Class XII›
Bengali ›
Geography ›
Mock Test ›
Class XI›
Class X›
Primary TET›
Upper Primary TET›
Competitive Exams›
Math ›
LIVE Access mock tests, and notes for 300+ exams
✕

ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন (Electron, Proton & Neutron)

ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন (Electron, Proton & Neutron)

ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন (Electron, Proton & Neutron): গঠন, বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ভূমিকা

পদার্থের (Matter—বস্তু) ক্ষুদ্রতম গঠনগত এককগুলির মধ্যে পরমাণু (Atom—অতি ক্ষুদ্র কণা) অন্যতম। একটি পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে থাকে নিউক্লিয়াস (Nucleus—কেন্দ্রক) এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে বিভিন্ন শক্তিস্তর (Energy level—শক্তির স্তর) বা অরবিটাল (Orbital—ইলেকট্রনের অবস্থানের সম্ভাব্য অঞ্চল)-এ ইলেকট্রন অবস্থান করে।

পরমাণুর প্রধান তিনটি উপ-পারমাণবিক কণা (Subatomic particles—পরমাণুর চেয়েও ক্ষুদ্র কণা) হল—

  1. ইলেকট্রন (Electron—ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণা)

  2. প্রোটন (Proton—ধনাত্মক আধানযুক্ত কণা)

  3. নিউট্রন (Neutron—আধানহীন কণা)

এই তিনটি কণার ভর, আধান, অবস্থান এবং ভূমিকা এক নয়। পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number—Z) ও ভরসংখ্যা (Mass number—A) বোঝার ক্ষেত্রে প্রোটন ও নিউট্রনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।


1. ইলেকট্রন (Electron—ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণা)

ইলেকট্রন (Electron—ঋণাত্মক আধানযুক্ত উপ-পারমাণবিক কণা) হল পরমাণুর অন্যতম মৌলিক কণা। এটি নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে।

ইলেকট্রনের বৈদ্যুতিক আধান ঋণাত্মক।

ইলেকট্রনের প্রধান বৈশিষ্ট্য

বৈশিষ্ট্য তথ্য
কণার নাম ইলেকট্রন (Electron—ঋণাত্মক কণা)
প্রতীক e⁻
আধান −1e
SI এককে আধান −1.602 × 10⁻¹⁹ C
আপেক্ষিক ভর প্রায় 1/1836
অবস্থান নিউক্লিয়াসের বাইরে
আবিষ্কার J. J. Thomson
আবিষ্কারের সাল 1897

ইলেকট্রনের ভর প্রোটনের তুলনায় অত্যন্ত কম। তাই সাধারণ পরমাণুর মোট ভরের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনের অবদান খুবই সামান্য।

উদাহরণ

একটি নিরপেক্ষ হাইড্রোজেন পরমাণু (Hydrogen atom—হাইড্রোজেনের পরমাণু)-তে থাকে—

  • 1টি প্রোটন

  • 1টি ইলেকট্রন

  • সাধারণ হাইড্রোজেনে 1টি নিউট্রন থাকে না।


2. প্রোটন (Proton—ধনাত্মক আধানযুক্ত কণা)

প্রোটন (Proton—ধনাত্মক আধানযুক্ত উপ-পারমাণবিক কণা) নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থান করে। প্রোটনের আধান ইলেকট্রনের আধানের সমান মানের কিন্তু বিপরীত প্রকৃতির।

প্রোটনের আধান ধনাত্মক।

প্রোটনের প্রধান বৈশিষ্ট্য

বৈশিষ্ট্য তথ্য
কণার নাম প্রোটন (Proton—ধনাত্মক কণা)
প্রতীক p⁺
আধান +1e
SI এককে আধান +1.602 × 10⁻¹⁹ C
আপেক্ষিক ভর প্রায় 1
অবস্থান নিউক্লিয়াসের ভিতরে
আবিষ্কার Ernest Rutherford
আবিষ্কারের সময় 1917–1919

