Class XII›
Bengali ›
Geography ›
Mock Test ›
Class XI›
Class X›
Primary TET›
Upper Primary TET›
Competitive Exams›
Math ›
LIVE Access mock tests, and notes for 300+ exams
✕

অপরাধপ্রবণ শিশু (Delinquent Child): সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার | TET, CDP, CTET, Upper Primary TET, Primary TET

অপরাধপ্রবণ শিশু (Delinquent Child): সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার | TET, CDP, CTET, Upper Primary TET, Primary TET

অপরাধপ্রবণ শিশু (Delinquent Child) Child Development and Pedagogy বা CDP-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। TET, CTET, Primary TET এবং Upper Primary TET পরীক্ষায় শিশুর আচরণ, ব্যক্তিগত পার্থক্য এবং আচরণগত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে।

অপরাধপ্রবণ শিশু বলতে কী বোঝায়?

প্রতিটি সমাজে কিছু নিয়ম, নীতি, মূল্যবোধ ও সামাজিক আচরণবিধি রয়েছে। সমাজের সদস্যদের কাছ থেকে সাধারণত এই নিয়মগুলি মেনে চলার প্রত্যাশা করা হয়।

যে শিশু বা কিশোর বারবার সামাজিক নিয়ম, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বা আইনবিরোধী আচরণ করে এবং তার আচরণে গুরুতর সামাজিক সমস্যা দেখা দেয়, তাকে সাধারণভাবে অপরাধপ্রবণ শিশু (Delinquent Child) বলা হয়।

তবে মনে রাখতে হবে, কোনো শিশুকে শুধু একটি ভুল বা একবারের খারাপ আচরণের জন্য অপরাধপ্রবণ বলা উচিত নয়। বারবার সংঘটিত গুরুতর আচরণগত সমস্যা এবং তার সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন।


অপরাধপ্রবণতার সংজ্ঞা

অপরাধপ্রবণতা একটি জটিল মানসিক, সামাজিক ও আচরণগত সমস্যা। বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে এর ব্যাখ্যা করেছেন।

Johnson এবং Szurek

তাঁদের মতে, অপরাধপ্রবণতার সঙ্গে ব্যক্তির নৈতিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা সম্পর্কিত।

Mowrer

Mowrer-এর মতে, উপযুক্ত শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশের অভাব শিশুর মধ্যে অপরাধপ্রবণ আচরণের সৃষ্টি করতে পারে।

Skinner

Skinner-এর মতে, কিশোর অপরাধপ্রবণতা এমন কিছু আইনবিরোধী আচরণকে বোঝায়, যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক করলে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো।

পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন

Delinquent Child = সামাজিক নিয়ম, নৈতিকতা বা আইনবিরোধী আচরণে প্রবণ শিশু।


অপরাধপ্রবণ শিশুর আচরণের উদাহরণ

অপরাধপ্রবণ আচরণের ধরন সমাজ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। বিদ্যালয় ও সামাজিক জীবনে নিম্নলিখিত আচরণগুলি দেখা যেতে পারে—

  • বিদ্যালয়ের সম্পত্তি নষ্ট করা।
  • নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা বা বিদ্যালয় পালানো।
  • শ্রেণিকক্ষ বা বিদ্যালয়ের দেয়ালে অশালীন লেখা বা ছবি আঁকা।
  • অশালীন ভাষা ব্যবহার করা।
  • সহপাঠীদের সঙ্গে মারামারি করা।
  • অন্যকে ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়া।
  • সহপাঠীর বই, খাতা, কলম বা টাকা চুরি করা।
  • বিদ্যালয়ের নিয়ম ও শৃঙ্খলা অমান্য করা।
  • অভিভাবকের স্বাক্ষর জাল করা।
  • অন্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্ত্যক্ত বা হয়রানি করা।
  • গুরুতর ক্ষেত্রে যৌন নিপীড়ন বা অন্যান্য আইনবিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়া।

গুরুত্বপূর্ণ: কোনো শিশুর একটি বিচ্ছিন্ন ভুল আচরণকে অপরাধপ্রবণতার প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। শিশুর বয়স, পরিবেশ, আচরণের ধারাবাহিকতা এবং সমস্যার কারণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।


অপরাধপ্রবণ শিশুর বৈশিষ্ট্য

অপরাধপ্রবণ শিশুদের আচরণ একরকম নয়। সাধারণভাবে তাদের আচরণগত বৈশিষ্ট্যকে দুটি প্রবণতায় আলোচনা করা যায়।

