👋 How can I help you?
My Online Test Support
AI assistant. Please do not share passwords, OTPs or payment details.
Class XII›
Bengali ›
Geography ›
Mock Test ›
Class XI›
Class X›
Primary TET›
Upper Primary TET›
Competitive Exams›
Math ›
LIVE Access mock tests, and notes for 300+ exams
✕

শিখন প্রস্তুতি, অভীক্ষা ও Achievement Test | TET CTET CDP Notes

শিখন প্রস্তুতি, অভীক্ষা ও Achievement Test | TET CTET CDP Notes
শিক্ষার্থীদের শিখন প্রস্তুতি পরিমাপ, অভীক্ষা ও পারদর্শিতার অভীক্ষা (CDP Notes for TET & CTET)

1. শিক্ষার্থীদের শিখন প্রস্তুতি পরিমাপের জন্য প্রশ্নকরণ (Formulating Appropriate Questions for Assessing Readiness Levels of Learners)

শিখন প্রস্তুতির ধারণা

শিখন প্রস্তুতি বলতে বোঝায়, কোনো বিষয় শেখার জন্য শিক্ষার্থী কতটা মানসিক, শারীরিক ও জ্ঞানগতভাবে প্রস্তুত।

শিক্ষক যখন নতুন কোনো পাঠ শুরু করেন, তখন প্রথমে শিক্ষার্থীদের পূর্বজ্ঞান, অভিজ্ঞতা, আগ্রহ ও শেখার প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য শিক্ষক বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করেন।

এই প্রশ্নগুলির প্রধান উদ্দেশ্য হলো—

  1. শিক্ষার্থীদের পূর্বজ্ঞান সম্পর্কে জানা।

  2. নতুন পাঠের সঙ্গে পুরোনো জ্ঞানের সম্পর্ক স্থাপন করা।

  3. শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও কৌতূহল বৃদ্ধি করা।

  4. শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও যুক্তিবোধকে উদ্দীপিত করা।

  5. শিক্ষার্থীরা নতুন বিষয় শেখার জন্য কতটা প্রস্তুত, তা নির্ধারণ করা।

  6. শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের ঘাটতি চিহ্নিত করা।

শিখন প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য প্রশ্ন করার নীতি

1. প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন: প্রশ্নগুলি আলোচ্য বিষয় বা নতুন পাঠের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে।

2. পূর্বজ্ঞানভিত্তিক প্রশ্ন: আগের শ্রেণিতে শেখা বিষয় বা শিক্ষার্থীদের পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রশ্ন করা উচিত।

3. বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক প্রশ্ন: শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশ্ন করলে তারা সহজে উত্তর দিতে পারে।

4. সহজ থেকে কঠিন প্রশ্ন: প্রথমে সহজ প্রশ্ন করতে হবে। পরে ধীরে ধীরে প্রশ্নের জটিলতা বাড়াতে হবে।

5. শিক্ষার্থীর উপযোগী প্রশ্ন: অধিকাংশ প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের বয়স, শ্রেণি ও গড় শিক্ষাস্তরের উপযোগী হওয়া প্রয়োজন।

6. বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন: জ্ঞানমূলক, বোধমূলক, প্রয়োগমূলক ও চিন্তনমূলক প্রশ্ন ব্যবহার করা উচিত।

7. কৌতূহল সৃষ্টিকারী প্রশ্ন: প্রশ্ন এমন হওয়া উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা নতুন বিষয় জানার আগ্রহ অনুভব করে।

8. শিখনের ঘাটতি চিহ্নিত করা: শিক্ষার্থীরা কোন বিষয় জানে এবং কোন বিষয় জানে না, তা বুঝে শিক্ষক নতুন পাঠ শুরু করবেন।

প্রোবিং প্রশ্ন (Probing Questions)

প্রোবিং প্রশ্ন হলো এমন অনুসন্ধানমূলক প্রশ্ন, যার সাহায্যে শিক্ষার্থীর উত্তরের পেছনের যুক্তি, চিন্তা, ধারণা ও বোঝার গভীরতা যাচাই করা হয়।

উদাহরণ:

শিক্ষক: গাছ আমাদের কীভাবে সাহায্য করে?

