Class XII›
Bengali ›
Geography ›
Mock Test ›
Class XI›
Class X›
Primary TET›
Upper Primary TET›
Competitive Exams›
Math ›
LIVE Access mock tests, and notes for 300+ exams
✕

রক্ত সংবহন (Blood Circulation): প্রকার, পথ, কাজ ও মানবদেহে গুরুত্ব

রক্ত সংবহন (Blood Circulation): প্রকার, পথ, কাজ ও মানবদেহে গুরুত্ব

রক্ত সংবহন (Blood Circulation) হলো মানবদেহে রক্তের একটি নির্দিষ্ট ও অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ-প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের সাহায্যে রক্ত সারা শরীরে পরিবাহিত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও কোষে অক্সিজেন, পুষ্টি, হরমোন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদার্থ পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে কোষে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড ও বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থ নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেওয়া হয়, যাতে সেগুলি শরীর থেকে অপসারিত হতে পারে।

মানবদেহে হৃদপিণ্ড (Heart), ধমনী (Artery), শিরা (Vein) এবং কৈশিক জালিকা (Capillary) একসঙ্গে কাজ করে রক্ত সংবহন তন্ত্র বা Circulatory System গঠন করে।

রক্ত সংবহন কী?

হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত নির্দিষ্ট পথে সারা শরীরে চলাচল করে। হৃদপিণ্ড রক্তকে পাম্প করে প্রথমে ধমনীর মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গে পাঠায়। অঙ্গগুলির কাছে ধমনীগুলি ক্রমশ সরু হয়ে কৈশিক জালিকায় পরিণত হয়। কৈশিক জালিকায় রক্ত ও দেহকোষের মধ্যে অক্সিজেন, পুষ্টি, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও বর্জ্য পদার্থের আদান-প্রদান ঘটে। এরপর রক্ত শিরার মাধ্যমে আবার হৃদপিণ্ডে ফিরে আসে।

অর্থাৎ, রক্ত সংবহন একটি নিরবচ্ছিন্ন ও চক্রাকার প্রক্রিয়া।

রক্ত সংবহনের প্রধান উপাদান

রক্ত সংবহনে প্রধানত চারটি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ—

  1. হৃদপিণ্ড (Heart) — রক্ত পাম্প করে।
  2. ধমনী (Artery) — হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত বিভিন্ন অঙ্গে নিয়ে যায়।
  3. কৈশিক জালিকা (Capillary) — রক্ত ও কোষের মধ্যে পদার্থের আদান-প্রদান ঘটায়।
  4. শিরা (Vein) — বিভিন্ন অঙ্গ থেকে রক্ত হৃদপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে।

রক্ত সংবহনের প্রকারভেদ

মানবদেহে রক্ত সংবহন প্রধানত নিম্নলিখিতভাবে আলোচনা করা হয়—

১. ফুসফুসীয় সংবহন (Pulmonary Circulation)

হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের মধ্যে যে রক্ত সংবহন ঘটে তাকে ফুসফুসীয় সংবহন বা Pulmonary Circulation বলে।

এই সংবহনে অক্সিজেন-স্বল্প বা deoxygenated blood হৃদপিণ্ড থেকে ফুসফুসে যায়। ফুসফুসে কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে এবং অক্সিজেন গ্রহণ করে রক্ত অক্সিজেনসমৃদ্ধ বা oxygenated blood-এ পরিণত হয়। এরপর সেই রক্ত ফুসফুসীয় শিরার মাধ্যমে হৃদপিণ্ডে ফিরে আসে।

ফুসফুসীয় সংবহনের পথ

ডান নিলয় → ফুসফুসীয় ধমনী → ফুসফুস → ফুসফুসীয় শিরা → বাম অলিন্দ

ফুসফুসীয় সংবহনের প্রধান কাজ

  • রক্তে অক্সিজেন যোগ করা।
  • রক্ত থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করা।
  • গ্যাসীয় বিনিময় সম্পন্ন করা।
  • দেহের কোষে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য রক্তকে প্রস্তুত করা।

২. সিস্টেমিক বা বৃহৎ সংবহন (Systemic Circulation)

হৃদপিণ্ড ও সমগ্র দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে রক্ত সংবহন ঘটে তাকে সিস্টেমিক সংবহন বা Systemic Circulation বলে।