প্রোটনের গুরুত্ব

কোনো মৌলের পরমাণুতে কতটি প্রোটন রয়েছে, সেটিই নির্ধারণ করে সেই মৌলটি কোনটি।

অর্থাৎ—

পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number—Z) = প্রোটনের সংখ্যা

যেমন—

  • হাইড্রোজেন → 1টি প্রোটন → Atomic number = 1

  • কার্বন → 6টি প্রোটন → Atomic number = 6

  • অক্সিজেন → 8টি প্রোটন → Atomic number = 8

  • সোডিয়াম → 11টি প্রোটন → Atomic number = 11

তাই কোনো পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা পরিবর্তিত হলে সেটি অন্য মৌলে পরিণত হবে।


3. নিউট্রন (Neutron—আধানহীন কণা)

নিউট্রন (Neutron—আধানহীন উপ-পারমাণবিক কণা) হল এমন একটি কণা যার কোনো বৈদ্যুতিক আধান নেই। এটি সাধারণত পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সঙ্গে অবস্থান করে।

নিউট্রনের প্রধান বৈশিষ্ট্য

বৈশিষ্ট্য তথ্য
কণার নাম নিউট্রন (Neutron—আধানহীন কণা)
প্রতীক n⁰
আধান 0
আপেক্ষিক ভর প্রায় 1
অবস্থান নিউক্লিয়াসের ভিতরে
আবিষ্কার James Chadwick
আবিষ্কারের সাল 1932

নিউট্রনের ভর প্রোটনের তুলনায় সামান্য বেশি।


ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের তুলনা

বৈশিষ্ট্য ইলেকট্রন প্রোটন নিউট্রন
English নাম Electron Proton Neutron
বাংলা অর্থ ঋণাত্মক কণা ধনাত্মক কণা আধানহীন কণা
প্রতীক e⁻ p⁺ n⁰
বৈদ্যুতিক আধান −1 +1 0
SI আধান −1.602 × 10⁻¹⁹ C +1.602 × 10⁻¹⁹ C 0
আপেক্ষিক ভর 1/1836 প্রায় 1 প্রায় 1
অবস্থান নিউক্লিয়াসের বাইরে নিউক্লিয়াসের ভিতরে নিউক্লিয়াসের ভিতরে
আবিষ্কারক J. J. Thomson Ernest Rutherford James Chadwick
আবিষ্কারের সাল 1897 1917–1919 1932

পরমাণুর নিউক্লিয়াস (Nucleus—কেন্দ্রক)

পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত ঘন ও ক্ষুদ্র অংশকে নিউক্লিয়াস (Nucleus—কেন্দ্রক) বলে।

নিউক্লিয়াসে প্রধানত থাকে—

প্রোটন + নিউট্রন = নিউক্লিয়ন (Nucleons—নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন ও নিউট্রন)

ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

পরমাণুর অধিকাংশ ভর নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত থাকে, কারণ প্রোটন ও নিউট্রনের ভর ইলেকট্রনের তুলনায় অনেক বেশি।


পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number—পারমাণবিক সংখ্যা)

কোনো মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতগুলি প্রোটন থাকে, সেই সংখ্যাকে পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number—Z) বলে।

সূত্র

Z = প্রোটনের সংখ্যা

নিরপেক্ষ পরমাণুর ক্ষেত্রে—

প্রোটনের সংখ্যা = ইলেকট্রনের সংখ্যা

উদাহরণ

কার্বন (Carbon—কার্বন)-এর পারমাণবিক সংখ্যা 6।

অতএব,

প্রোটন = 6
নিরপেক্ষ কার্বনে ইলেকট্রন = 6


ভরসংখ্যা (Mass Number—ভরসংখ্যা)

একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত মোট প্রোটন (Proton—ধনাত্মক কণা) এবং নিউট্রন (Neutron—আধানহীন কণা)-এর সংখ্যার যোগফলকে ভরসংখ্যা (Mass Number—A) বলে।

সূত্র

A = প্রোটনের সংখ্যা + নিউট্রনের সংখ্যা

অর্থাৎ,

A = Z + N

এখানে—

  • A = ভরসংখ্যা

  • Z = পারমাণবিক সংখ্যা

  • N = নিউট্রনের সংখ্যা

তাই,

নিউট্রনের সংখ্যা = A − Z

উদাহরণ

সোডিয়াম-23-এর ক্ষেত্রে—

  • পারমাণবিক সংখ্যা = 11

  • ভরসংখ্যা = 23

সুতরাং,

নিউট্রন = 23 − 11 = 12

অতএব সোডিয়াম-23-এ থাকে—

  • 11টি প্রোটন

  • 12টি নিউট্রন

  • 11টি ইলেকট্রন


নিরপেক্ষ পরমাণু (Neutral Atom—আধান-নিরপেক্ষ পরমাণু)

যে পরমাণুতে প্রোটনের সংখ্যা ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান, তাকে নিরপেক্ষ পরমাণু (Neutral Atom—মোট আধান শূন্য এমন পরমাণু) বলে।

যেমন—

অক্সিজেনের Atomic number = 8

তাই নিরপেক্ষ অক্সিজেনে—

  • প্রোটন = 8

  • ইলেকট্রন = 8

মোট ধনাত্মক আধান = মোট ঋণাত্মক আধান

তাই মোট আধান = 0।


আয়ন (Ion—আধানযুক্ত পরমাণু বা পরমাণুগুচ্ছ)

কোনো পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ বা ত্যাগ করলে সেটি আয়ন (Ion—আধানযুক্ত কণা)-এ পরিণত হয়।

আয়ন প্রধানত দুই ধরনের—

ক্যাটায়ন (Cation—ধনাত্মক আয়ন)

কোনো পরমাণু ইলেকট্রন ত্যাগ করলে ধনাত্মক আয়ন তৈরি হয়।

উদাহরণ:

Na → Na⁺ + e⁻

সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Na⁺ (Sodium ion—সোডিয়াম ধনাত্মক আয়ন) তৈরি করে।

অ্যানায়ন (Anion—ঋণাত্মক আয়ন)

কোনো পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ করলে ঋণাত্মক আয়ন তৈরি হয়।

উদাহরণ:

Cl + e⁻ → Cl⁻

ক্লোরিন একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cl⁻ (Chloride ion—ক্লোরাইড ঋণাত্মক আয়ন) তৈরি করে।

পরীক্ষায় মনে রাখুন

ইলেকট্রন ত্যাগ → ধনাত্মক আয়ন (Cation—ক্যাটায়ন)
ইলেকট্রন গ্রহণ → ঋণাত্মক আয়ন (Anion—অ্যানায়ন)


সমস্থানিক (Isotopes—সমান পারমাণবিক সংখ্যার ভিন্ন ভরসংখ্যার পরমাণু)

একই মৌলের যেসব পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number—Z) সমান কিন্তু ভরসংখ্যা (Mass Number—A) ভিন্ন, তাদের সমস্থানিক (Isotopes—একই মৌলের ভিন্ন ভরসংখ্যার পরমাণু) বলে।

এর কারণ হল তাদের প্রোটন সংখ্যা একই, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন।

উদাহরণ: হাইড্রোজেনের সমস্থানিক

হাইড্রোজেনের প্রধান তিনটি সমস্থানিক হল—

  1. প্রোটিয়াম (Protium—হাইড্রোজেন-1)

    • 1 প্রোটন

    • 0 নিউট্রন

    • 1 ইলেকট্রন

  2. ডিউটেরিয়াম (Deuterium—হাইড্রোজেন-2)