শিক্ষার্থী: গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়।

শিক্ষক: অক্সিজেন আমাদের কেন প্রয়োজন? গাছ কমে গেলে পরিবেশে কী প্রভাব পড়তে পারে?

দ্বিতীয় প্রশ্নগুলি শিক্ষার্থীকে আরও গভীরভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করে।

পরীক্ষায় মনে রাখবে: শিখন প্রস্তুতি যাচাইয়ের প্রশ্নের প্রধান উদ্দেশ্য হলো পূর্বজ্ঞান জানা, আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং নতুন পাঠের জন্য শিক্ষার্থীকে প্রস্তুত করা।

2. অভীক্ষা (Test)

অভীক্ষার অর্থ (Meaning of Test)

অভীক্ষা হলো এমন একটি পরিমাপের উপকরণ, যার সাহায্যে শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, বুদ্ধি, প্রবণতা বা অন্যান্য নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

সহজ কথায়, শিক্ষার্থীরা কী শিখেছে বা তাদের কোনো নির্দিষ্ট মানসিক ক্ষমতা কতটা বিকশিত হয়েছে, তা জানার জন্য যে নির্দিষ্ট প্রশ্ন বা কার্যক্রম ব্যবহার করা হয়, তাকে অভীক্ষা বলে।

উদাহরণ:

  • গণিতের দক্ষতা যাচাই করার জন্য গণিতের পরীক্ষা।

  • বুদ্ধির স্তর পরিমাপের জন্য বুদ্ধির অভীক্ষা।

  • কোনো কাজ শেখার সম্ভাবনা বোঝার জন্য প্রবণতার অভীক্ষা।

অভীক্ষাকরণ (Testing)

অভীক্ষাকরণ হলো অভীক্ষা প্রয়োগ করে শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া বা আচরণ সংগ্রহ ও পরিমাপ করার প্রক্রিয়া।

অভীক্ষায় লিখিত প্রশ্ন, মৌখিক প্রশ্ন, ছবি, সমস্যা সমাধান বা ব্যবহারিক কাজ থাকতে পারে।

অভীক্ষা ব্যবহারের উদ্দেশ্য (Purpose of Test)

Findley (1963)-এর আলোচনার ভিত্তিতে অভীক্ষার উদ্দেশ্যকে 3টি প্রধান ক্ষেত্রে বোঝা যায়।

A. শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে

  1. শিক্ষার্থীদের শিখনের প্রতি আগ্রহ ও প্রেষণা বাড়ানো।

  2. আগে শেখা বিষয় পুনরায় অনুশীলন করতে সাহায্য করা।

  3. শিক্ষার্থীদের শিখনের অগ্রগতি জানা।

  4. শিক্ষকের শিক্ষণ পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করা।

B. প্রশাসনের ক্ষেত্রে

  1. শিক্ষার্থীদের শ্রেণিবিন্যাসে সাহায্য করা।

  2. উত্তীর্ণ হওয়া ও পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা।

  3. শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষাগত সাফল্য সম্পর্কে অনুমান করতে সাহায্য করা।

  4. শিক্ষামূলক কর্মসূচির মূল্যায়ন ও গবেষণায় সাহায্য করা।

  5. নতুন শিক্ষামূলক পরিকল্পনা গ্রহণে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া।

C. নির্দেশনা ও পরামর্শদানের ক্ষেত্রে

  1. শিক্ষার্থীর আগ্রহ ও দক্ষতা চিহ্নিত করা।

  2. উপযুক্ত শিক্ষাগত ও বৃত্তিমূলক নির্দেশনা দেওয়া।

  3. শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী পরামর্শ প্রদান করা।

3. শিক্ষাবিজ্ঞানে ব্যবহৃত অভীক্ষার প্রকারভেদ (Types of Tests in Education)

শিক্ষাবিজ্ঞানে অভীক্ষাকে প্রধানত 2টি বৃহৎ ভাগে আলোচনা করা হয়—

  1. শিক্ষামূলক অভীক্ষা (Educational Test)

  2. মনোবৈজ্ঞানিক অভীক্ষা (Psychological Test)

