👋 How can I help you?
My Online Test Support
AI assistant. Please do not share passwords, OTPs or payment details.
Class XII›
Bengali ›
Geography ›
Mock Test ›
Class XI›
Class X›
Primary TET›
Upper Primary TET›
Competitive Exams›
Math ›
LIVE Access mock tests, and notes for 300+ exams
✕

শিক্ষণ পদ্ধতিসমূহ (Methods of Teaching) | Child Development and Pedagogy (CDP)

শিক্ষণ পদ্ধতিসমূহ (Methods of Teaching) | Child Development and Pedagogy (CDP)

শিক্ষণ পদ্ধতির ধারণা ও অর্থ (Concept and Meaning of Teaching Method)

শিক্ষণ পদ্ধতি হলো এমন একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া, যার সাহায্যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়বস্তু সহজ ও বোধগম্যভাবে উপস্থাপন করেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

অধ্যাপক Rusk-এর মতে, শিক্ষণ পদ্ধতি হলো বিষয়বস্তু ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সামঞ্জস্য স্থাপন করার প্রক্রিয়া।

সহজ কথায়, শিক্ষার্থীর বয়স, আগ্রহ, মানসিক ক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠদান করার কৌশলকে শিক্ষণ পদ্ধতি বলে।

আদর্শ শিক্ষণ পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য (Characteristics of an Ideal Teaching Method)

একটি আদর্শ শিক্ষণ পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো—

  1. লক্ষ্যভিত্তিক: শিক্ষার নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে সাহায্য করবে।
  2. মনোবিজ্ঞানভিত্তিক: শিক্ষার্থীর বয়স, আগ্রহ, চাহিদা ও মানসিক ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
  3. সক্রিয়তাভিত্তিক: শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।
  4. শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক: শিক্ষার্থীর প্রয়োজন ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেবে।
  5. জীবনকেন্দ্রিক: বাস্তব জীবনের সঙ্গে শিখনের সম্পর্ক থাকবে।
  6. ব্যক্তিগত পার্থক্যভিত্তিক: শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ক্ষমতা ও শিখনের গতির পার্থক্যকে গুরুত্ব দেবে।
  7. আগ্রহ সৃষ্টিকারী: শিক্ষার্থীদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়াবে।
  8. প্রেষণামূলক: শিক্ষার্থীদের শেখার উৎসাহ ও প্রেরণা জোগাবে।
  9. রোগনির্ণায়ক: শিখনের অসুবিধা ও দুর্বলতা চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে।
  10. মূল্যায়নমূলক: শিক্ষার্থীরা কতটা শিখেছে তা যাচাই করার সুযোগ থাকবে।
  11. সমন্বয়মূলক: বিভিন্ন বিষয় ও বাস্তব জীবনের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করতে সাহায্য করবে।

1. বক্তৃতা পদ্ধতি (Lecture Method)

অর্থ ও ধারণা

বক্তৃতা পদ্ধতি হলো এমন একটি শিক্ষণ পদ্ধতি, যেখানে শিক্ষক কথা বলা বা বক্তৃতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করেন।

এই পদ্ধতিতে শিক্ষক প্রধান ভূমিকা পালন করেন এবং শিক্ষার্থীরা সাধারণত শ্রোতার ভূমিকা পালন করে। একে শিক্ষককেন্দ্রিক পদ্ধতি এবং Chalk and Talk Method-ও বলা হয়।

বক্তৃতা পদ্ধতির সুবিধা

  1. এই পদ্ধতি সহজ এবং তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল।
  2. অল্প সময়ে অনেক বিষয় পড়ানো যায়।
  3. বড় শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের জন্য উপযোগী।
  4. শিক্ষক বিষয়বস্তু ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন।
  5. নতুন বিষয়ের প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার জন্য কার্যকর।
  6. শিক্ষার্থীদের কোনো বিষয়ের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা সম্ভব।

