প্রেষণার অর্থ ও ধারণা (Meaning and Concept of Motivation)
প্রেষণা হলো এমন একটি মানসিক প্রক্রিয়া, যা ব্যক্তিকে কোনো নির্দিষ্ট কাজ করতে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে উৎসাহিত করে। শিখন বা শেখার ক্ষেত্রেও প্রেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো কাজ করার জন্য ব্যক্তির মধ্যে প্রথমে কোনো চাহিদা বা অভাববোধ তৈরি হয়। এই অভাববোধ থেকে তাড়নার সৃষ্টি হয়। তাড়না ব্যক্তিকে কাজ করতে উৎসাহিত করে। কাজের মাধ্যমে ব্যক্তি তার লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করে এবং চাহিদা পূরণ হলে তৃপ্তি লাভ করে।
প্রেষণা সৃষ্টির ধারাবাহিকতা:
অভাববোধ → চাহিদা → তাড়না → কর্মপ্রচেষ্টা → লক্ষ্যপূরণ → তৃপ্তি
উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী ভালো ফল করতে চায়। এই চাহিদা তাকে নিয়মিত পড়াশোনা করতে উৎসাহিত করে। ভালো ফল করলে তার চাহিদা পূরণ হয় এবং সে আনন্দ পায়।
প্রেষণার সংজ্ঞা (Definition of Motivation)
প্রেষণা শব্দটি লাতিন Movere শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো ‘চলতে শুরু করা’ বা ‘সক্রিয় হওয়া’।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে:
-
Swift: ব্যক্তির বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য যে পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়া তার আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে প্রেষণা বলে।
-
Weiner: প্রেষণা ব্যক্তিকে কোনো কাজ করতে উৎসাহিত করে, কাজকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করে এবং লক্ষ্যপূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাজে নিয়োজিত রাখে।
-
Pintrich, Marx ও Boyle: প্রেষণা ব্যক্তির শক্তি ও সক্রিয়তা বৃদ্ধি করে এবং তাকে কোনো কাজে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করে।
প্রেষণার নীতি (Principles of Motivation)
শিক্ষার্থীদের কার্যকরভাবে শেখাতে হলে শিক্ষককে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেষণার নীতি অনুসরণ করতে হয়।
1. শিখনের প্রস্তুতির নীতি
শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিকভাবে শেখার জন্য প্রস্তুত থাকলে প্রেষণা বেশি কার্যকর হয়। তাই শিক্ষককে শেখার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
2. চাহিদার নীতি
শিক্ষার্থীর মধ্যে কোনো বিষয় শেখার প্রয়োজন বা চাহিদা তৈরি করতে পারলে সে শেখার প্রতি আগ্রহী হয়।
3. আগ্রহের নীতি
শিক্ষার্থীর আগ্রহ অনুযায়ী পাঠদান করলে সে সহজে শেখে। আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক শিক্ষণপদ্ধতি প্রেষণা বাড়াতে সাহায্য করে।
4. উদ্দেশ্যের স্পষ্টতার নীতি
কোনো কাজের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হলে শিক্ষার্থী বুঝতে পারে তাকে কী শিখতে হবে এবং কেন শিখতে হবে। ফলে তার প্রচেষ্টা সঠিক পথে পরিচালিত হয়।
5. উদাহরণ প্রদানের নীতি
মহান ব্যক্তিদের জীবনের ঘটনা এবং অন্য শিক্ষার্থীদের সাফল্যের উদাহরণ শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে।
শিখনের ক্ষেত্রে প্রেষণার ভূমিকা (Role of Motivation in Learning)
শিখন প্রক্রিয়াকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রেষণার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
1. কর্মে উদ্যম সৃষ্টি করে
প্রেষণা শিক্ষার্থীর মধ্যে কাজ করার শক্তি ও উৎসাহ তৈরি করে। আকর্ষণীয় পাঠদান, প্রশংসা ও উৎসাহ শিক্ষার্থীর আগ্রহ বাড়াতে পারে।
2. আচরণের দিক নির্ধারণ করে
