensions)

কোনো ভৌত রাশিকে মৌলিক রাশির ঘাতের সাহায্যে প্রকাশ করলে সেই ঘাতগুলিকে ওই রাশির মাত্রা বলা হয়।

সাধারণত যান্ত্রিক রাশির মাত্রা নির্ণয়ে ভর (M), দৈর্ঘ্য (L) এবং সময় (T) ব্যবহার করা হয়।

মাত্রিক সমীকরণ (Dimensional Equation)

কোনো ভৌত রাশিকে মৌলিক রাশির মাত্রার সাহায্যে প্রকাশ করাকে মাত্রিক সমীকরণ বলে।

গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ:

ভৌত রাশি মাত্রিক সমীকরণ
ক্ষেত্রফল [L²]
আয়তন [L³]
দ্রুতি [LT⁻¹]
বেগ [LT⁻¹]
ত্বরণ [LT⁻²]
ভরবেগ [MLT⁻¹]
বল [MLT⁻²]
কাজ বা শক্তি [ML²T⁻²]
ক্ষমতা [ML²T⁻³]
চাপ [ML⁻¹T⁻²]
ঘনত্ব [ML⁻³]

মাত্রিক বিশ্লেষণের ব্যবহার (Uses of Dimensional Analysis)

১. ভৌত সমীকরণের মাত্রাগত সামঞ্জস্য যাচাই করা।

২. একক পদ্ধতি পরিবর্তন করার সময় রাশির সম্পর্ক বুঝতে সাহায্য করা।

৩. ভৌত রাশিগুলির মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক নির্ণয়ে সাহায্য করা।

সীমাবদ্ধতা: মাত্রিক বিশ্লেষণ দিয়ে সাধারণত কোনো সমীকরণের সংখ্যাগত ধ্রুবক, যেমন ২ বা ½, নির্ণয় করা যায় না। আবার ত্রিকোণমিতিক, সূচকীয় বা লগারিদমিক সম্পর্কের সম্পূর্ণ রূপও শুধু মাত্রা থেকে নির্ণয় করা যায় না।

৮. নির্ভুলতা ও সূক্ষ্মতা (Accuracy and Precision)

নির্ভুলতা (Accuracy) হলো পরিমাপ করা মান প্রকৃত বা গৃহীত রেফারেন্স মানের কতটা কাছাকাছি।

সূক্ষ্মতা (Precision) হলো একই পরিমাপ বারবার করলে ফলাফলগুলি পরস্পরের কতটা কাছাকাছি থাকে।

উদাহরণ: কোনো বস্তুর প্রকৃত দৈর্ঘ্য ১০ সেন্টিমিটার। একটি যন্ত্রে বারবার ১০.০ সেন্টিমিটার পাঠ পাওয়া গেলে পাঠগুলি পরস্পরের কাছাকাছি হওয়ায় সূক্ষ্মতা বেশি। প্রকৃত মানের কাছাকাছি ফল পাওয়া গেলে নির্ভুলতাও বেশি।

নির্ভুলতা ও সূক্ষ্মতা একই বিষয় নয়।

৯. গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ধ্রুবক (Important Physical Constants)

ধ্রুবক আনুমানিক মান
শূন্যস্থানে আলোর বেগ (Speed of Light in Vacuum) ৩ × ১০⁸ m/s
অভিকর্ষজ ত্বরণ (Acceleration Due to Gravity) প্রায় ৯.৮ m/s²
সার্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক (Universal Gravitational Constant) ৬.৬৭ × ১০⁻¹¹ N·m²/kg²
প্ল্যাঙ্ক ধ্রুবক (Planck Constant) প্রায় ৬.৬২৬ × ১০⁻³⁴ J·s
মৌলিক আধানের মান (Elementary Charge) প্রায় ১.৬০২ × ১০⁻¹⁹ C
পরম শূন্য তাপমাত্রা (Absolute Zero) ০ K = −২৭৩.১৫°C

পরীক্ষায় মনে রাখবে: আলোর বেগের সঠিক সংজ্ঞায়িত মান শূন্যস্থানে ২৯৯,৭৯২,৪৫৮ মিটার/সেকেন্ড। অভিকর্ষজ ত্বরণ স্থান ও উচ্চতাভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।

১০. গুরুত্বপূর্ণ সূত্র একনজরে (Important Formulae at a Glance)

বিষয় সূত্র
দ্রুতি দূরত্ব ÷ সময়
গড় বেগ মোট সরণ ÷ মোট সময়
ত্বরণ বেগের পরিবর্তন ÷ সময়
ঘনত্ব ভর ÷ আয়তন
বল ভর × ত্বরণ
কাজ বল × সরণের বলের দিকের উপাংশ
ক্ষমতা কাজ ÷ সময়
গতিশক্তি ½mv²
বিভবশক্তি mgh
চাপ বল ÷ ক্ষেত্রফল
ভরবেগ ভর × বেগ
বৈদ্যুতিক ক্ষমতা P = VI