বাম নিলয় থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত মহাধমনী বা Aorta-র মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ধমনী ও কৈশিক জালিকার মাধ্যমে অক্সিজেন ও পুষ্টি কোষে পৌঁছে যায়। এরপর কার্বন ডাই-অক্সাইড ও বিপাকীয় বর্জ্য গ্রহণ করে রক্ত শিরার মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের ডান অলিন্দে ফিরে আসে।

সিস্টেমিক সংবহনের পথ

বাম নিলয় → মহাধমনী → ধমনী → কৈশিক জালিকা → শিরা → ঊর্ধ্ব ও নিম্ন মহাশিরা → ডান অলিন্দ

সিস্টেমিক সংবহনের প্রধান কাজ

  • সারা শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া।
  • কোষে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা।
  • কোষ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সংগ্রহ করা।
  • বিপাকীয় বর্জ্য নির্দিষ্ট অঙ্গে পরিবহন করা।
  • হরমোন ও অন্যান্য রাসায়নিক বার্তাবাহক পরিবহন করা।

৩. করোনারি সংবহন (Coronary Circulation)

হৃদপেশি বা Cardiac Muscle-এর নিজস্ব রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থাকে করোনারি সংবহন বলে।

হৃদপিণ্ড সারা শরীরে রক্ত পাম্প করলেও হৃদপেশির নিজেরও অক্সিজেন ও পুষ্টির প্রয়োজন হয়। করোনারি ধমনী (Coronary Arteries) হৃদপেশিতে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহ করে। হৃদপেশিতে ব্যবহৃত রক্ত পরে করোনারি শিরার মাধ্যমে সংগ্রহ হয়ে Coronary Sinus-এর সাহায্যে ডান অলিন্দে প্রবেশ করে।

করোনারি সংবহনের গুরুত্ব

  • হৃদপেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ করে।
  • হৃদপেশির বিপাকীয় কাজ বজায় রাখে।
  • হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক সংকোচন ও প্রসারণে সহায়তা করে।

করোনারি ধমনীতে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে Coronary Artery Disease এবং গুরুতর ক্ষেত্রে Myocardial Infarction বা Heart Attack হতে পারে।


৪. পোর্টাল সংবহন (Portal Circulation)

যে সংবহন ব্যবস্থায় রক্ত একটি কৈশিক জালিকা থেকে বেরিয়ে সরাসরি হৃদপিণ্ডে না ফিরে অন্য একটি কৈশিক জালিকায় প্রবেশ করে, তাকে পোর্টাল সংবহন (Portal Circulation) বলা হয়।

মানবদেহে এর গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো হেপাটিক পোর্টাল সংবহন (Hepatic Portal Circulation)।

পরিপাকনালির কৈশিক জালিকা থেকে শোষিত পুষ্টি-সমৃদ্ধ রক্ত Hepatic Portal Vein-এর মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। যকৃতে এই রক্ত প্রক্রিয়াজাত হওয়ার পর সাধারণ রক্ত সংবহনে যুক্ত হয়।

হেপাটিক পোর্টাল সংবহনের গুরুত্ব

  • পরিপাকনালি থেকে শোষিত পুষ্টি যকৃতে পৌঁছে দেয়।
  • গ্লুকোজসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • ক্ষতিকর কিছু পদার্থকে প্রক্রিয়াজাত করতে যকৃতকে সাহায্য করে।
  • পুষ্টি উপাদানের বিপাকীয় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রক্ত সংবহনের সম্পূর্ণ পথ

মানবদেহে রক্ত সংবহনের একটি পূর্ণ চক্রকে সহজভাবে এভাবে দেখানো যায়—

শরীর → মহাশিরা → ডান অলিন্দ → ডান নিলয় → ফুসফুসীয় ধমনী → ফুসফুস → ফুসফুসীয় শিরা → বাম অলিন্দ → বাম নিলয় → মহাধমনী → সারা শরীর

এখানে লক্ষণীয় যে ফুসফুসীয় ধমনী অক্সিজেন-স্বল্প রক্ত বহন করে এবং ফুসফুসীয় শিরা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত বহন করে। তাই ধমনী ও শিরার পার্থক্য শুধু রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না; বরং হৃদপিণ্ডের তুলনায় রক্তের প্রবাহের দিক অনুযায়ী ধমনী ও শিরা নির্ধারিত হয়।


দ্বৈত রক্ত সংবহন (Double Circulation)