প্রেষণা শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করতে সাহায্য করে। ফলে সে প্রয়োজনীয় বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিতে পারে।
3. লক্ষ্যপূরণে সাহায্য করে
প্রেষণা শিক্ষার্থীকে কাজ শুরু করতে এবং বাধা এলেও চেষ্টা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করে। প্রয়োজনে সে শিক্ষক, অভিভাবক বা সহপাঠীদের সাহায্য নেয়।
4. শিখন কৌশলকে প্রভাবিত করে
প্রেষণা শিক্ষার্থীর মনোযোগ ও অর্থপূর্ণভাবে শেখার সম্ভাবনা বাড়ায়। শিক্ষককে এমনভাবে পাঠদান করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থী বুঝে শেখে এবং নিজের চিন্তাশক্তি ব্যবহার করে।
5. আচরণকে লক্ষ্যাভিমুখী করে
প্রেষণা শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন কাজের মধ্যে উপযুক্ত কাজটি বেছে নিতে সাহায্য করে। এর ফলে সে অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারে।
প্রেষণা হ্রাসের কারণ (Causes of Diminishing Motivation)
বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীর প্রেষণা বা কাজ করার উৎসাহ কমে যেতে পারে।
-
উদ্বেগ: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা শিক্ষার্থীর মনোযোগ ও উৎসাহ কমায়।
-
কাজের কাঠিন্য: কাজ অত্যন্ত কঠিন বা অতিরিক্ত সহজ হলে আগ্রহ কমে যেতে পারে।
-
আগ্রহের অভাব: কোনো বিষয়ের প্রতি আগ্রহ না থাকলে শেখার প্রেষণা কমে।
-
কৌতূহলের অভাব: নতুন কিছু জানার আগ্রহ তৈরি না হলে শেখার ইচ্ছা কমে যায়।
-
বারবার ব্যর্থতা: বারবার ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থী আত্মবিশ্বাস হারাতে পারে এবং চেষ্টা করা বন্ধ করে দিতে পারে।
-
প্রক্ষোভ: ভয় ও রাগের মতো আবেগ কাজের উৎসাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
-
আত্মবিশ্বাসের অভাব: নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে সন্দেহ থাকলে শিক্ষার্থী কঠিন কাজ করতে ভয় পায়।
-
অনুপযুক্ত পরিবেশ: পরিবার, সমাজ বা শ্রেণিকক্ষে সহযোগিতা ও উৎসাহের অভাব প্রেষণা কমাতে পারে।
-
শারীরবৃত্তীয় চাহিদার অপূর্ণতা: ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও ঘুমের অভাব শেখার আগ্রহ কমাতে পারে।
-
নিরাপত্তার অভাব: ভয়, অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা প্রেষণাকে বাধাগ্রস্ত করে।
-
ভালোবাসা ও একাত্মতার অভাব: পরিবার বা সহপাঠীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করলে শিক্ষার্থীর উৎসাহ কমতে পারে।
-
আত্মসম্মানের অভাব: যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি না পেলে শিক্ষার্থী নিরুৎসাহিত হতে পারে।
-
আত্মপ্রতিষ্ঠার সুযোগের অভাব: নিজের ক্ষমতা প্রকাশ ও বিকাশের সুযোগ না পেলে প্রেষণা কমে যেতে পারে।
প্রেষণার প্রকারভেদ (Types of Motivation)
1. অভ্যন্তরীণ প্রেষণা (Intrinsic Motivation)
যখন ব্যক্তি নিজের আগ্রহ, ইচ্ছা বা কাজের আনন্দ থেকে কোনো কাজ করে, তখন তাকে অভ্যন্তরীণ প্রেষণা বলে। এখানে কাজ করার জন্য বাইরের পুরস্কার বা চাপের প্রয়োজন হয় না।
উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী নতুন বিষয় জানতে ভালোবাসে বলে নিজে থেকেই বই পড়ে।
মনে রাখবে: কাজের প্রতি নিজের আগ্রহই অভ্যন্তরীণ প্রেষণার প্রধান ভিত্তি।
2. বাহ্যিক প্রেষণা (Extrinsic Motivation)
যখন পুরস্কার, প্রশংসা, ভালো নম্বর, সার্টিফিকেট বা অন্য কোনো বাইরের প্রভাবের কারণে ব্যক্তি কাজ করে, তখন তাকে বাহ্যিক প্রেষণা বলে।
উদাহরণ: ভালো নম্বর বা পুরস্কার পাওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করে।