বক্তৃতা পদ্ধতির অসুবিধা

  1. এটি মূলত শিক্ষককেন্দ্রিক পদ্ধতি।
  2. শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সীমিত থাকে।
  3. হাতে-কলমে শেখার সুযোগ কম।
  4. শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ, যুক্তি ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ সীমিত হতে পারে।
  5. ব্যক্তিগত পার্থক্য অনুযায়ী পাঠদান করা কঠিন।
  6. দীর্ঘ বক্তৃতায় শিক্ষার্থীরা একঘেয়েমি অনুভব করতে পারে।

পরীক্ষার জন্য মনে রাখবে: Lecture Method = Teacher-centred Method = Chalk and Talk Method।

2. প্রতিপাদন বা প্রদর্শন পদ্ধতি (Demonstration Method)

অর্থ ও ধারণা

প্রতিপাদন বা প্রদর্শন পদ্ধতি হলো এমন একটি শিক্ষণ পদ্ধতি, যেখানে শিক্ষক কোনো বিষয়, ঘটনা, পরীক্ষা বা কার্যপ্রণালি শিক্ষার্থীদের সামনে বাস্তবে করে দেখান।

এই পদ্ধতিতে তাত্ত্বিক জ্ঞানের সঙ্গে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটে। বিজ্ঞান শিক্ষায় এই পদ্ধতি বিশেষভাবে কার্যকর।

প্রতিপাদন পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য

  1. শিক্ষক কোনো কাজ বা পরীক্ষা করে দেখান।
  2. শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে।
  3. চার্ট, মডেল, ছবি ও স্বল্পমূল্যের শিক্ষাসহায়ক উপকরণ ব্যবহার করা যায়।
  4. শিক্ষক কাজের প্রতিটি ধাপ ব্যাখ্যা করেন।
  5. শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করতে এবং ফলাফল যাচাই করতে পারে।
  6. সুযোগ থাকলে শিক্ষার্থীদেরও কাজটি করতে দেওয়া হয়।

প্রতিপাদন পদ্ধতির সুবিধা

  1. তাত্ত্বিক বিষয় সহজে বোঝা যায়।
  2. শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও মনোযোগ বাড়ে।
  3. বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার বিকাশ ঘটে।
  4. বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিখন কার্যকর হয়।
  5. অনেক শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে শেখানো যায়।
  6. বিমূর্ত বিষয়কে বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে বোঝানো যায়।

প্রতিপাদন পদ্ধতির অসুবিধা

  1. পদ্ধতিটি অনেকাংশে শিক্ষকের দক্ষতার উপর নির্ভরশীল।
  2. প্রত্যেক শিক্ষার্থী নিজে কাজ করার সুযোগ নাও পেতে পারে।
  3. বড় শ্রেণিকক্ষে পিছনের শিক্ষার্থীরা প্রদর্শন স্পষ্টভাবে দেখতে নাও পারে।
  4. শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দক্ষতা যাচাই করা কঠিন হতে পারে।
  5. উপযুক্ত উপকরণ ও পরিকাঠামোর অভাব বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

পরীক্ষার জন্য মনে রাখবে: Demonstration Method = করে দেখিয়ে শেখানো = পর্যবেক্ষণ ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন।

3. প্রকল্প পদ্ধতি (Project Method)

অর্থ ও ধারণা

প্রকল্প পদ্ধতি হলো এমন একটি শিক্ষণ পদ্ধতি, যেখানে শিক্ষার্থীরা কোনো বাস্তব সমস্যা বা উদ্দেশ্যপূর্ণ কাজকে পরিকল্পনা ও সম্পাদনের মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে।

‘Project’ শব্দের অর্থ হলো কর্মপরিকল্পনা বা Plan of Action।

এই পদ্ধতির দার্শনিক ভিত্তি জন ডিউই-এর প্রয়োগবাদী দর্শনের সঙ্গে যুক্ত। W. H. Kilpatrick প্রকল্প পদ্ধতিকে সুসংগঠিত রূপ দেন।

Kilpatrick-এর মতে, প্রকল্প হলো উদ্দেশ্যমূলক কার্যকলাপ, যা সাধারণত সামাজিক পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