    • 1 প্রোটন

    • 1 নিউট্রন

    • 1 ইলেকট্রন

  3. ট্রিটিয়াম (Tritium—হাইড্রোজেন-3)

    • 1 প্রোটন

    • 2 নিউট্রন

    • 1 ইলেকট্রন

তিনটিরই Atomic number = 1, কিন্তু Mass number আলাদা।


সমনিউট্রন (Isotones—সমান নিউট্রন সংখ্যার পরমাণু)

যেসব ভিন্ন মৌলের পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা আলাদা, তাদের সমনিউট্রন (Isotones—সমান নিউট্রন সংখ্যার পরমাণু) বলে।

উদাহরণ

কার্বন-14:

  • প্রোটন = 6

  • নিউট্রন = 8

নাইট্রোজেন-15:

  • প্রোটন = 7

  • নিউট্রন = 8

অতএব এরা Isotones (সমনিউট্রন)।


সমভর (Isobars—সমান ভরসংখ্যার ভিন্ন মৌলের পরমাণু)

যেসব ভিন্ন মৌলের পরমাণুর ভরসংখ্যা (Mass Number—A) একই কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা আলাদা, তাদের সমভর (Isobars—সমান ভরসংখ্যার পরমাণু) বলে।

উদাহরণ

Argon-40 এবং Calcium-40

Argon:

  • Z = 18

  • A = 40

Calcium:

  • Z = 20

  • A = 40

তাই এরা Isobars (সমভর)।


কোয়ার্ক (Quark—প্রোটন ও নিউট্রনের গঠনকারী মৌলিক কণা)

প্রোটন ও নিউট্রনকে আর সম্পূর্ণ মৌলিক কণা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এগুলি হ্যাড্রন (Hadron—কোয়ার্ক দ্বারা গঠিত কণা) এবং ব্যারিয়ন (Baryon—তিনটি কোয়ার্ক দ্বারা গঠিত হ্যাড্রন) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

প্রোটনের গঠন

প্রোটন গঠিত—

2টি Up quark (আপ কোয়ার্ক) + 1টি Down quark (ডাউন কোয়ার্ক)

অর্থাৎ—

p = uud

নিউট্রনের গঠন

নিউট্রন গঠিত—

1টি Up quark (আপ কোয়ার্ক) + 2টি Down quark (ডাউন কোয়ার্ক)

অর্থাৎ—

n = udd

প্রতিটি Quark (কোয়ার্ক)-এর ভগ্নাংশ আধান রয়েছে।


ইলেকট্রন কেন আলাদা?

ইলেকট্রন একটি লেপ্টন (Lepton—এক ধরনের মৌলিক উপ-পারমাণবিক কণা)।

অন্যদিকে প্রোটন ও নিউট্রন হল হ্যাড্রন (Hadron—কোয়ার্ক দ্বারা গঠিত কণা)।

তাই—

Electron → Lepton

Proton + Neutron → Baryon → Hadron

এটি আধুনিক কণাপদার্থবিদ্যার (Particle Physics—মৌলিক কণা নিয়ে বিজ্ঞান) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


ইলেকট্রনের শক্তিস্তর (Energy Level—শক্তিস্তর)

ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারদিকে নির্দিষ্ট শক্তিস্তর বা Shell (ইলেকট্রন শক্তিস্তর)-এ অবস্থান করতে পারে।

প্রধান শক্তিস্তরগুলিকে সাধারণত K, L, M, N ইত্যাদি দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

Shell প্রধান Quantum Number
K n = 1
L n = 2
M n = 3
N n = 4

কোনো ইলেকট্রন এক শক্তিস্তর থেকে অন্য শক্তিস্তরে গেলে শক্তির পরিবর্তন ঘটে।


ইলেকট্রন বিন্যাস (Electronic Configuration—ইলেকট্রনের বিন্যাস)