বাহ্যিক পুরস্কার শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করতে পারে, তবে শুধু পুরস্কারের ওপর নির্ভরশীল প্রেষণা সবসময় দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।
প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রেষণার অন্যান্য ধরন
1. শারীরিক প্রেষণা (Physiological Motivation): জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রেষণা। যেমন—খাদ্য, জল, বাতাস ও ঘুমের চাহিদা।
2. ব্যক্তিগত প্রেষণা (Personal Motivation): ব্যক্তির নিজস্ব আগ্রহ, মনোভাব, মূল্যবোধ ও আত্মপ্রকাশের চাহিদা থেকে সৃষ্ট প্রেষণা।
3. সামাজিক প্রেষণা (Social Motivation): সমাজে বসবাসের ফলে তৈরি হওয়া ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সামাজিক মর্যাদা ও আত্মসম্মানের মতো চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রেষণা।
প্রেষণার তত্ত্বসমূহ (Theories of Motivation)
প্রেষণা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ 3টি তত্ত্ব হলো:
-
ম্যাসলোর চাহিদার ক্রমপর্যায় তত্ত্ব (Maslow’s Need-Hierarchy Theory)
-
ওয়াইনারের কারণ নির্দেশক তত্ত্ব (Weiner’s Attribution Theory)
-
ম্যাকলেল্যান্ডের সাফল্যলাভের প্রেষণার তত্ত্ব (McClelland’s Achievement Motivation Theory)
1. ম্যাসলোর চাহিদার ক্রমপর্যায় তত্ত্ব (Maslow’s Need-Hierarchy Theory)
মনোবিজ্ঞানী আব্রাহাম ম্যাসলো 1954 সালে তাঁর চাহিদার ক্রমপর্যায় তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। এই তত্ত্বে মানুষের চাহিদাকে একটি পিরামিডের 5টি স্তরে সাজানো হয়েছে। নিচের স্তরের চাহিদা থেকে উপরের স্তরের চাহিদার দিকে অগ্রসর হওয়ার ধারণাটি এই তত্ত্বের মূল বিষয়।
ম্যাসলোর চাহিদার 5টি স্তর
1. শারীরবৃত্তীয় চাহিদা (Physiological Needs)
জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদা। যেমন—খাদ্য, জল, বাতাস, ঘুম ও বিশ্রাম।
2. নিরাপত্তার চাহিদা (Safety Needs)
ভয়, বিপদ ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত থাকা এবং নিরাপদ জীবনযাপনের চাহিদা।
3. ভালোবাসা ও একাত্মতার চাহিদা (Love and Belongingness Needs)
পরিবার, বন্ধু ও সমাজের কাছ থেকে ভালোবাসা পাওয়া এবং কোনো দলের সদস্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার চাহিদা।
4. আত্মসম্মানের চাহিদা (Esteem Needs)
নিজের প্রতি শ্রদ্ধা, আত্মবিশ্বাস, সম্মান এবং অন্যের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার চাহিদা।
5. আত্মপ্রতিষ্ঠার চাহিদা (Self-Actualisation Needs)
নিজের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা ও প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনায় পৌঁছানোর চাহিদা।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: ম্যাসলোর তত্ত্বে শারীরবৃত্তীয় চাহিদা হলো সর্বনিম্ন স্তর এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার চাহিদা হলো সর্বোচ্চ স্তর।
2. ওয়াইনারের কারণ নির্দেশক তত্ত্ব (Weiner’s Attribution Theory)
মনোবিজ্ঞানী বার্নার্ড ওয়াইনারের তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো কাজে সাফল্য বা ব্যর্থতা পাওয়ার পর ব্যক্তি সাধারণত তার কারণ খোঁজে। এই কারণ সম্পর্কে তার ধারণা ভবিষ্যতের কাজ করার আগ্রহ ও প্রেষণাকে প্রভাবিত করে।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো ফল করলে মনে করতে পারে যে তার পরিশ্রমের ফলেই সে সফল হয়েছে। আবার খারাপ ফল করলে সে প্রশ্ন কঠিন ছিল বা তার প্রস্তুতি কম ছিল বলে মনে করতে পারে।
