প্রতিকারমূলক শিক্ষণের অর্থ ও সংজ্ঞা
প্রতিকারমূলক শিক্ষণ হলো এমন একটি শিক্ষণ পদ্ধতি, যার সাহায্যে শিক্ষার্থীদের শিখনের অসুবিধা, ভুল ধারণা ও দুর্বলতা চিহ্নিত করে বিশেষভাবে শিক্ষাদান করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের শিখনের ঘাটতি পূরণ করা এবং তাদের শিক্ষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
শ্রেণিকক্ষে সব শিক্ষার্থী একই গতিতে শেখে না। কেউ সহজেই পাঠ বুঝতে পারে, আবার কেউ একই বিষয় বুঝতে বেশি সময় নেয়। তাই পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সাহায্য, অনুশীলন ও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রতিকারমূলক শিক্ষণকে সংশোধনমূলক শিক্ষণ (Corrective Teaching) বা ক্ষতিপূরক শিক্ষণের সঙ্গেও সম্পর্কিত করে দেখা হয়।
প্রতিকারমূলক শিক্ষণের বৈশিষ্ট্য
-
শিক্ষার্থীদের শিখনের দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়।
-
শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
-
পাঠ্যবিষয়কে ছোটো ছোটো অংশে ভাগ করে শেখানো হয়।
-
প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় ও অনুশীলনের ব্যবস্থা করা হয়।
-
শিক্ষার্থীদের ভুল সংশোধন করে সঠিক ধারণা গড়ে তোলা হয়।
-
নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অগ্রগতি যাচাই করা হয়।
-
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে শেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
প্রতিকারমূলক শিক্ষণের পদ্ধতি (Procedures for Remedial Teaching)
1. সংশোধনমূলক শিক্ষণ (Corrective Teaching)
এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের অসুবিধা অনুযায়ী পাঠ্যবিষয় পুনরায় শেখানো হয়। জটিল বিষয়কে ছোটো ছোটো অংশে ভাগ করে সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।
এর প্রধান ধাপগুলি হলো:
-
সমস্যা চিহ্নিতকরণ: শিক্ষার্থী কোন বিষয় বুঝতে পারছে না, তা নির্ণয় করা।
-
পুনরায় শিক্ষাদান: সহজ উদাহরণ ও উপযুক্ত পদ্ধতিতে পাঠ বোঝানো।
-
ব্যক্তিগত নির্দেশনা: প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা সাহায্য করা।
-
অনুশীলন: শিক্ষার্থীকে বারবার অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া।
-
মূল্যায়ন: শিক্ষার্থী বিষয়টি কতটা বুঝেছে, তা যাচাই করা।
মূল্যায়নের প্রকারভেদ
ক. গঠনমূলক মূল্যায়ন (Formative Evaluation)
শিক্ষণ চলাকালীন যে মূল্যায়ন করা হয়, তাকে গঠনমূলক মূল্যায়ন বলে। এর সাহায্যে শিক্ষার্থীর ভুল দ্রুত চিহ্নিত করে সংশোধন করা যায়।
উদাহরণ: শ্রেণিকক্ষে প্রশ্ন করা, ছোটো পরীক্ষা নেওয়া, অনুশীলন খাতা যাচাই করা।
খ. সামষ্টিক মূল্যায়ন (Summative Evaluation)
কোনো অধ্যায়, একক বা নির্দিষ্ট শিক্ষণপর্বের শেষে শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাই করার জন্য যে মূল্যায়ন করা হয়, তাকে সামষ্টিক মূল্যায়ন বলে।
উদাহরণ: অধ্যায় শেষে পরীক্ষা বা নির্দিষ্ট এককের পরীক্ষা।
মূল্যায়নের ফল অনুযায়ী শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অনুশীলন, সংশোধনমূলক শিক্ষণ অথবা উন্নতমানের কাজ দিতে পারেন।
2. শ্রেণির মধ্যে দল গঠন (Within-Class Grouping)
এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শিখনের প্রয়োজন, দক্ষতা ও পারদর্শিতার ভিত্তিতে বিভিন্ন দলে ভাগ করা হয়।
এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি দলকে উপযুক্ত শিক্ষণ ও অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া।
উদাহরণ:
-
দ্রুত শিখতে পারে এমন শিক্ষার্থীদের উন্নতমানের কাজ দেওয়া।
-