প্রকল্প পদ্ধতির প্রধান ধাপ

প্রকল্প পদ্ধতির প্রচলিত ধাপগুলি হলো—

1. পরিস্থিতি সৃষ্টি (Creating Situation): শিক্ষার্থীদের সামনে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, যা তাদের কোনো কাজ বা সমস্যা সমাধানে আগ্রহী করে।

2. প্রকল্প নির্বাচন (Choosing the Project): শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আলোচনা করে একটি উপযুক্ত প্রকল্প নির্বাচন করে।

3. পরিকল্পনা (Planning the Project): কীভাবে, কখন এবং কোন উপকরণ ব্যবহার করে কাজটি সম্পন্ন হবে তা নির্ধারণ করা হয়।

4. প্রকল্প সম্পাদন (Execution of the Project): পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা কাজটি সম্পন্ন করে। শিক্ষক প্রয়োজন অনুযায়ী সাহায্য করেন।

5. মূল্যায়ন (Evaluation of the Project): কাজের ফলাফল, অর্জিত জ্ঞান এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হয়েছে তা যাচাই করা হয়।

প্রকল্প পদ্ধতির সুবিধা

  1. শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
  2. আত্মনির্ভরতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
  3. দলগত কাজ ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে।
  4. বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন হয়।
  5. সমস্যা সমাধান ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটে।
  6. কাজের মাধ্যমে শিক্ষা বা Learning by Doing-কে উৎসাহিত করে।
  7. অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে সাহায্য করে।

প্রকল্প পদ্ধতির অসুবিধা

  1. এটি সময়সাপেক্ষ।
  2. সব বিষয় বা পাঠ্যক্রমের জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়।
  3. উপকরণ ও অর্থের প্রয়োজন হতে পারে।
  4. সব শিক্ষার্থী সমানভাবে অংশগ্রহণ না করলে শিখনের সুযোগে পার্থক্য তৈরি হয়।
  5. পাঠ্যবিষয় ধারাবাহিকভাবে শেষ করা কঠিন হতে পারে।
  6. সঠিক পরিকল্পনা ও শিক্ষকের নির্দেশনা প্রয়োজন।

পরীক্ষার জন্য মনে রাখবে: Project Method = John Dewey-এর দর্শন + Kilpatrick-এর অবদান + Purposeful Activity + Learning by Doing।

4. সমস্যাসমাধান পদ্ধতি (Problem-Solving Method)

অর্থ ও ধারণা

সমস্যাসমাধান পদ্ধতি হলো এমন একটি শিক্ষণ পদ্ধতি, যেখানে শিক্ষার্থীরা কোনো সমস্যাকে শনাক্ত, বিশ্লেষণ ও সমাধান করার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে।

এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের যুক্তি, চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার বিকাশ ঘটে। শিক্ষক সরাসরি উত্তর বলে না দিয়ে শিক্ষার্থীদের সমাধানের পথ খুঁজতে সাহায্য করেন।

সমস্যাসমাধান পদ্ধতির ধাপ

1. সমস্যা শনাক্তকরণ: প্রথমে সমস্যাটি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়।

2. সমস্যা বিশ্লেষণ: সমস্যার মধ্যে কী তথ্য দেওয়া আছে এবং কী জানতে হবে তা বিশ্লেষণ করা হয়।

3. তথ্য সংগ্রহ ও সাজানো: প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সঠিকভাবে সাজানো হয়।

4. সম্ভাব্য সমাধান নির্ধারণ: যুক্তি ও পূর্বজ্ঞান ব্যবহার করে সম্ভাব্য সমাধান তৈরি করা হয়।

5. সমাধান যাচাই: প্রাপ্ত সমাধান পরীক্ষা করে দেখা হয় সেটি সঠিক কি না।

6. সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োগ: সঠিক সমাধান গ্রহণ করে প্রয়োজনে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা হয়।