A. শিক্ষামূলক অভীক্ষা (Educational Test)

শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত জ্ঞান, শিখনের অগ্রগতি ও নির্দিষ্ট বিষয়ে অর্জিত দক্ষতা পরিমাপ করার জন্য শিক্ষামূলক অভীক্ষা ব্যবহার করা হয়।

প্রধান প্রকারগুলি হলো—

1. পারদর্শিতার অভীক্ষা (Achievement Test): শিক্ষার্থী আগে শেখানো বিষয় কতটা আয়ত্ত করেছে, তা পরিমাপ করে।

উদাহরণ: অধ্যায় শেষে গণিতের পরীক্ষা।

2. পূর্বাভাসমূলক অভীক্ষা (Prognostic Test): শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষাগত সাফল্য বা কোনো নির্দিষ্ট কাজে সম্ভাব্য পারদর্শিতা সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করে।

3. নির্ণায়ক অভীক্ষা (Diagnostic Test): শিক্ষার্থীর শিখনের সমস্যা, ভুল ধারণা ও দুর্বলতার নির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত করে।

উদাহরণ: শিক্ষার্থী ভাগ করতে বারবার ভুল করলে সেই ভুলের কারণ নির্ণয় করা।

4. সমীক্ষামূলক অভীক্ষা (Survey Test): কোনো বিষয় বা একাধিক দক্ষতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক অবস্থা জানার জন্য ব্যবহৃত হয়।

শিক্ষামূলক অভীক্ষার কয়েকটি উদাহরণ

  • California Achievement Test

  • Iowa Test of Basic Skills

  • Sequential Tests of Educational Progress

  • Metropolitan Readiness Test

  • Gates Reading Readiness Test

  • Graduate Record Examination (GRE)

এই অভীক্ষাগুলির নাম মূলত আন্তর্জাতিক শিক্ষামূলক ও মনোবৈজ্ঞানিক অভীক্ষার উদাহরণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলির বর্তমান প্রয়োগ ও উপলভ্যতা প্রতিষ্ঠান ও দেশভেদে আলাদা হতে পারে।

B. মনোবৈজ্ঞানিক অভীক্ষা (Psychological Test)

শিক্ষার্থীর বুদ্ধি, ব্যক্তিত্ব, আগ্রহ, প্রবণতা ও মানসিক ক্ষমতার মতো বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করার জন্য মনোবৈজ্ঞানিক অভীক্ষা ব্যবহার করা হয়।

প্রধান প্রকারগুলি হলো—

1. বুদ্ধির অভীক্ষা (Intelligence Test): ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা পরিমাপ করে।

2. ব্যক্তিত্বের অভীক্ষা (Personality Test): ব্যক্তির আচরণ, বৈশিষ্ট্য ও ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য দেয়।

3. আগ্রহের অভীক্ষা (Interest Test): ব্যক্তি কোন বিষয় বা কাজে আগ্রহী, তা নির্ধারণে সাহায্য করে।

4. প্রবণতার অভীক্ষা (Aptitude Test): কোনো নির্দিষ্ট কাজ বা দক্ষতা অর্জনের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা দেয়।

5. মানসিক ক্ষমতার অভীক্ষা (Ability Test): নির্দিষ্ট মানসিক বা বৌদ্ধিক ক্ষমতা পরিমাপ করে।

6. অভিক্ষেপমূলক অভীক্ষা (Projective Test): নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ব্যক্তির প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের কিছু দিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করা হয়।

মনোবৈজ্ঞানিক অভীক্ষার উদাহরণ

  • Verbal Intelligence Test

  • Non-verbal Intelligence Test

  • Kuder Interest Inventories

  • Mechanical Aptitude Test

  • Clerical Aptitude Test

  • Projective Tests

পরীক্ষায় মনে রাখবে: Achievement Test শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা পরিমাপ করে, আর Aptitude Test ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জনের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা দেয়।

4. পারদর্শিতার অভীক্ষা (Achievement Test)

পারদর্শিতার অভীক্ষার অর্থ

পারদর্শিতা বলতে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় বা কাজে অর্জিত দক্ষতা ও সাফল্যকে বোঝায়।