কোনো পরমাণুর বিভিন্ন শক্তিস্তর বা অরবিটালে ইলেকট্রন কীভাবে সাজানো থাকে, তাকে ইলেকট্রন বিন্যাস (Electronic Configuration—ইলেকট্রনের বিন্যাস) বলে।

উদাহরণ: সোডিয়াম

সোডিয়ামের Atomic number = 11।

তাই নিরপেক্ষ সোডিয়ামে 11টি ইলেকট্রন থাকে।

Shell অনুযায়ী বিন্যাস:

2, 8, 1

অর্থাৎ—

K = 2
L = 8
M = 1

শেষ শক্তিস্তরে 1টি ইলেকট্রন থাকার কারণে সোডিয়াম সহজে সেই ইলেকট্রন ত্যাগ করে Na⁺ তৈরি করে।


ইলেকট্রনের গুরুত্ব

ইলেকট্রন বিভিন্ন রাসায়নিক ও বৈদ্যুতিক ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রধান ভূমিকা

  • রাসায়নিক বন্ধন (Chemical Bond—রাসায়নিক বন্ধন) তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

  • আয়ন (Ion—আধানযুক্ত কণা) তৈরিতে অংশগ্রহণ করে।

  • বিদ্যুৎ প্রবাহ (Electric Current—বৈদ্যুতিক প্রবাহ)-এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

  • জারণ-বিজারণ (Oxidation-Reduction—জারণ ও বিজারণ) বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে।

  • পরমাণুর রাসায়নিক ধর্ম (Chemical Property—রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য) নির্ধারণে বহিঃস্থ ইলেকট্রনের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।


প্রোটন ও নিউট্রনের গুরুত্ব

প্রোটন ও নিউট্রন একসঙ্গে নিউক্লিয়াস গঠন করে।

প্রোটনের প্রধান ভূমিকা

  • মৌলের পরিচয় নির্ধারণ করে।

  • Atomic number নির্ধারণ করে।

  • নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানের জন্য দায়ী।

নিউট্রনের প্রধান ভূমিকা

  • নিউক্লিয়াসের ভরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রদান করে।

  • সমস্থানিকের ভিন্নতা সৃষ্টি করে।

  • নিউক্লিয়াসের স্থায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  • পারমাণবিক বিক্রিয়া (Nuclear Reaction—নিউক্লিয় বিক্রিয়া)-তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


পারমাণবিক স্থায়িত্ব (Nuclear Stability—নিউক্লিয়াসের স্থায়িত্ব)

নিউক্লিয়াসে প্রোটনগুলির মধ্যে তড়িৎচুম্বকীয় বিকর্ষণ (Electromagnetic Repulsion—বৈদ্যুতিক বিকর্ষণ) কাজ করে। কিন্তু নিউক্লিয়াসের ভিতরে শক্তিশালী নিউক্লীয় বল (Strong Nuclear Force—অত্যন্ত শক্তিশালী আকর্ষণ বল) প্রোটন ও নিউট্রনকে একসঙ্গে ধরে রাখে।

বড় নিউক্লিয়াসে নিউট্রনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়া নিউক্লিয়াসের স্থায়িত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াস তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity—স্বতঃস্ফূর্ত বিকিরণ) প্রদর্শন করতে পারে।


তেজস্ক্রিয়তা ও উপ-পারমাণবিক কণা

তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity—অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত বিকিরণ)-র ক্ষেত্রে বিভিন্ন কণা বা বিকিরণ নির্গত হতে পারে।

আলফা কণা (Alpha Particle—হিলিয়াম নিউক্লিয়াস)

আলফা কণা মূলত—

2টি প্রোটন + 2টি নিউট্রন

দিয়ে গঠিত।

বিটা কণা (Beta Particle—উচ্চ-গতির ইলেকট্রন বা পজিট্রন)

Beta-minus (β⁻) ক্ষয়ে একটি ইলেকট্রন নির্গত হয়।

গামা রশ্মি (Gamma Ray—উচ্চ শক্তির তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ)