কোনো বিষয়ে দুর্বল শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ও অনুশীলন দেওয়া।
-
দলগত আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরস্পরের কাছ থেকে শেখার সুযোগ তৈরি করা।
গুরুত্ব: এই পদ্ধতিতে শিক্ষকের পক্ষে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী সাহায্য করা সহজ হয়। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়।
3. উৎকর্ষতামূলক কার্যক্রম (Enrichment Programme)
উৎকর্ষতামূলক কার্যক্রম হলো এমন শিক্ষামূলক ও সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম, যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটায়।
উদাহরণ: বিজ্ঞান প্রদর্শনী, কুইজ, বিতর্ক, গল্প লেখা, চিত্রাঙ্কন, প্রকল্প তৈরি এবং সৃজনশীল সমস্যা সমাধান।
উৎকর্ষতামূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব
-
শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীণ বিকাশে সাহায্য করে।
-
সৃজনশীলতা ও চিন্তনশক্তির বিকাশ ঘটায়।
-
সামাজিক সচেতনতা ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে।
-
নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও সহানুভূতি বৃদ্ধি করে।
-
শিক্ষার্থীর বিশেষ আগ্রহ ও প্রতিভা শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
-
পাঠ্যবিষয়ের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করে।
-
শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
আরোহী পদ্ধতির অর্থ ও সংজ্ঞা
যে শিক্ষণ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি বিশেষ উদাহরণ পর্যবেক্ষণ করে একটি সাধারণ নিয়ম বা সূত্রে পৌঁছায়, তাকে আরোহী পদ্ধতি (Inductive Method) বলে।
এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী নিজে পর্যবেক্ষণ, তুলনা ও যুক্তির সাহায্যে সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।
আরোহী পদ্ধতির সঙ্গে ফ্রান্সিস বেকন ও পেস্তালোৎসির নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
আরোহী পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য
-
বিশেষ থেকে সাধারণের দিকে অগ্রসর হয়।
-
মূর্ত থেকে বিমূর্তের দিকে অগ্রসর হয়।
-
উদাহরণ থেকে সূত্র আবিষ্কার করা হয়।
-
পর্যবেক্ষণ ও যুক্তির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
-
শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকে।
-
শিক্ষার্থীর আবিষ্কারমূলক শিখনে সাহায্য করে।
আরোহী পদ্ধতির উদাহরণ
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিচের যোগগুলি করতে দিলেন:
-
2+4=6
-
4+6=10
-
8+10=18
এরপর শিক্ষক আরও উপযুক্ত উদাহরণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যাগুলির স্থান পরিবর্তন করে যোগ করার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে বললেন।
শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারল, দুটি সংখ্যার যোগফল নির্ণয়ে সংখ্যার স্থান পরিবর্তন করলেও যোগফল পরিবর্তিত হয় না।
অর্থাৎ, তারা উদাহরণ থেকে যোগের বিনিময় সূত্র আবিষ্কার করল:
এটি আরোহী পদ্ধতির একটি উদাহরণ।
আরোহী পদ্ধতির ধাপ (Steps of Inductive Method)
1. উদাহরণ উপস্থাপন (Presentation of Examples)
শিক্ষক একই ধরনের কয়েকটি উপযুক্ত উদাহরণ শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করেন।
2. পর্যবেক্ষণ (Observation)
শিক্ষার্থীরা উদাহরণগুলি পর্যবেক্ষণ করে তাদের মধ্যে মিল ও পার্থক্য খুঁজে বের করে।
3. সাধারণীকরণ (Generalization)
বিভিন্ন উদাহরণের মধ্যে মিল খুঁজে শিক্ষার্থীরা একটি সাধারণ নিয়ম বা সূত্রে পৌঁছায়।
4. যাচাই (Verification)