পারদর্শিতার অভীক্ষা হলো এমন একটি অভীক্ষা, যার সাহায্যে শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট শিক্ষণ বা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কতটা জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছে, তা পরিমাপ করা হয়।

উদাহরণ:

একটি অধ্যায় পড়ানোর পরে শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়ে দেখেন তারা অধ্যায়টির বিষয়বস্তু কতটা বুঝেছে, তাহলে সেটি পারদর্শিতার অভীক্ষা।

পারদর্শিতার অভীক্ষার বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Achievement Test)

  1. শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা পরিমাপ করে।

  2. শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত অগ্রগতি নির্ধারণে সাহায্য করে।

  3. বিভিন্ন শিক্ষার্থীর ফলাফল তুলনা করতে সাহায্য করতে পারে।

  4. শিক্ষকের শিক্ষণ পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাইয়ে সাহায্য করে।

  5. লিখিত, মৌখিক বা ব্যবহারিক পদ্ধতিতে নেওয়া যেতে পারে।

  6. সঠিকভাবে প্রস্তুত করলে এর ফলাফল নির্ভরযোগ্য ও যথার্থ হতে পারে।

  7. প্রশিক্ষণের পরে শিক্ষার্থীর অগ্রগতি পরিমাপেও ব্যবহার করা যায়।

  8. নির্দিষ্ট বিষয় বা দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়।

5. পারদর্শিতার অভীক্ষার প্রকারভেদ (Types of Achievement Test)

পারদর্শিতার অভীক্ষা প্রধানত 2 প্রকার—

  1. আদর্শায়িত অভীক্ষা (Standardized Test)

  2. শিক্ষক নির্মিত অভীক্ষা (Teacher-made Test)

5.1 আদর্শায়িত অভীক্ষা (Standardized Test)

যে অভীক্ষা নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রস্তুত, পরীক্ষিত ও মান্য করা হয় এবং যার প্রয়োগ, নম্বর নির্ধারণ ও ফলাফল ব্যাখ্যার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে, তাকে আদর্শায়িত অভীক্ষা বলে।

এই ধরনের অভীক্ষা সাধারণত বৃহত্তর শিক্ষার্থীসমষ্টির ওপর পরীক্ষা করে তৈরি করা হয়। এর ফলাফল ব্যাখ্যা করার জন্য আদর্শমান বা Norms থাকতে পারে।

আদর্শায়িত অভীক্ষার বৈশিষ্ট্য

  1. নির্দিষ্ট নিয়মে অভীক্ষা প্রস্তুত করা হয়।

  2. প্রয়োগের পদ্ধতি নির্ধারিত থাকে।

  3. নম্বর দেওয়ার নিয়ম নির্দিষ্ট থাকে।

  4. ফলাফল ব্যাখ্যার জন্য নির্দেশিকা থাকে।

  5. যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা হয়।

  6. উপযুক্ত আদর্শমান থাকলে শিক্ষার্থীর ফলাফল তুলনা করা যায়।

  7. প্রশিক্ষিত ব্যক্তি নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে অভীক্ষাটি প্রয়োগ করেন।

আদর্শায়িত অভীক্ষার উদাহরণ

  • বুদ্ধির অভীক্ষা

  • প্রবণতার অভীক্ষা

  • আগ্রহের অভীক্ষা

  • ব্যক্তিত্বের অভীক্ষা

  • নির্দিষ্ট বিষয়ে মান্যকৃত পারদর্শিতার অভীক্ষা

5.2 শিক্ষক নির্মিত অভীক্ষা (Teacher-made Test)

শিক্ষক যখন নিজের শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শেখানো বিষয় কতটা আয়ত্ত হয়েছে, তা জানার জন্য নিজেই প্রশ্নপত্র বা মূল্যায়ন কার্যক্রম তৈরি করেন, তখন তাকে শিক্ষক নির্মিত অভীক্ষা বলে।

উদাহরণ: শিক্ষক একটি অধ্যায় পড়ানোর পরে 20 নম্বরের প্রশ্নপত্র তৈরি করে পরীক্ষা নিলেন।