এখানে m = ভর, v = বেগ, a = ত্বরণ, h = উচ্চতা, V = বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্য এবং I = বৈদ্যুতিক প্রবাহ।

১১. প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Important Facts for Competitive Exams)

১. SI পদ্ধতিতে মৌলিক রাশির সংখ্যা ৭টি।

২. বলের SI একক নিউটন (N)।

৩. কাজ ও শক্তির SI একক জুল (J)।

৪. ক্ষমতার SI একক ওয়াট (W)।

৫. চাপের SI একক পাস্কাল (Pa)।

৬. বৈদ্যুতিক প্রবাহের SI একক অ্যাম্পিয়ার (A)।

৭. তাপগতীয় তাপমাত্রার SI একক কেলভিন (K)।

৮. শূন্যস্থানে আলোর বেগ প্রায় ৩ × ১০⁸ m/s।

৯. দ্রুতি একটি স্কেলার রাশি, কিন্তু বেগ একটি ভেক্টর রাশি।

১০. দূরত্ব একটি স্কেলার রাশি, কিন্তু সরণ একটি ভেক্টর রাশি।

১১. ভর সাধারণত স্থানভেদে অপরিবর্তিত থাকে, কিন্তু বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভর করে।

১২. জুল (J) কাজ ও শক্তি—উভয়ের SI একক।

১৩. মাত্রিক বিশ্লেষণ ভৌত সমীকরণের সামঞ্জস্য যাচাই করতে সাহায্য করে।

১৪. তাপমাত্রার SI একক কেলভিন; ডিগ্রি সেলসিয়াস দৈনন্দিন ব্যবহারে প্রচলিত।

১৫. কিলোওয়াট (kW) ক্ষমতার একক, কিন্তু কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) শক্তির একক।

১২. অনুশীলনী MCQ (Practice Multiple-Choice Questions)

প্রশ্ন ১: SI পদ্ধতিতে মৌলিক রাশির সংখ্যা কত?

ক) ৫টি
খ) ৬টি
গ) ৭টি
ঘ) ৮টি

সঠিক উত্তর: গ) ৭টি।

প্রশ্ন ২: বলের SI একক কী?

ক) জুল
খ) নিউটন
গ) ওয়াট
ঘ) পাস্কাল

সঠিক উত্তর: খ) নিউটন।

প্রশ্ন ৩: নিচের কোনটি স্কেলার রাশি?

ক) বল
খ) বেগ
গ) সরণ
ঘ) দ্রুতি

সঠিক উত্তর: ঘ) দ্রুতি।

প্রশ্ন ৪: কাজ ও শক্তির SI একক কোনটি?

ক) নিউটন
খ) জুল
গ) ওয়াট
ঘ) অ্যাম্পিয়ার

সঠিক উত্তর: খ) জুল।

প্রশ্ন ৫: চাপের মাত্রিক সমীকরণ কোনটি?

ক) [MLT⁻²]
খ) [ML²T⁻²]
গ) [ML⁻¹T⁻²]
ঘ) [ML²T⁻³]

সঠিক উত্তর: গ) [ML⁻¹T⁻²]।

প্রশ্ন ৬: ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা সমান কত জুল?

ক) ৩৬০০ J
খ) ৩.৬ × ১০⁴ J
গ) ৩.৬ × ১০⁶ J
ঘ) ১০⁶ J

সঠিক উত্তর: গ) ৩.৬ × ১০⁶ J।

প্রশ্ন ৭: তাপগতীয় তাপমাত্রার SI একক কী?

ক) ডিগ্রি সেলসিয়াস
খ) কেলভিন
গ) জুল
ঘ) ক্যালোরি

সঠিক উত্তর: খ) কেলভিন।

প্রশ্ন ৮: নিচের কোনটি লব্ধ রাশি?

ক) দৈর্ঘ্য
খ) ভর
গ) সময়
ঘ) বল

সঠিক উত্তর: ঘ) বল।

উপসংহার (Conclusion)

পদার্থবিদ্যার মৌলিক ধারণা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির ভিত্তি। ভৌত রাশি, SI একক, পরিমাপ, স্কেলার ও ভেক্টর, মাত্রিক সমীকরণ এবং বৈজ্ঞানিক ধ্রুবক ভালোভাবে আয়ত্ত করলে পদার্থবিদ্যার পরবর্তী অধ্যায়গুলি বুঝতে সুবিধা হয়। 

প্রস্তুতির কৌশল: প্রতিদিন একটি করে বিষয় পড়ুন, গুরুত্বপূর্ণ একক ও সূত্রের তালিকা তৈরি করুন এবং বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করুন।

Share:
← Back to all posts