নতুন উদাহরণে সূত্রটি প্রয়োগ করে দেখা হয় সেটি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না।
আরোহী পদ্ধতির সুবিধা (Advantages of Inductive Method)
-
এটি শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ও সক্রিয় শিখনে সহায়ক।
-
পর্যবেক্ষণ, যুক্তি ও চিন্তনশক্তির বিকাশ ঘটায়।
-
শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে।
-
শিক্ষার্থীরা নিজেরা সূত্র আবিষ্কার করায় বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারে।
-
শেখা বিষয় দীর্ঘদিন মনে রাখতে সাহায্য করে।
-
বৈজ্ঞানিক মনোভাব ও অনুসন্ধিৎসা গড়ে তোলে।
-
গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষণে বিশেষভাবে উপযোগী।
আরোহী পদ্ধতির অসুবিধা (Disadvantages of Inductive Method)
-
এই পদ্ধতিতে বেশি সময় লাগে।
-
অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকের বেশি প্রস্তুতি ও পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়।
-
সব ধরনের বিষয় বা জটিল সূত্র শেখানোর জন্য এটি উপযুক্ত নয়।
-
পর্যাপ্ত উদাহরণ না থাকলে সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হয়।
-
উচ্চতর স্তরে প্রতিটি সূত্র উদাহরণ থেকে আবিষ্কার করানো সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
-
কয়েকটি উদাহরণ থেকে তৈরি সিদ্ধান্ত সব ক্ষেত্রে সঠিক হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
অবরোহী পদ্ধতির অর্থ ও সংজ্ঞা
যে শিক্ষণ পদ্ধতিতে প্রথমে একটি সাধারণ নিয়ম, সূত্র বা নীতি ব্যাখ্যা করা হয় এবং পরে সেই নিয়মকে বিশেষ উদাহরণে প্রয়োগ করা হয়, তাকে অবরোহী পদ্ধতি (Deductive Method) বলে।
এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী সাধারণ নিয়ম থেকে নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করতে শেখে।
অবরোহী পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য
-
সাধারণ থেকে বিশেষের দিকে অগ্রসর হয়।
-
সূত্র বা নিয়ম থেকে উদাহরণে যাওয়া হয়।
-
ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
-
তুলনামূলকভাবে কম সময় লাগে।
-
অনুশীলন ও পুনরালোচনার জন্য উপযোগী।
-
গণিতের বিভিন্ন সূত্র ও নিয়ম প্রয়োগে কার্যকর।
অবরোহী পদ্ধতির উদাহরণ
শিক্ষক প্রথমে শিক্ষার্থীদের একটি নিয়ম শেখালেন:
ত্রিভুজের তিনটি কোণের সমষ্টি 180∘।
এরপর একটি ত্রিভুজের দুটি কোণ 60∘ ও 70∘ হলে তৃতীয় কোণ নির্ণয় করতে বললেন।
সমাধান:
এখানে প্রথমে সাধারণ নিয়ম শেখানো হয়েছে এবং পরে নির্দিষ্ট সমস্যায় প্রয়োগ করা হয়েছে। তাই এটি অবরোহী পদ্ধতির উদাহরণ।
অবরোহী পদ্ধতির ধাপ (Steps of Deductive Method)
1. সমস্যার স্পষ্ট ধারণা (Clear Recognition of the Problem)
শিক্ষক সমস্যাটি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন, যাতে শিক্ষার্থীরা কী সমাধান করতে হবে তা বুঝতে পারে।
2. নিয়ম বা সূত্র নির্বাচন
সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম, সূত্র বা নীতি নির্বাচন করা হয়।
3. নিয়ম প্রয়োগ (Application)
শিক্ষার্থীরা নির্বাচিত নিয়ম বা সূত্র ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান করে।
4. যাচাই (Verification)
সমাধানটি সঠিক হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়।
অবরোহী পদ্ধতির সুবিধা (Advantages of Deductive Method)
-
এই পদ্ধতিতে তুলনামূলকভাবে কম সময় লাগে।
-
নিয়ম ও সূত্র দ্রুত শেখানো যায়।
-
অনুশীলন ও পুনরালোচনার জন্য উপযোগী।
-
সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
-
উচ্চতর শ্রেণিতে গণিতের সূত্র প্রয়োগে কার্যকর।
-
অনেক ক্ষেত্রে জটিল সূত্রের ব্যবহার শেখানো সহজ হয়।