শিক্ষক নির্মিত অভীক্ষার বৈশিষ্ট্য

  1. নির্দিষ্ট শ্রেণি ও পাঠ্যবিষয়ের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করা হয়।

  2. প্রস্তুত করা তুলনামূলকভাবে সহজ।

  3. শিক্ষার্থীর সবলতা ও দুর্বলতা চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।

  4. শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত মূল্যায়নে ব্যবহার করা যায়।

  5. শিক্ষকের শিক্ষণ পদ্ধতির কার্যকারিতা বুঝতে সাহায্য করে।

  6. শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশ্ন পরিবর্তন করা যায়।

  7. আদর্শায়িত অভীক্ষার তুলনায় এর প্রয়োগ ও নম্বরদানের নিয়ম কম নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।

  8. সঠিকভাবে প্রস্তুত না হলে যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা কম হতে পারে।

শিক্ষক নির্মিত অভীক্ষার প্রকারভেদ

1. লিখিত অভীক্ষা (Written Test)

  • নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন (Objective-type Questions)

  • সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Short-answer Questions)

  • রচনাধর্মী প্রশ্ন (Essay-type Questions)

2. মৌখিক অভীক্ষা (Oral Test)

প্রশ্নের মৌখিক উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও প্রকাশক্ষমতা যাচাই করা হয়।

3. ব্যবহারিক অভীক্ষা (Practical Test)

কোনো কাজ বাস্তবে সম্পাদন করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দক্ষতা পরিমাপ করা হয়।

উদাহরণ: বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে পরীক্ষণ সম্পাদন করা বা কম্পিউটারে নির্দিষ্ট কাজ করা।

6. আদর্শায়িত অভীক্ষা ও শিক্ষক নির্মিত অভীক্ষার পার্থক্য

আদর্শায়িত অভীক্ষা শিক্ষক নির্মিত অভীক্ষা
নির্দিষ্ট ও সুসংগঠিত পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। সাধারণত শ্রেণি ও পাঠ্যবিষয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক তৈরি করেন।
প্রয়োগ ও নম্বরদানের নিয়ম নির্ধারিত থাকে। নিয়ম শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা সাধারণত পদ্ধতিগতভাবে যাচাই করা হয়। যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা হয়েছে কি না, তা প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে।
উপযুক্ত আদর্শমানের ভিত্তিতে ফলাফল তুলনা করা যায়। সাধারণত নির্দিষ্ট শ্রেণির শিখন অগ্রগতি যাচাইয়ে ব্যবহৃত হয়।
প্রস্তুত করতে বেশি সময় ও বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হতে পারে। তুলনামূলকভাবে কম সময়ে তৈরি করা যায়।
বৃহত্তর শিক্ষার্থীসমষ্টির মূল্যায়নে ব্যবহার করা যেতে পারে। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক মূল্যায়নে বিশেষভাবে উপযোগী।

7. পারদর্শিতার অভীক্ষার প্রয়োজনীয়তা (Need of Achievement Test)

পারদর্শিতার অভীক্ষা শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এর প্রয়োজনীয়তা হলো—

  1. শিখনের অগ্রগতি পরিমাপ: শিক্ষার্থী কতটা শিখেছে, তা জানা যায়।

  2. শিক্ষাগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ: উত্তীর্ণ হওয়া বা পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্তে সাহায্য করে।

  3. দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ: কোন বিষয়ে শিক্ষার্থী পিছিয়ে রয়েছে, তা বোঝা যায়।

  4. প্রতিকারমূলক শিক্ষণ: শিক্ষার্থীর দুর্বলতা অনুযায়ী অতিরিক্ত শিক্ষণ দেওয়া যায়।

  5. শিক্ষণ পরিকল্পনা: পরবর্তী পাঠের বিষয়বস্তু ও পদ্ধতি নির্বাচন করা যায়।

  6. নির্দেশনা প্রদান: শিক্ষার্থীর অর্জন ও প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষাগত নির্দেশনা দেওয়া যায়।

  7. আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: যথাযথ প্রতিক্রিয়া শিক্ষার্থীকে নিজের অগ্রগতি বুঝতে সাহায্য করে।

