👋 How can I help you?
My Online Test Support
AI assistant. Please do not share passwords, OTPs or payment details.
Class XII›
Bengali ›
Geography ›
Mock Test ›
Class XI›
Class X›
Primary TET›
Upper Primary TET›
Competitive Exams›
Math ›
LIVE Access mock tests, and notes for 300+ exams
✕

শিক্ষাযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতা (Educable Intellectual Disability): বৈশিষ্ট্য ও শিক্ষা | TET, CTET, CDP, Primary TET ও Upper Primary TET

শিক্ষাযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতা (Educable Intellectual Disability): বৈশিষ্ট্য ও শিক্ষা | TET, CTET, CDP, Primary TET ও Upper Primary TET

শিক্ষাযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতা (Educable Intellectual Disability): বৈশিষ্ট্য, শিক্ষা ও নির্দেশনা

Child Development and Pedagogy (CDP)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতা (Intellectual Disability) এবং শিক্ষাযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা।

TET, CTET, Primary TET এবং Upper Primary TET পরীক্ষায় এই বিষয় থেকে সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, শ্রেণিবিভাগ, শিক্ষাগত সমস্যা এবং শিক্ষকের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন আসতে পারে।

নোট: পুরনো বইয়ে Mental Retardation বা Mentally Retarded শব্দ ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে ও মনোবিজ্ঞানে Intellectual Disability (ID) বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতা শব্দটি বেশি গ্রহণযোগ্য।


বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতা কী? (Intellectual Disability)

বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতা বলতে এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যেখানে ব্যক্তির বৌদ্ধিক কার্যক্ষমতা (Intellectual Functioning) এবং অভিযোজনমূলক দক্ষতা (Adaptive Behaviour)-এর বিকাশে উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা থাকে এবং এর প্রভাব বিকাশের সময় থেকেই দেখা যায়।

এর ফলে শিশুর—

  • শেখার গতি,

  • চিন্তা ও যুক্তি করার ক্ষমতা,

  • সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা,

  • ভাষা ও যোগাযোগ,

  • দৈনন্দিন জীবনযাপনের দক্ষতা,

  • সামাজিক অভিযোজন

ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাত্রায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, প্রতিটি শিশুর ক্ষমতা ও প্রয়োজন এক রকম নয়। উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব।


বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতার সংজ্ঞা (Definition)

বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

1. সামাজিক অভিযোজনের দৃষ্টিকোণ

Tregold-এর মতে, মানসিক বিকাশের এমন স্তর যেখানে ব্যক্তি সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে যথাযথভাবে অভিযোজন করতে অসুবিধা অনুভব করে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য নিয়মিত সহায়তা ও তত্ত্বাবধানের প্রয়োজন হয়, তাকে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে যুক্ত করা যায়।

2. AAMR-এর ধারণা

পুরনো AAMR-এর সংজ্ঞায় বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতার ক্ষেত্রে সাধারণ বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্ষমতা কম থাকা এবং অভিযোজনমূলক আচরণে সীমাবদ্ধতা-কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর প্রকাশ বিকাশকালেই দেখা যায়।

বর্তমান ধারণায় শুধু IQ নয়, শিশুর Adaptive Behaviour, অর্থাৎ দৈনন্দিন ও সামাজিক জীবনে প্রয়োজনীয় দক্ষতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।


বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী শিশুদের বৈশিষ্ট্য (Characteristics)

প্রতিবন্ধিতার মাত্রা ও শিশুর ব্যক্তিগত পার্থক্যের উপর বৈশিষ্ট্যগুলি নির্ভর করে। সাধারণভাবে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে।

1. বৌদ্ধিক দক্ষতায় সীমাবদ্ধতা

নতুন বিষয় শেখা, মনে রাখা, যুক্তি করা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

বিশেষ করে বিমূর্ত ধারণা বোঝার তুলনায় বাস্তব ও মূর্ত বিষয় ব্যবহার করে শেখানো অনেক সময় বেশি কার্যকর হয়।


2. শেখার গতি ধীর

এই ধরনের শিশু সাধারণ শিক্ষার্থীদের তুলনায় কোনো বিষয় শিখতে বেশি সময় নিতে পারে।

তাই শিক্ষককে—

  • ধীরে ধীরে শেখাতে হবে,

  • বারবার অনুশীলনের সুযোগ দিতে হবে,

  • সহজ উদাহরণ ব্যবহার করতে হবে।


3. অভিযোজনমূলক দক্ষতায় সমস্যা

দৈনন্দিন জীবন, সামাজিক পরিস্থিতি এবং পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যেমন—