-
শিক্ষকের পক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাঠ শেষ করা সহজ হয়।
অবরোহী পদ্ধতির অসুবিধা (Disadvantages of Deductive Method)
-
শিক্ষার্থীরা অনেক সময় নিয়ম মুখস্থ করে, কিন্তু তার কারণ বুঝতে পারে না।
-
শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ কম হতে পারে।
-
পর্যবেক্ষণ ও আবিষ্কারের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম।
-
ছোটো শিক্ষার্থীদের কাছে বিমূর্ত নিয়ম বোঝা কঠিন হতে পারে।
-
শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তি ও অনুসন্ধিৎসার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যদি শুধু মুখস্থ ও প্রয়োগের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
-
বাস্তব উদাহরণ ছাড়া নিয়ম শেখালে শিখন একঘেয়ে হয়ে উঠতে পারে।
TET, CTET ও অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য এই পার্থক্যগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
|
পার্থক্যের বিষয় |
আরোহী পদ্ধতি |
অবরোহী পদ্ধতি |
|---|---|---|
|
ইংরেজি নাম |
Inductive Method |
Deductive Method |
|
অগ্রগতির দিক |
বিশেষ থেকে সাধারণ |
সাধারণ থেকে বিশেষ |
|
সূচনা |
উদাহরণ দিয়ে |
নিয়ম বা সূত্র দিয়ে |
|
শিক্ষার্থীর ভূমিকা |
নিয়ম আবিষ্কারে সক্রিয় |
নিয়ম প্রয়োগে সক্রিয় |
|
প্রধান প্রক্রিয়া |
পর্যবেক্ষণ ও সাধারণীকরণ |
ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ |
|
শিখনের ধরন |
আবিষ্কারমূলক শিখন |
নিয়মভিত্তিক শিখন |
|
সময় |
তুলনামূলকভাবে বেশি |
তুলনামূলকভাবে কম |
|
বিশেষ উপযোগিতা |
ধারণা ও সূত্র আবিষ্কার |
সূত্রের প্রয়োগ ও অনুশীলন |
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে রাখার কৌশল
আরোহী পদ্ধতি (Inductive)
উদাহরণ → পর্যবেক্ষণ → সাধারণ নিয়ম
বিশেষ → সাধারণ
অবরোহী পদ্ধতি (Deductive)
সাধারণ নিয়ম → প্রয়োগ → নির্দিষ্ট সমাধান
সাধারণ → বিশেষ
-
প্রতিকারমূলক শিক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীর শিখনের ঘাটতি দূর করা।
-
গঠনমূলক মূল্যায়ন শিক্ষণ চলাকালীন করা হয়।
-
সামষ্টিক মূল্যায়ন সাধারণত কোনো অধ্যায় বা শিক্ষণপর্বের শেষে করা হয়।
-
শ্রেণির মধ্যে দল গঠনের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত নির্দেশনা ও শিখনের সুযোগ দেওয়া।
-
উৎকর্ষতামূলক কার্যক্রম শিক্ষার্থীর প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও দক্ষতার বিকাশ ঘটায়।
-
আরোহী পদ্ধতিতে বিশেষ উদাহরণ থেকে সাধারণ সূত্রে পৌঁছানো হয়।
-
অবরোহী পদ্ধতিতে সাধারণ সূত্র থেকে বিশেষ সমস্যার সমাধান করা হয়।
-
আরোহী পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ ও সাধারণীকরণ গুরুত্বপূর্ণ।
-
অবরোহী পদ্ধতিতে নিয়মের প্রয়োগ ও অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ।
-
কার্যকর শিক্ষণ নিশ্চিত করতে শিক্ষক শিক্ষার্থীর বয়স, পূর্বজ্ঞান, দক্ষতা ও শিখনের প্রয়োজন অনুযায়ী পদ্ধতি নির্বাচন করেন।
উপসংহার
প্রতিকারমূলক শিক্ষণ শিক্ষার্থীদের শিখনের দুর্বলতা দূর করে তাদের সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, আরোহী পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের উদাহরণ থেকে নিয়ম আবিষ্কার করতে শেখায় এবং অবরোহী পদ্ধতি নিয়মকে বাস্তব সমস্যায় প্রয়োগ করতে সাহায্য করে। এই তিনটি বিষয়ই Child Development and Pedagogy (CDP)-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং Primary TET, Upper Primary TET ও CTET পরীক্ষার MCQ প্রস্তুতির জন্য ভালোভাবে অনুশীলন করা প্রয়োজন।