মানুষের রক্ত সংবহন ব্যবস্থাকে দ্বৈত রক্ত সংবহন বা Double Circulation বলা হয়, কারণ একটি সম্পূর্ণ রক্ত সংবহন চক্রে রক্ত হৃদপিণ্ডের মধ্য দিয়ে দুইবার অতিক্রম করে।

এর দুটি প্রধান অংশ হলো—

ফুসফুসীয় সংবহন + সিস্টেমিক সংবহন = দ্বৈত রক্ত সংবহন

এর ফলে অক্সিজেনসমৃদ্ধ এবং অক্সিজেন-স্বল্প রক্ত সাধারণত পরস্পরের সঙ্গে মিশে যায় না। এটি দেহের উচ্চ বিপাকীয় চাহিদা পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের ভূমিকা

মানবহৃদপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ রয়েছে—

ডান অলিন্দ (Right Atrium)

সারা শরীর থেকে ফিরে আসা অক্সিজেন-স্বল্প রক্ত গ্রহণ করে।

ডান নিলয় (Right Ventricle)

অক্সিজেন-স্বল্প রক্তকে ফুসফুসে পাঠায়।

বাম অলিন্দ (Left Atrium)

ফুসফুস থেকে ফিরে আসা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে।

বাম নিলয় (Left Ventricle)

অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তকে মহাধমনীর মাধ্যমে সারা শরীরে পাম্প করে।

বাম নিলয়ের প্রাচীর সবচেয়ে পুরু, কারণ সারা শরীরে রক্ত পাঠানোর জন্য এটিকে তুলনামূলক বেশি চাপ সৃষ্টি করতে হয়।


রক্ত সংবহনে ধমনী, শিরা ও কৈশিক জালিকার ভূমিকা

ধমনী (Artery)

ধমনী সাধারণত হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত বিভিন্ন অঙ্গে নিয়ে যায়। এগুলির প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পুরু, স্থিতিস্থাপক এবং পেশিবহুল। হৃদপিণ্ডের সংকোচনের ফলে উৎপন্ন উচ্চ চাপ সহ্য করার জন্য এই গঠন গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যতিক্রম: ফুসফুসীয় ধমনী অক্সিজেন-স্বল্প রক্ত বহন করে।

শিরা (Vein)

শিরা সাধারণত বিভিন্ন অঙ্গ থেকে রক্ত হৃদপিণ্ডের দিকে ফিরিয়ে আনে। শিরার প্রাচীর ধমনীর তুলনায় পাতলা এবং অনেক শিরায় কপাটিকা (Valve) থাকে, যা রক্তের বিপরীতমুখী প্রবাহ প্রতিরোধ করে।

ব্যতিক্রম: ফুসফুসীয় শিরা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত বহন করে।

কৈশিক জালিকা (Capillary)

কৈশিক জালিকা অত্যন্ত সরু রক্তনালি। এর প্রাচীর সাধারণত এক স্তর Endothelium দ্বারা গঠিত। এই পাতলা প্রাচীরের মাধ্যমে রক্ত ও দেহকোষের মধ্যে অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, পুষ্টি এবং বর্জ্য পদার্থের আদান-প্রদান সহজ হয়।


রক্ত সংবহনের প্রধান কাজ

রক্ত সংবহন শুধু অক্সিজেন পরিবহনের কাজ করে না; মানবদেহের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কাজের সঙ্গে এটি যুক্ত।

১. অক্সিজেন পরিবহন

ফুসফুস থেকে গ্রহণ করা অক্সিজেন রক্তের হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin)-এর মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায়।

২. কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন

কোষীয় শ্বসনের ফলে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

৩. পুষ্টি পরিবহন

পরিপাকনালি থেকে শোষিত গ্লুকোজ, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন, খনিজ লবণ ইত্যাদি রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন কোষে পৌঁছায়।

৪. হরমোন পরিবহন

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন রক্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অঙ্গে পৌঁছে যায়।

৫. বিপাকীয় বর্জ্য পরিবহন

কোষে উৎপন্ন বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ রক্তের মাধ্যমে কিডনি, ফুসফুস, যকৃত ও অন্যান্য নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছায়, যেখানে সেগুলি প্রক্রিয়াজাত বা অপসারিত হয়।

৬. দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে তাপ পরিবহন করে। ত্বকের রক্তনালির প্রসারণ ও সংকোচনের মাধ্যমে দেহের তাপ অপচয় নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৭. pH বা অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখা

রক্তের বিভিন্ন Buffer System, বিশেষ করে Bicarbonate Buffer System, দেহের অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৮. জল ও ইলেক্ট্রোলাইট পরিবহন

রক্তের প্লাজমা দেহের বিভিন্ন অংশে জল এবং সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইডসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রোলাইট পরিবহনে সাহায্য করে।

৯. রোগ প্রতিরোধে সাহায্য

শ্বেত রক্তকণিকা ও রক্তের বিভিন্ন উপাদান জীবাণু ও ক্ষতিকর পদার্থের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

১০. রক্ততঞ্চনে সাহায্য

রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে Platelet এবং বিভিন্ন Clotting Factor-এর সাহায্যে রক্ততঞ্চন ঘটে। এর ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ রোধ করা সম্ভব হয়।


রক্ত সংবহন ও রক্তচাপ

রক্ত সংবহনের জন্য রক্তচাপ (Blood Pressure) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হৃদপিণ্ডের সংকোচনের সময় ধমনিতে যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে সিস্টোলিক চাপ (Systolic Pressure) এবং হৃদপিণ্ডের প্রসারণের সময় ধমনিতে অবশিষ্ট চাপকে ডায়াস্টোলিক চাপ (Diastolic Pressure) বলা হয়।

রক্তচাপের মাধ্যমে রক্তনালির মধ্যে রক্তপ্রবাহ বজায় থাকে। তবে রক্তচাপ অত্যধিক বা দীর্ঘ সময় কম থাকলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহে সমস্যা হতে পারে।


রক্ত সংবহন ও হৃদস্পন্দন

হৃদপিণ্ডের ছন্দবদ্ধ সংকোচন ও প্রসারণকে হৃদস্পন্দন (Heartbeat) বলা হয়। হৃদপিণ্ডের সংকোচনকে Systole এবং প্রসারণকে Diastole বলা হয়।

এই সংকোচন-প্রসারণের সমন্বিত কার্যকলাপের ফলেই রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে বেরিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায় এবং আবার হৃদপিণ্ডে ফিরে আসে।


রক্ত সংবহনের গুরুত্ব

সঠিক রক্ত সংবহন ছাড়া মানবদেহের কোষগুলি দীর্ঘ সময় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না। কারণ কোষের শক্তি উৎপাদন ও অন্যান্য বিপাকীয় কাজের জন্য অক্সিজেন ও পুষ্টি প্রয়োজন।

রক্ত সংবহনের মাধ্যমে—

ফুসফুস → অক্সিজেন → রক্ত → কোষ

এবং

কোষ → কার্বন ডাই-অক্সাইড ও বর্জ্য → রক্ত → ফুসফুস/কিডনি/অন্যান্য অঙ্গ

এই পরিবহন ব্যবস্থা অব্যাহত থাকে।


রক্ত সংবহনে সমস্যা হলে কী হতে পারে?

রক্ত সংবহন ব্যবস্থার কোনো অংশে সমস্যা হলে বিভিন্ন রোগ বা জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন—

  • উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension)
  • করোনারি আর্টারি ডিজিজ
  • হার্ট অ্যাটাক
  • স্ট্রোক
  • Peripheral Artery Disease
  • Varicose Veins
  • Atherosclerosis
  • রক্তনালিতে Clot বা Thrombosis

এসব অবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে সেই অঙ্গে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।


গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

রক্ত কোথা থেকে সারা শরীরে যায়?
→ বাম নিলয় থেকে মহাধমনীর মাধ্যমে।

সারা শরীর থেকে রক্ত কোথায় ফিরে আসে?
→ ডান অলিন্দে।

ফুসফুসে অক্সিজেন-স্বল্প রক্ত কে নিয়ে যায়?
→ ফুসফুসীয় ধমনী।

ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত কে নিয়ে আসে?
→ ফুসফুসীয় শিরা।

রক্ত ও কোষের মধ্যে পদার্থের আদান-প্রদান কোথায় হয়?
→ কৈশিক জালিকায়।

মানবদেহে রক্ত সংবহনকে দ্বৈত সংবহন বলা হয় কেন?
→ একটি পূর্ণ সংবহন চক্রে রক্ত হৃদপিণ্ডের মধ্য দিয়ে দুইবার অতিক্রম করে—একবার ফুসফুসীয় সংবহনে এবং একবার সিস্টেমিক সংবহনে।

Share:
← Back to all posts