সমস্যাসমাধান পদ্ধতির সুবিধা

  1. যুক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতার বিকাশ ঘটে।
  2. সৃজনশীল ও স্বাধীন চিন্তার অভ্যাস তৈরি হয়।
  3. শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
  4. বাস্তব সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা গড়ে ওঠে।
  5. সমালোচনামূলক চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ে।
  6. শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে শিখতে পারে।
  7. দলগতভাবে কাজ করার প্রবণতা বাড়ে।

সমস্যাসমাধান পদ্ধতির অসুবিধা

  1. এটি সময়সাপেক্ষ।
  2. সব বিষয় বা সমস্যার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা যায় না।
  3. শিক্ষার্থীদের পূর্বজ্ঞান ও চিন্তাশক্তির প্রয়োজন হয়।
  4. সম্পূর্ণ পাঠ্যক্রম নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা কঠিন হতে পারে।
  5. শিক্ষকের উপযুক্ত নির্দেশনা প্রয়োজন।

পরীক্ষার জন্য মনে রাখবে: Problem-Solving Method = সমস্যা চিহ্নিতকরণ + বিশ্লেষণ + সম্ভাব্য সমাধান + যাচাই।

5. আবিষ্কার পদ্ধতি (Heuristic Method)

অর্থ ও ধারণা

‘Heuristic’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Heurisko’ থেকে এসেছে, যার অর্থ আবিষ্কার করা বা খুঁজে পাওয়া।

শিক্ষাবিদ H. E. Armstrong 1899 সালে আবিষ্কার পদ্ধতির প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা নিজেরা পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা, অনুসন্ধান ও যুক্তির সাহায্যে কোনো বিষয় আবিষ্কার করার চেষ্টা করে। শিক্ষক সরাসরি উত্তর বলে দেন না; বরং শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধানে সাহায্য করেন।

আবিষ্কার পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য

  1. শিক্ষার্থী সক্রিয় অনুসন্ধানকারীর ভূমিকা পালন করে।
  2. পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষানিরীক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
  3. শিক্ষার্থীরা নিজেরা তথ্য সংগ্রহ করে।
  4. যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
  5. স্বাধীন চিন্তা ও আত্মনির্ভরতা গড়ে ওঠে।

আবিষ্কার পদ্ধতির সুবিধা

  1. বৈজ্ঞানিক মনোভাব গড়ে ওঠে।
  2. সৃজনশীলতা ও যুক্তিবোধের বিকাশ ঘটে।
  3. আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরতা বাড়ে।
  4. পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে শিখন তুলনামূলকভাবে স্থায়ী হতে পারে।
  5. পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা বাড়ে।
  6. শিক্ষার্থীরা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞান অর্জন করে।

আবিষ্কার পদ্ধতির অসুবিধা

  1. এই পদ্ধতিতে বেশি সময় লাগে।
  2. সব শিক্ষার্থীর জন্য একইভাবে উপযোগী নয়।
  3. উপযুক্ত শিক্ষকের নির্দেশনা প্রয়োজন।
  4. প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরিকাঠামোর অভাব সমস্যা সৃষ্টি করে।
  5. জটিল বিষয় আবিষ্কারের জন্য যথেষ্ট পূর্বজ্ঞান প্রয়োজন হতে পারে।
  6. সঠিক সহায়তা না পেলে শিক্ষার্থীরা হতাশ হতে পারে।

পরীক্ষার জন্য মনে রাখবে: Heuristic Method = Discovery + Observation + Experimentation + Independent Thinking।

6. আলোচনা পদ্ধতি (Discussion Method)

অর্থ ও ধারণা

আলোচনা পদ্ধতি হলো এমন একটি শিক্ষণ পদ্ধতি, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে মতামত, যুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করে জ্ঞান অর্জন করে।

এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মত প্রকাশ, যুক্তি উপস্থাপন এবং অন্যের মতামত শোনার সুযোগ থাকে।