1. বহির্মুখী ও আক্রমণাত্মক প্রবণতা

এই ধরনের শিশুর মধ্যে দেখা যেতে পারে—

  • দুঃসাহসিক কাজে আগ্রহ।
  • ঝুঁকিপূর্ণ কাজের প্রতি আকর্ষণ।
  • অধৈর্যতা।
  • আবেগপ্রবণতা।
  • আক্রমণাত্মক আচরণ।
  • ধ্বংসাত্মক প্রবণতা।
  • সহপাঠীদের সঙ্গে ঝগড়া বা শত্রুতা।
  • বিদ্যালয়ের নিয়ম মানতে অনীহা।
  • নিজের ইচ্ছা অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
  • প্রয়োজন হলে বলপ্রয়োগের প্রবণতা।
  • শিক্ষক বা সহপাঠীর সঙ্গে অসদাচরণ।

বিদ্যালয় পালানো, মারামারি, বিদ্যালয়ের সম্পত্তি নষ্ট করা, অন্যকে উত্ত্যক্ত করা ইত্যাদি আচরণ এই প্রবণতার উদাহরণ হতে পারে।


2. অন্তর্মুখী ও গোপন আচরণের প্রবণতা

অপরাধপ্রবণতার প্রকাশ সবসময় আক্রমণাত্মক হয় না। কিছু শিশু বাইরে শান্ত ও স্বাভাবিক মনে হলেও গোপনে সমস্যামূলক আচরণ করতে পারে।

এদের মধ্যে দেখা যেতে পারে—

  • লাজুক ও অন্তর্মুখী স্বভাব।
  • ভীতি বা হতাশা।
  • নৈরাশ্যবাদী মনোভাব।
  • আত্মকেন্দ্রিকতা।
  • প্রতিহিংসাপরায়ণতা।
  • গোপনে অন্যের জিনিস নেওয়া।
  • অভিভাবকের স্বাক্ষর জাল করা।
  • গোপনে অশালীন লেখা বা ছবি আঁকা।
  • অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে অনধিকার প্রবেশ।
  • গুরুতর ক্ষেত্রে আত্মক্ষতির চিন্তা বা আচরণ।

মনে রাখবেন

অপরাধপ্রবণ শিশু সবসময় আক্রমণাত্মক বা দুঃসাহসী হবে—এটি সঠিক নয়। কিছু শিশু শান্ত, লাজুক বা অন্তর্মুখী হয়েও গুরুতর আচরণগত সমস্যায় জড়িত থাকতে পারে।


অপরাধপ্রবণ শিশুর শনাক্তকরণ

অপরাধপ্রবণ শিশুকে দ্রুত শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা চিহ্নিত করা গেলে উপযুক্ত শিক্ষামূলক, পারিবারিক ও মনোবৈজ্ঞানিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব।

শনাক্তকরণের কয়েকটি উপায় হলো—

1. নিয়মিত পর্যবেক্ষণ

শিক্ষক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিশুর আচরণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

2. সহপাঠীদের পর্যবেক্ষণ

শিশুর বিদ্যালয়ের ভিতরে ও বাইরে আচরণ সম্পর্কে সহপাঠীদের কাছ থেকেও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

3. পিতামাতার মতামত

বাড়িতে শিশুর আচরণ কেমন, তা জানার জন্য অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।

4. আচরণগত চেকলিস্ট

শিক্ষার্থীর আচরণ, মেজাজ, মনোভাব ও সামাজিক সম্পর্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য উপযুক্ত চেকলিস্ট ব্যবহার করা যায়।

5. বিদ্যালয়ের রেকর্ড

উপস্থিতি, শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা, শিক্ষকদের রিপোর্ট ইত্যাদি বিদ্যালয়ের রেকর্ড থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়।

6. সাক্ষাৎকার

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সমস্যার কারণ বোঝার চেষ্টা করা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ

শুধু একটি লক্ষণ দেখে শিশুকে “অপরাধপ্রবণ” বলে চিহ্নিত করা উচিত নয়। বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে শিশুর আচরণের কারণ ও ধারাবাহিকতা বুঝতে হবে।


অপরাধপ্রবণ শিশুর প্রতিরোধ

অপরাধপ্রবণ আচরণ প্রতিরোধে পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের যৌথ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবারে করণীয়

  • শিশুকে ভালোবাসা ও নিরাপত্তা দেওয়া।
  • পরিবারে সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা।
  • শিশুর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা।
  • অতিরিক্ত শাসন বা সম্পূর্ণ অবহেলা—দুটিই এড়িয়ে চলা।
  • শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা।
  • নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সম্পর্কে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া।
  • অবসর সময়ের জন্য ভালো ও সৃজনশীল কাজের সুযোগ দেওয়া।
  • শিশুর বন্ধু ও সামাজিক পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকা।
  • সমস্যার সময় শিশুকে সহযোগিতা করা।