গামা রশ্মি কোনো কণা নয়; এটি উচ্চ শক্তির Electromagnetic Radiation (তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ)।


পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

সূত্র ১

Atomic Number (Z) = Number of Protons

অর্থাৎ,

পারমাণবিক সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা

সূত্র ২

নিরপেক্ষ পরমাণুর ক্ষেত্রে—

Number of Protons = Number of Electrons

সূত্র ৩

Mass Number (A) = Number of Protons + Number of Neutrons

সূত্র ৪

Number of Neutrons = A − Z

সূত্র ৫

আধানের ক্ষেত্রে—

Net Charge = Number of Protons − Number of Electrons


গুরুত্বপূর্ণ MCQ তথ্য

প্রশ্ন ১

ইলেকট্রন কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: J. J. Thomson

প্রশ্ন ২

নিউট্রন কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: James Chadwick

প্রশ্ন ৩

পারমাণবিক সংখ্যা কী নির্দেশ করে?

উত্তর: প্রোটনের সংখ্যা

প্রশ্ন ৪

ভরসংখ্যা কীসের সমান?

উত্তর: প্রোটন + নিউট্রন

প্রশ্ন ৫

নিরপেক্ষ পরমাণুতে প্রোটন ও ইলেকট্রনের সম্পর্ক কী?

উত্তর: সংখ্যা সমান

প্রশ্ন ৬

ইলেকট্রনের আধান কী?

উত্তর: ঋণাত্মক

প্রশ্ন ৭

নিউট্রনের আধান কত?

উত্তর: শূন্য

প্রশ্ন ৮

প্রোটন ও নিউট্রনকে একত্রে কী বলা হয়?

উত্তর: নিউক্লিয়ন (Nucleons—নিউক্লিয়াসের কণা)

প্রশ্ন ৯

প্রোটন ও নিউট্রন কোন শ্রেণির কণা?

উত্তর: ব্যারিয়ন (Baryons—তিন কোয়ার্ক-গঠিত কণা)

প্রশ্ন ১০

ইলেকট্রন কোন শ্রেণির মৌলিক কণা?

উত্তর: লেপ্টন (Lepton—মৌলিক কণার একটি শ্রেণি)


গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ইলেকট্রন (Electron—ঋণাত্মক কণা)
→ আধান = −1
→ নিউক্লিয়াসের বাইরে
→ আবিষ্কারক = J. J. Thomson
→ আপেক্ষিক ভর ≈ 1/1836

প্রোটন (Proton—ধনাত্মক কণা)
→ আধান = +1
→ নিউক্লিয়াসের ভিতরে
→ Atomic number নির্ধারণ করে
→ গঠন = 2 Up + 1 Down quark

নিউট্রন (Neutron—আধানহীন কণা)
→ আধান = 0
→ নিউক্লিয়াসের ভিতরে
→ আবিষ্কারক = James Chadwick
→ গঠন = 1 Up + 2 Down quark

পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number—Z)
→ প্রোটনের সংখ্যা

ভরসংখ্যা (Mass Number—A)
→ প্রোটন + নিউট্রন

নিউক্লিয়ন (Nucleon—নিউক্লিয়াসের কণা)
→ প্রোটন + নিউট্রন


উপসংহার

ইলেকট্রন (Electron—ঋণাত্মক কণা), প্রোটন (Proton—ধনাত্মক কণা) ও নিউট্রন (Neutron—আধানহীন কণা) পরমাণুর গঠন বোঝার মৌলিক ভিত্তি। প্রোটন কোনো মৌলের পরিচয় বা পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number—Z) নির্ধারণ করে, প্রোটন ও নিউট্রনের সম্মিলিত সংখ্যা ভরসংখ্যা (Mass Number—A) নির্ধারণ করে এবং ইলেকট্রনের বিন্যাস মূলত পরমাণুর রাসায়নিক আচরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Share:
← Back to all posts