  • নিজের কাজ নিজে করা,

  • সামাজিক নিয়ম মেনে চলা,

  • পরিস্থিতি অনুযায়ী আচরণ করা,

  • দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান করা।


4. স্মৃতির ক্ষেত্রে সমস্যা

নতুন বিষয় মনে রাখা এবং আগে শেখা বিষয় নতুন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করতে অসুবিধা হতে পারে।

তাই পুনরাবৃত্তি ও অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


5. ভাষা ও যোগাযোগে সমস্যা

কিছু শিশুর ভাষার বিকাশ তুলনামূলকভাবে ধীর হতে পারে।

সমস্যাগুলির মধ্যে থাকতে পারে—

  • কথা বলতে দেরি হওয়া,

  • শব্দভাণ্ডার সীমিত হওয়া,

  • উচ্চারণে অসুবিধা,

  • নিজের কথা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে সমস্যা,

  • নির্দেশ বুঝতে বেশি সময় লাগা।


6. প্রেষণার ঘাটতি

কিছু শিশুর কোনো কাজ শুরু করা বা শেষ করার ক্ষেত্রে উৎসাহের অভাব দেখা দিতে পারে।

এক্ষেত্রে শিক্ষককে ইতিবাচক উৎসাহ, প্রশংসা ও ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।


7. শিক্ষাগত দক্ষতায় সমস্যা

পঠন, লিখন ও গণিত—অর্থাৎ 3R (Reading, Writing and Arithmetic)-এর দক্ষতা অর্জনে সমস্যা হতে পারে।

তবে প্রতিটি শিশুর সমস্যা একই রকম নয়।


8. সামাজিক দক্ষতায় সমস্যা

অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ, সহযোগিতা, সামাজিক নিয়ম বোঝা এবং দলগত কাজে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।


বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতার শ্রেণিবিভাগ

পুরনো শিক্ষামনোবিজ্ঞানের বইগুলিতে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতাকে প্রধানত IQ-এর ভিত্তিতে বিভিন্ন মাত্রায় ভাগ করা হতো।

পুরনো শ্রেণিবিভাগে সাধারণত উল্লেখ করা হত—

  • Mild

  • Moderate

  • Severe

  • Profound

তবে বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গিতে শুধু IQ দিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতার মাত্রা নির্ধারণ করা হয় না। ব্যক্তির অভিযোজনমূলক দক্ষতা, দৈনন্দিন জীবনযাপনের সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার মাত্রাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ

TET বা CTET-এর পুরনো প্রশ্ন ও বইয়ে IQ-based classification দেখা যেতে পারে। তাই প্রশ্নের ভাষা অনুযায়ী উত্তর দিতে হবে। তবে আধুনিক ধারণায় Adaptive Behaviour ও Support Needs-কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।


শিক্ষাযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতা (Educable Intellectual Disability)

Educable Mental Retardation (EMR) শব্দটি পুরনো শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি পরিভাষা। বর্তমানে এর পরিবর্তে আরও সম্মানজনক ও আধুনিক ভাষায় শিক্ষাযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বলা যেতে পারে।

সহজভাবে, যেসব বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী শিশু উপযুক্ত সহায়তা, বিশেষ শিক্ষণ-পদ্ধতি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পঠন, লিখন, গণিত, সামাজিক দক্ষতা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে, তাদের শিক্ষাযোগ্য শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে পুরনো শিক্ষাব্যবস্থায় বিবেচনা করা হতো।


শিক্ষাযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী শিশুদের বৈশিষ্ট্য

1. দৈহিক বৈশিষ্ট্য

অনেক ক্ষেত্রে এই শিশুদের বাহ্যিক শারীরিক গঠন সাধারণ শিশুদের মতোই হতে পারে। তবে কিছু শিশুর—

  • দৃষ্টি,

  • শ্রবণ,

  • অঙ্গসঞ্চালন,

  • সমন্বয়

ইত্যাদি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সমস্যা থাকতে পারে।

তাই প্রত্যেক শিশুর স্বাস্থ্য ও শারীরিক প্রয়োজন আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


2. বৌদ্ধিক বৈশিষ্ট্য

এই শিশুদের মধ্যে—

  • শেখার গতি ধীর হতে পারে।

  • স্মরণশক্তিতে সমস্যা হতে পারে।

  • বিমূর্ত ধারণা বুঝতে অসুবিধা হতে পারে।

  • যুক্তি ও সমস্যা সমাধানে বেশি সময় লাগতে পারে।

  • একটি পরিস্থিতিতে শেখা বিষয় অন্য পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করতে অসুবিধা হতে পারে।