  8. শিক্ষকের আত্মমূল্যায়ন: শিক্ষক নিজের শিক্ষণ পদ্ধতির সাফল্য বিচার করতে পারেন।

  9. পাঠ্যক্রমের মূল্যায়ন: নির্দিষ্ট শিক্ষণ লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, তা নির্ধারণে সাহায্য করে।

8. পারদর্শিতার অভীক্ষার সীমাবদ্ধতা (Limitations of Achievement Test)

পারদর্শিতার অভীক্ষার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

  1. অতিরিক্ত পরীক্ষানির্ভর শিক্ষা মুখস্থবিদ্যার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।

  2. বেশি নম্বর পাওয়ার চাপ শিক্ষার্থীর মানসিক উদ্বেগ বাড়াতে পারে।

  3. শুধু লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে সব ধরনের জ্ঞান ও দক্ষতা পরিমাপ করা যায় না।

  4. শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা, মনোভাব ও মূল্যবোধের সব দিক যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন।

  5. প্রশ্নপত্র ভালোভাবে তৈরি না হলে ফলাফল প্রকৃত দক্ষতার প্রতিফলন নাও হতে পারে।

  6. পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

  7. ভাষাগত সমস্যা, পরীক্ষার ভয় বা অসুস্থতা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই শিক্ষার্থীর সামগ্রিক মূল্যায়নের জন্য পারদর্শিতার অভীক্ষার পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ, মৌখিক প্রশ্ন, প্রকল্প, ব্যবহারিক কাজ ও অন্যান্য মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করা প্রয়োজন।

9. Achievement Test, Diagnostic Test ও Aptitude Test-এর পার্থক্য

অভীক্ষার নাম প্রধান উদ্দেশ্য উদাহরণ
Achievement Test কী শিখেছে তা পরিমাপ করা অধ্যায় শেষে গণিতের পরীক্ষা
Diagnostic Test শিখনের নির্দিষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করা ভাগ করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর ভুলের কারণ নির্ণয়
Aptitude Test ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জনের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যান্ত্রিক কাজে প্রবণতা যাচাই

10. TET ও CTET পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  1. শিখন প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য শিক্ষার্থীর পূর্বজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রশ্ন করা হয়।

  2. Probing Question শিক্ষার্থীর চিন্তা ও উত্তরের গভীরতা অনুসন্ধান করে।

  3. Test হলো পরিমাপের উপকরণ; Testing হলো তা প্রয়োগ করার প্রক্রিয়া।

  4. Achievement Test শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা পরিমাপ করে।

  5. Diagnostic Test শিখনের সমস্যা ও দুর্বলতা চিহ্নিত করে।

  6. Aptitude Test ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জনের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা দেয়।

  7. Standardized Test নির্দিষ্ট নিয়মে প্রস্তুত ও প্রয়োগ করা হয়।

  8. Teacher-made Test শিক্ষক নিজের শ্রেণির প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি করেন।

  9. Teacher-made Test-এর প্রধান ধরন হলো লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক অভীক্ষা।

  10. Achievement Test-এর ফলাফল প্রতিকারমূলক শিক্ষণ ও শিক্ষণ পরিকল্পনায় সাহায্য করে।

  11. শুধু পরীক্ষার নম্বর দিয়ে শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশ বিচার করা উচিত নয়।

  12. ভালো মূল্যায়নের জন্য যথার্থতা, নির্ভরযোগ্যতা ও উপযুক্ত প্রশ্ন নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার

শিক্ষার্থীর শিখন প্রস্তুতি যাচাই, পূর্বজ্ঞান নির্ণয় এবং অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা পরিমাপের জন্য প্রশ্নকরণ ও অভীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক প্রশ্ন ও উপযুক্ত অভীক্ষা শিক্ষকের পাঠ পরিকল্পনা, শিক্ষার্থীর অগ্রগতি নির্ধারণ এবং শিখনের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

Primary TET, Upper Primary TET, CTET এবং অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার CDP অংশে এই বিষয়গুলি থেকে সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, প্রকারভেদ ও পার্থক্যভিত্তিক MCQ অনুশীলন করা বিশেষভাবে প্রয়োজন।

Share:
← Back to all posts