ওয়াইনারের আলোচনায় সাফল্য ও ব্যর্থতার কারণ হিসেবে 4টি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
1. ক্ষমতা (Ability): কোনো কাজ করার জন্য ব্যক্তির দক্ষতা বা সামর্থ্য।
2. প্রচেষ্টা (Effort): কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ব্যক্তি কতটা চেষ্টা করেছে।
3. কাজের কাঠিন্য (Task Difficulty): কাজটি কতটা সহজ বা কঠিন।
4. ভাগ্য (Luck): সাফল্য বা ব্যর্থতার ক্ষেত্রে ভাগ্যের ভূমিকা সম্পর্কে ব্যক্তির ধারণা।
শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর ব্যর্থতার কারণ বুঝে উপযুক্ত সাহায্য করেন, তাহলে শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতে সফল হওয়ার প্রেষণা বাড়তে পারে।
3. ম্যাকলেল্যান্ডের সাফল্যলাভের প্রেষণার তত্ত্ব (McClelland’s Achievement Motivation Theory)
মনোবিজ্ঞানী ডেভিড ম্যাকলেল্যান্ড সাফল্যলাভের প্রেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, মানুষের মধ্যে সাফল্য অর্জনের ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা একরকম নয়। ব্যক্তিভেদে এই আকাঙ্ক্ষার পার্থক্য দেখা যায়।
যে শিক্ষার্থীর মধ্যে সাফল্য অর্জনের ইচ্ছা বেশি, সে সাধারণত নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য বেশি চেষ্টা করে। অন্যদিকে, ব্যর্থতার ভয় বেশি থাকলে শিক্ষার্থী কোনো কাজ শুরু করতে দ্বিধা করতে পারে।
ম্যাকলেল্যান্ডের তত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি হলো:
-
সাফল্যলাভের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়।
-
সাফল্যের ইচ্ছা ব্যক্তিকে লক্ষ্য নির্ধারণ ও প্রচেষ্টায় উৎসাহিত করে।
-
ব্যর্থতার ভয় ব্যক্তির কাজ করার আগ্রহ কমাতে পারে।
-
উপযুক্ত লক্ষ্য, উৎসাহ এবং ইতিবাচক অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীর সাফল্যলাভের প্রেষণা বাড়াতে সাহায্য করে।
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রেষণা বৃদ্ধির উপায়
শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রেষণা বাড়াতে শিক্ষক নিচের কৌশলগুলি অনুসরণ করতে পারেন:
-
পাঠকে আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক করে তোলা।
-
শিক্ষার্থীর আগ্রহ ও সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ দেওয়া।
-
শেখার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বোঝানো।
-
শিক্ষার্থীর ছোট ছোট সাফল্যের প্রশংসা করা।
-
ভুল করলে অপমান না করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া।
-
শ্রেণিকক্ষে নিরাপদ ও সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা।
-
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে এবং নিজের মত প্রকাশ করতে উৎসাহ দেওয়া।
-
অতিরিক্ত কঠিন বা অতিরিক্ত সহজ কাজের পরিবর্তে উপযুক্ত চ্যালেঞ্জ দেওয়া।
উপসংহার
প্রেষণা শিখন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি শিক্ষার্থীকে শেখার প্রতি আগ্রহী করে, মনোযোগ বাড়ায় এবং লক্ষ্যপূরণে সাহায্য করে। অভ্যন্তরীণ প্রেষণা শিক্ষার্থীর নিজস্ব আগ্রহ থেকে তৈরি হয়, আর বাহ্যিক প্রেষণা পুরস্কার বা বাইরের উৎসাহের ওপর নির্ভর করে। ম্যাসলো, ওয়াইনার ও ম্যাকলেল্যান্ডের প্রেষণা তত্ত্বগুলি TET, CTET এবং অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার CDP অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
MCQ প্রস্তুতির সময় বিশেষভাবে প্রেষণার সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, শিখনে ভূমিকা, ম্যাসলোর 5টি চাহিদার স্তর এবং ওয়াইনারের 4টি কারণ মনে রাখবে।