  • কারণ ও ফলাফলের সম্পর্ক বুঝতে সমস্যা হতে পারে।

  • সামান্যীকরণের ক্ষমতা সীমিত হতে পারে।

তবে কোনো কোনো শিশুর নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতাও থাকতে পারে।


3. শিক্ষাগত বৈশিষ্ট্য

শিক্ষাযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্ষেত্রে—

  • পড়তে শেখায় বেশি সময় লাগতে পারে।

  • লিখতে শেখায় অতিরিক্ত অনুশীলন প্রয়োজন হতে পারে।

  • গণিতের মৌলিক ধারণা আয়ত্ত করতে সমস্যা হতে পারে।

  • নতুন বিষয় শেখার জন্য বারবার অনুশীলন প্রয়োজন হতে পারে।

  • ছোট ও সহজ ধাপে শিক্ষা দিলে তারা ভালোভাবে শিখতে পারে।


4. ব্যক্তিগত ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য

কিছু শিশুর—

  • সামাজিক যোগাযোগে সমস্যা,

  • সহযোগিতামূলক আচরণে সমস্যা,

  • সামাজিক নিয়ম বুঝতে অসুবিধা,

  • নিজের প্রয়োজন প্রকাশে সমস্যা

ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।

তবে উপযুক্ত সামাজিক প্রশিক্ষণ ও সহপাঠীদের সহযোগিতার মাধ্যমে এই দক্ষতাগুলির উন্নতি করা সম্ভব।


শিক্ষাযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার উদ্দেশ্য

এই শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য শুধু বইয়ের জ্ঞান দেওয়া নয়। বরং তাদের স্বনির্ভর, সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং যতটা সম্ভব স্বাধীন জীবনযাপনের উপযোগী করে তোলা।

প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হল—

  1. পঠন, লিখন ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা বৃদ্ধি।

  2. ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতার উন্নতি।

  3. সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি।

  4. অভিযোজনমূলক দক্ষতা বৃদ্ধি।

  5. দৈনন্দিন জীবনযাপনের দক্ষতা অর্জন।

  6. আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধি।

  7. প্রয়োজন অনুযায়ী বৃত্তিমূলক দক্ষতার বিকাশ।


শিক্ষাযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাদানের নীতি

এই ধরনের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে শিক্ষককে বিশেষ যত্নশীল হতে হবে।

1. শিশুর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ

শিক্ষার্থীর—

  • ক্ষমতা,

  • দুর্বলতা,

  • আগ্রহ,

  • প্রয়োজন,

  • পূর্ব অভিজ্ঞতা,

  • সামাজিক ও পারিবারিক পরিবেশ

সম্পর্কে যত বেশি তথ্য জানা যাবে, তত ভালোভাবে শিক্ষা পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে।


2. সহজ ও স্পষ্ট নির্দেশনা

নতুন বিষয় খুব সহজ ভাষায় এবং ছোট ছোট ধাপে বোঝাতে হবে।

একসঙ্গে অনেক তথ্য না দিয়ে একটি ধারণা → অনুশীলন → পুনরাবৃত্তি → পরবর্তী ধারণা পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে।


3. মূর্ত শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার

বিমূর্ত ধারণার পরিবর্তে বাস্তব বস্তু, ছবি, মডেল, চার্ট ও অন্যান্য শিক্ষাসহায়ক উপকরণ ব্যবহার করা উচিত।

যেমন, শুধু সংখ্যার ধারণা বোঝানোর পরিবর্তে বাস্তব বস্তু গুনিয়ে যোগ-বিয়োগ শেখানো যেতে পারে।


4. বারবার অনুশীলন

এই শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে Repetition and Practice অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি বিষয় একবার বুঝিয়ে থেমে না গিয়ে বিভিন্ন উদাহরণ ও পরিস্থিতির মাধ্যমে বারবার অনুশীলন করাতে হবে।


5. ছোট ছোট ধাপে শিক্ষা

বড় একটি কাজকে কয়েকটি ছোট ধাপে ভাগ করে শেখানো উচিত।

এতে শিক্ষার্থী সহজে বুঝতে পারে এবং প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ করার পর আত্মবিশ্বাস বাড়ে।


6. ইতিবাচক উৎসাহ প্রদান

শিক্ষার্থী কোনো কাজ আংশিকভাবে সঠিক করলেও তার প্রচেষ্টার প্রশংসা করা উচিত।

Positive Reinforcement শিশুর শেখার আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করে।


7. সহজ গৃহকাজ

গৃহকাজ শিশুর ক্ষমতা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে। অতিরিক্ত কঠিন বা দীর্ঘ কাজ দেওয়া উচিত নয়।


8. গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পুনরাবৃত্তি

শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বারবার সংক্ষেপে মনে করিয়ে দিতে হবে।

প্রতিটি পাঠের শেষে মূল বিষয়গুলি আবার আলোচনা করলে শেখা বিষয় মনে রাখতে সুবিধা হয়।


9. পর্যাপ্ত সময় দেওয়া

এই শিক্ষার্থীদের শেখার গতি ধীর হতে পারে। তাই অন্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে তুলনা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় দেওয়া উচিত।


10. সহায়ক শিক্ষণ উপকরণ ব্যবহার

শ্রবণ ও দর্শনভিত্তিক শিক্ষাসামগ্রী, ছবি, চার্ট, মডেল, ভিডিও ইত্যাদি ব্যবহার করলে অনেক শিক্ষার্থীর শেখা সহজ হতে পারে।


11. Diagnostic Test ব্যবহার

শিক্ষার্থীর কোন জায়গায় সমস্যা হচ্ছে তা চিহ্নিত করার জন্য Diagnostic Assessment ব্যবহার করা যেতে পারে।

এর মাধ্যমে দুর্বল ক্ষেত্র চিহ্নিত করে Remedial Teaching বা সংশোধনমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায়।


সাধারণ বিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অন্য শিক্ষার্থীদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে রাখার পরিবর্তে Inclusive Education-এর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অর্থাৎ প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ব্যবস্থা রেখে তাদের সাধারণ বিদ্যালয় ও শ্রেণিকক্ষের শিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত।

তারা—

  • প্রার্থনা সভা,

  • খেলাধুলা,

  • সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,

  • সংগীত,

  • শিল্প,

  • নাটক,

  • বিভিন্ন সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম

ইত্যাদিতে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পারে।

এতে তাদের সামাজিক দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেতে পারে।


শিক্ষকের ভূমিকা

শিক্ষাযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন শিক্ষককে—

  • ধৈর্যশীল হতে হবে।

  • সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে।

  • শিশুকে অপমান বা উপহাস করা যাবে না।

  • অন্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।

  • শিশুর ব্যক্তিগত ক্ষমতা অনুযায়ী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

  • সহজ ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা দিতে হবে।

  • নিয়মিত Feedback দিতে হবে।

  • ইতিবাচক আচরণকে উৎসাহিত করতে হবে।

  • প্রয়োজন অনুযায়ী অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

  • শিশুকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।


TET ও CTET পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিষয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
Intellectual Disability বৌদ্ধিক কার্যক্ষমতা ও অভিযোজনমূলক দক্ষতায় সীমাবদ্ধতা
পুরনো পরিভাষা Mental Retardation
আধুনিক পরিভাষা Intellectual Disability
Educable উপযুক্ত শিক্ষা ও সহায়তার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ও জীবনদক্ষতা অর্জনের সম্ভাবনা
গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা Reading, Writing, Arithmetic এবং Adaptive Skills
শিক্ষণ পদ্ধতি সহজ, ধাপে ধাপে, বাস্তবভিত্তিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক
গুরুত্বপূর্ণ নীতি Positive Reinforcement
মূল্যায়ন Diagnostic Assessment
সংশোধনমূলক শিক্ষা Remedial Teaching
উপযুক্ত শিক্ষাদর্শ Inclusive Education

পরীক্ষায় মনে রাখার সহজ কৌশল

Intellectual Disability → Intellectual Functioning + Adaptive Behaviour

Educable → Education + Skill Development + Adaptation

Teaching Strategy → Simple + Concrete + Repetition + Practice

Teacher → Patience + Support + Encouragement

Assessment → Diagnostic Assessment → Remedial Teaching


উপসংহার

শিক্ষাযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হল তাদের শিক্ষাগত, সামাজিক, যোগাযোগমূলক এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের দক্ষতা যতটা সম্ভব উন্নত করা।

এই শিশুদের প্রতি করুণা নয়, প্রয়োজন সম্মান, সহানুভূতি, উপযুক্ত শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা। শিক্ষক যদি শিশুর ক্ষমতা ও প্রয়োজন বুঝে সহজ, বাস্তবভিত্তিক, ধাপে ধাপে এবং পুনরাবৃত্তিমূলক শিক্ষণ-পদ্ধতি ব্যবহার করেন, তাহলে এই শিক্ষার্থীরা নিজেদের সম্ভাবনা অনুযায়ী যথেষ্ট অগ্রগতি করতে পারে।

Share:
← Back to all posts