আলোচনার বিভিন্ন প্রকার

  1. অনানুষ্ঠানিক দলগত আলোচনা (Informal Group Discussion)
  2. আনুষ্ঠানিক দলগত আলোচনা (Formal Group Discussion)
  3. প্যানেল আলোচনা (Panel Discussion)
  4. সিম্পোসিয়াম (Symposium)
  5. বিতর্ক (Debate)
  6. সেমিনার (Seminar)
  7. ভূমিকাভিনয় (Role Playing)

আলোচনা পদ্ধতির সুবিধা

  1. শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।
  2. স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষমতা বাড়ে।
  3. যুক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতার বিকাশ ঘটে।
  4. ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ে।
  5. সহযোগিতা, সহনশীলতা ও সহানুভূতির বিকাশ ঘটে।
  6. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে।
  7. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হয়।

আলোচনা পদ্ধতির অসুবিধা

  1. বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়।
  2. বড় শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
  3. কিছু শিক্ষার্থী বেশি কথা বলায় অন্যরা সুযোগ কম পেতে পারে।
  4. অনিয়ন্ত্রিত আলোচনা মূল বিষয় থেকে সরে যেতে পারে।
  5. লাজুক শিক্ষার্থীরা মত প্রকাশে দ্বিধা বোধ করতে পারে।
  6. সফল আলোচনার জন্য দক্ষ পরিচালকের প্রয়োজন হয়।

পরীক্ষার জন্য মনে রাখবে: Discussion Method = মতবিনিময় + যুক্তি + সহযোগিতা + গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।


বিভিন্ন শিক্ষণ পদ্ধতির তুলনামূলক আলোচনা
শিক্ষণ পদ্ধতি প্রধান বৈশিষ্ট্য শিখনে শিক্ষার্থীর ভূমিকা
Lecture Method বক্তৃতার মাধ্যমে পাঠদান প্রধানত শ্রোতা
Demonstration Method করে দেখিয়ে শেখানো পর্যবেক্ষক ও প্রয়োজনে অংশগ্রহণকারী
Project Method উদ্দেশ্যমূলক প্রকল্প সম্পাদন সক্রিয় কর্মী
Problem-Solving Method সমস্যা বিশ্লেষণ ও সমাধান সমস্যা সমাধানকারী
Heuristic Method অনুসন্ধান ও আবিষ্কার আবিষ্কারক ও অনুসন্ধানকারী
Discussion Method মতামত ও যুক্তির বিনিময় আলোচনাকারী
TET ও CTET পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
  • শিক্ষণ পদ্ধতি বিষয়বস্তু ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
  • Rusk শিক্ষণ পদ্ধতিকে বিষয়বস্তু ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সামঞ্জস্যবিধানের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
  • Lecture Method একটি শিক্ষককেন্দ্রিক পদ্ধতি।
  • Chalk and Talk হলো বক্তৃতা পদ্ধতির প্রচলিত নাম।
  • Demonstration Method-এ শিক্ষক করে দেখিয়ে শেখান।
  • Project Method-এর সঙ্গে John Dewey-এর প্রয়োগবাদী দর্শন যুক্ত।
  • W. H. Kilpatrick প্রকল্প পদ্ধতিকে সুসংগঠিত রূপ দেন।
  • Project Method-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো উদ্দেশ্যমূলক কার্যকলাপ।
  • Problem-Solving Method যুক্তি, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ায়।
  • Heuristic Method-এর অর্থ আবিষ্কার বা অনুসন্ধান।
  • H. E. Armstrong আবিষ্কার পদ্ধতির বিকাশ ও প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
  • Discussion Method স্বাধীন মত প্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশে সাহায্য করে।
  • আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক, সক্রিয়তাভিত্তিক ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উপসংহার

শিক্ষণ পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, চিন্তাশক্তি ও ব্যক্তিত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সব পদ্ধতি সব পরিস্থিতিতে সমান কার্যকর নয়। তাই শিক্ষকের উচিত পাঠের উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু, শিক্ষার্থীর বয়স, আগ্রহ, পূর্বজ্ঞান ও ব্যক্তিগত পার্থক্য বিবেচনা করে উপযুক্ত শিক্ষণ পদ্ধতি নির্বাচন করা।

Share:
← Back to all posts