বিদ্যালয়ের ভূমিকা

অপরাধপ্রবণ আচরণ প্রতিরোধে বিদ্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিদ্যালয়ে যে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত—

  • আনন্দদায়ক ও নিরাপদ বিদ্যালয় পরিবেশ তৈরি করা।
  • শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে বিশ্বাস ও সহমর্মিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা।
  • সব শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগ দেওয়া।
  • খেলাধুলা ও সহপাঠক্রমিক কার্যাবলির ব্যবস্থা করা।
  • শিক্ষার্থীর উপযোগী ও জীবনকেন্দ্রিক পাঠক্রম তৈরি করা।
  • নৈতিক ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া।
  • শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজে যুক্ত করা।
  • আচরণগত সমস্যাকে শুধুমাত্র শাস্তি দিয়ে সমাধান না করা।
  • প্রয়োজন হলে অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা করা।
  • গুরুতর ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানী বা কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া।

অপরাধপ্রবণ শিশুর প্রতিকার

প্রতিরোধের পরও কোনো শিশুর মধ্যে গুরুতর আচরণগত সমস্যা দেখা দিলে তার কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।

মনোবিজ্ঞানী, কাউন্সেলর ও শিক্ষক বিভিন্নভাবে শিশুকে সাহায্য করতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ প্রতিকারমূলক পদ্ধতি

  1. শিশুর ব্যক্তিগত সমস্যা চিহ্নিত করা।
  2. শিশুর সঙ্গে সহানুভূতিশীলভাবে আলোচনা করা।
  3. অপরাধপ্রবণ আচরণের কারণ খুঁজে বের করা।
  4. শিশুকে তার আচরণের নেতিবাচক ফল সম্পর্কে সচেতন করা।
  5. নৈতিক মূল্যবোধ ও আত্মনিয়ন্ত্রণের বিকাশ ঘটানো।
  6. পরিবারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া।
  7. ইতিবাচক আচরণের জন্য Positive Reinforcement ব্যবহার করা।
  8. প্রয়োজন হলে পেশাদার কাউন্সেলিং বা মনোবৈজ্ঞানিক সহায়তা দেওয়া।

Skinner-এর Reinforcement-এর ভূমিকা

B. F. Skinner-এর Reinforcement ধারণা আচরণ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ।

শিশু ভালো ও গ্রহণযোগ্য আচরণ করলে তাকে প্রশংসা, উৎসাহ বা উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হলে সেই আচরণ পুনরায় করার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

তাই অপরাধপ্রবণ শিশুকে শুধু শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে ইতিবাচক আচরণকে উৎসাহিত করা বেশি কার্যকর হতে পারে।


পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট

অপরাধপ্রবণ শিশু (Delinquent Child) বিষয়টি থেকে MCQ-তে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ—

  • Delinquent Child-এর অর্থ।
  • অপরাধপ্রবণতার সংজ্ঞা।
  • অপরাধপ্রবণ শিশুর আচরণগত বৈশিষ্ট্য।
  • বহির্মুখী ও আক্রমণাত্মক আচরণ।
  • অন্তর্মুখী ও গোপন আচরণ।
  • অপরাধপ্রবণ শিশুর শনাক্তকরণ।
  • পরিবার ও বিদ্যালয়ের ভূমিকা।
  • অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধের উপায়।
  • অপরাধপ্রবণ শিশুর প্রতিকার।
  • Skinner-এর Reinforcement পদ্ধতি।
  • শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ইতিবাচক সম্পর্কের গুরুত্ব।

এক কথায় মনে রাখুন

অপরাধপ্রবণ শিশুর ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হলো—শাস্তি নয়, সমস্যার কারণ শনাক্ত করে উপযুক্ত শিক্ষা, নির্দেশনা, কাউন্সেলিং এবং ইতিবাচক আচরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে শিশুকে স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে ফিরিয়ে আনা।

MCQ Preparation-এর জন্য বিশেষ নোট

Delinquent Child → আচরণগত ও সামাজিক সমস্যা
Identification → Observation, Checklist, Interview, School Records
Prevention → সুস্থ পরিবার + নিরাপদ বিদ্যালয় + নৈতিক শিক্ষা
Treatment → Counselling + Guidance + Positive Reinforcement
Skinner → Reinforcement ও Behaviour Modification

Share:
← Back to all posts